শনিবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২০
অর্থকড়ি
মহেশপুরে ১৩৫ হেক্টরে ফুল চাষ
ভালোবাসা ও মাতৃভাষা দিবসে বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১০ কোটি টাকা
আব্দুর রহমান, মহেশপুর (ঝিনাইদহ) :
Published : Thursday, 13 February, 2020 at 6:49 AM
ভালোবাসা ও মাতৃভাষা দিবসে বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১০ কোটি টাকা শস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা এখন ফুলের ভান্ডারে পরিণত। ফুল চাষিরা ভালোবাসা ও মাতৃভাষা দিবসে ১০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এলাকাবাসী ও মহেশপুর কৃষি অফিস সূত্রে প্রকাশ, এ বছর এ উপজেলায় ১৩৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ হয়েছে। এরমধ্যে জারবেরা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, গোলাপ, চন্দ্রমল্লিকা ও গাঁদা ফুল উল্লেখযোগ্য। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবারই বেশী পরিমান ফুল চাষ হয়েছে। এক সময় শস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত ছিলো মহেশপুর। ধান ও গম ছাড়া তেমন কোন ফসল উৎপাদন হতো না তখন উৎপাদনের ৭০ভাগ শস্য দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করা হতো। বর্তমানে কলা, বিভিন্ন জাতের সবজি, পেয়ারা, পেয়াজ-রসুন, কমলা ও মাল্টা লেবু চাষ হচ্ছে। এছাড়াও উল্লেখযোগ্য হারে ফুল চাষ শুরু হয়েছে। এ উপজেলায় মোট জমির পরিমাণ ৪৯২১০.২০ হেক্টর, নীট ফসলী জমি রয়েছে ৪০৪৮০ হেক্টর। এরমধ্যে ফুল চাষ হয়েছে ১৩৫ হেক্টর জমিতে। গত বছর ছিল ১শ হেক্টরের নিচে।
উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শামীম হোসেন জানান, ফুলের চাহিদা ও দাম বেশী পাওয়ায় চাষিরা ফুল চাষে ঝুকে পড়েছে। বর্তমানে জারবেরা ফুল ১০-১৫ টাকা, গ্লাডিওলাস ৮-১৮ টাকা, গোলাপ ২-১০ টাকা, চন্দ্রমল্লিকা ১-৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষি অফিসার আরো জানান, এক বিঘা জমিতে ৫০ হাজার থেকে ১লক্ষ টাকার ফুল বিক্রি করতে পারছে চাষিরা। বর্তমানে মহেশপুরের ফুল ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানি হয়ে থাকে। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ফুল ক্রয় করার জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে মহেশপুর চাষিদের সাথে যোগাযোগ করেছে পাইকারি ক্রেতারা। ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানি করা হবে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ফুল বিক্রি করা হচ্ছে। এরমধ্যে জারবেরা, গোলাপ ও রজনীগন্ধার চাহিদা লক্ষনীয়। গাঁদা ফুলের ঝোকা/মালা তৈরি করে পরিবহনযোগে বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হচ্ছে। ঝোকা বা মালা তৈরি কাজে গ্রামের মহিলারা কাজ করছে।  
উপজেলার বড় ফুল চাষি হুদা শ্রীরামপুর গ্রামের মনুর উদ্দিনের ছেলে রবিউল জানায়, সে ৩ বিঘা জারবেরা, ৫ বিঘা গ্লাডিওলাস ও ২ বিঘা রজনীগন্ধা চাষ করেছে। সে ২ বছর আগে ভারতের পুনে থেকে ২০ হাজার চারা এনে লাগায়। তার ক্ষেত থেকে প্রতিদিন ৫/৭ হাজার ফুল ঢাকার আগারগাঁও মার্কেটে পাঠানো হয় সেখান থেকে খরচ বাদে প্রতি পিস ১০ টাকা হারে দাম পাচ্ছে। এই চাষে তার ৩২ লক্ষ টাকা খরচ হয় যা ইতিমধ্যে ফেরত এসেছে। সে আরো জানায়, ৩ বিঘা জারবেরা ফুল কমপক্ষে ১৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি হবে। বোয়ালিয়া গ্রামের ফুল চাষি হারুন জানায়, সে ২বিঘা জমিতে গাঁদা ফুল চাষ করেছে। এখান থেকে সে ভালো লাভবান হবে বলে আশা করছেন। শ্রীরামপুর মাঠে জারবেরা ফুলের ক্ষেত দেখার জন্য দর্শনাথীদের ভিড় বাড়ছে। শ্যামকুড় ইউনিয়নের চাপাতলা গ্রামের ফুল চাষি নাজমুল ইসলাম জানান, তারা বিগত কয়েক বছর ধরে ফুল চাষ করে আসছে। এই চাষে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলার অর্ধেকের বেশী পরিমান ফুল চাষ হয়েছে এ উপজেলায়। এবার দাম বেশী পেলে আগামী বছর আরো ফুল চাষ বাড়বে বলে মহেশপুর কৃষি অফিস জানিয়েছে। উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার মধ্যে প্রায় সব জায়গায়তে ফুল চাষ হয়েছে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft