মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
ধলগা-শালিখা সড়কের বেহাল দশায় ভোগান্তিতে এলাকাবাসী
ফরিদুজ্জামান, খাজুরা (যশোর) :
Published : Friday, 14 February, 2020 at 6:23 AM
ধলগা-শালিখা সড়কের বেহাল দশায় ভোগান্তিতে এলাকাবাসীযশোরের বাঘারপাড়ার ধলগা-শালিখা সড়কের বেহাল দশা। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সড়কের অধিকাংশ স্থান খানাখন্দে ভরে গেছে। কার্পেটিং (পিচের আস্তরণ) উঠে সড়কের প্রায় সবখানেই ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রতিনিয়তই স্কুলের শিক্ষার্থী, যানবাহন চালক, পথচারীসহ সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটিতে যশোরের বাঘারপাড়া ও মাগুরার শালিখা উপজেলার অন্তত ১৮টি গ্রামের ২৫ হাজার মানুষের আড়পাড়া, আগড়া, ধলগা, বালিয়াডাঙ্গা, বহরমপুর বাজারসহ যশোর, নড়াইল, খুলনা ও ঢাকার সঙ্গে চলাচল। স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিইডি) অর্থায়নে গত সাত বছর আগে সড়কটি নির্মাণ করা হয়। তবে গত তিন বছর যাবৎ সড়কটি সংস্কার না করায় কার্পেটিং উঠে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। প্রতিদিন শ’শ’ চাকরিজীবী, হাজারো শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে এ সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। এছাড়া কৃষিজ পণ্য সামগ্রী হাটবাজারে নিতে কৃষকদের ভোগান্তির যেন অন্ত নেই।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্নস্থানে কার্পেটিং উঠে ইটের খোয়া বের হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বড়বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে এর মধ্যে দিয়ে যানবাহনগুলো হেলেদুলে চলছে। সড়কের দু’পাশের পাড় ভেঙ্গে সড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে।
বহরমপুরের মতিয়ার রহমান, আগড়ার সৈয়দ মোল্যাসহ বেশ কয়েকজন কৃষক বলেন, তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য পার্শ্ববর্তী হাটবাজারে নিতে হয়। কিন্তু এই ভাঙাচোরা সড়কের কারণে ভ্যানচালকেরা যেতে চান না। গেলেও এ জন্য অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে তাদের।
সিএনজি চালক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ভাঙাচোরা সড়কে ঠিকভাবে গাড়ি চালানো যায় না। যাত্রীরা আরামে বসতে পারে না। গাড়িরও ক্ষতি হয়। তবুও বাধ্য হয়ে পেটের দায়ে এ সড়কেই গাড়ি চালাতে হচ্ছে। বাসে চলাচলকারী নওয়াপাড়ার আকিজ জুট মিলের প্রায় ৪০জন শ্রমিকের সাথে এ প্রতিবেদকের বহরমপুর বাজার এলাকায় কথা হয়। তারা জানান, তাদের কাজ করে যে কষ্ট না হয় তার চেয়ে বেশি কষ্ট হয় প্রতিদিন এ সড়কে চলাচল করে। দিন শেষে তারা বাড়ি গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
সড়কে চলাচলকারী শিক্ষার্থীরা জানায়, ভাঙাচোরা সড়কে চলতে তাদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যানবাহন বা ভ্যানে চলাচল করলে অনেক কষ্ট হয়। সময়ও বেশি লাগে। ক্লাসে সময়মত উপস্থিত হওয়া যায় না।
এ ব্যাপারে কথা হলে ধলগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান সুভাষ অভিরাম দেবনাথ বলেন, ‘সবার মতো আমাকেও এ সড়কে চলাচল করতে হয়। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে আমি প্রতিনিয়ত স্থানীয় এমপির কাছে ও এলজিইডি অফিসে ছুটেছি। ইতোমধ্যে সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়ে এসেছে। দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হবে।
বাঘারপাড়া এলজিইডির প্রকৌশলী আবু সুফিয়ান জানান, রুরাল কানেকটিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের (আরসিআইপি) আওতায় ১৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এ সড়কটি সংস্কারের জন্য অনুমোদন হয়েছে। চলতি মাসেই টেন্ডার হবে। বর্তমানের ১২ ফিটের সড়কটি ১৮ ফিট করা হবে। এ কাজে প্রায় ২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। আগামী এপ্রিলে রাস্তার কাজ শুরু হবে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft