বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
‘মধুর বসন্ত এসেছে মধুর মিলন ঘটাতে’
আজ বসন্ত
কাগজ সংবাদ :
Published : Friday, 14 February, 2020 at 6:23 AM

আজ বসন্ত‘বসন্ত মুখর আজি, দক্ষিণ সমীরণে মর্মর গুঞ্জনে বনে বনে বিহ্বল বাণী ওঠে বাজি।’ ষড়ঋতুর পরিক্রমায় প্রকৃতিতে এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। প্রকৃতি খুলেছে তার দখিন দুয়ার। কোকিলের মধুর কুহু ডাক, রঙিন ফুলের আগুনরাঙা রূপ মনে দোলা দিয়ে যায়। গাছে গাছে ছড়িয়ে রয়েছে আমের মুকুল। অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠেছে শিমুল,পলাশ,গাঁদা,ডালিয়া,কৃষ্ণচূড়া,রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গমসহ কতশত ফুল। চোখের সীমানায় শুধু লাল হলুদের ছড়াছড়ি। আবহমান কাল থেকে বাঙালির প্রেমের ঋতুটি তার পরিপূর্ণ যৌবন নিয়ে আসে বসন্তে। আজ পহেলা ফাল্গুন। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। আজ একই সাথে ভালোবাসা দিবস, হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন। দু’টি দিন একসাথে হওয়ায় এবার যেন পেয়েছে পূর্ণতা। ফুল ফোটার জন্যে বসন্ত যেমন অপেক্ষা করে না,নিজেকে উন্মোচনের জন্যে ফুলই বসন্তের জন্যে অপেক্ষা করে। ঠিক তেমনি তৃষিত প্রেমিকহৃদয় যেন বছরের এই ক্ষণটির জন্যে প্রতীক্ষার প্রহর গোনে।
পঞ্জিকা অনুযায়ী ফাল্গুন এবং চৈত্র হচ্ছে বসন্তকাল। শীতের রিক্ততায় গাছের পাতা ঝরা শেষে গাছে গাছে নতুনের সমারোহ। বসন্ত বাতাসে পল্লবিত বৃক্ষরাজির মতোই প্রেমিক হৃদয়েও বাজে নবজাগরণের সুর। জানান দেয় আসছি আমরাও। প্রকৃতির  রংয়ের সাথে মৌন প্রতিযোগিতায় নামা তরুণ-তরুণীর বসন্তের প্রথম দিনে লাল-সাদা-হলুদ পোশাকে অনন্যরূপে দেখা যায়। প্রাণোচ্ছ্বল তরুণ প্রেমিক প্রবল ভালোবাসায় প্রেমিকার খোঁপায় গেঁথে দেয় সুরভিময় সতেজ ফুল। বসন্তে চুলের খোঁপায় ফুল-এমন দৃশ্য চিরাচরিত। এখন খোঁপায় ফুলের সাথে প্রতিযোগিতা চলে মাথায় দেয়া ফুলের বন্ধনীর। লাল-সাদা-হলুদ শাড়ির সাথে সম রংয়ের পাঞ্জাবি বসন্তে আনে ভিন্নধারা। তরুণদের পাশাপাশি শিশু কিংবা বয়োবৃদ্ধদের মনের সাথে বসনেও পরিলক্ষিত হয় বসন্তের ছোঁয়া। কবির ভাষায়-‘মধুর বসন্ত এসেছে মধুর মিলন ঘটাতে। মধুর মলয়-সমীরে মধুর মিলন রটাতে।’
মোঘল স¤্রাট আকবর বাংলা নববর্ষ গণনা শুরু করেন। নতুন বছরকে ঘিরে ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেন তিনি। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে বসন্ত উৎসব। বঙ্গাব্দ ১৪০১ সাল থেকে প্রথম ‘বসন্ত উৎসব’ উদযাপন করার রীতি চালু হয়। সেই থেকে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ বসন্ত উৎসব আয়োজন করে আসছে। ফুল আর সংস্কৃতির শহর যশোরেও বসন্তে থাকে নানা আয়োজন। ফুলের রাজধানী গদখালিসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার ফুল চাষিরা অপেক্ষায় থাকেন বসন্তের। ফুলের চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে বেড়ে যায় দামও। অন্য সময় যে দামে এক গুচ্ছ গোলাপ কেনা যায় এ দিনে সে দামে বিকোয় একটি। তবে, প্রেমিকের কাছে প্রেয়সীর জন্যে একটি গোলাপের কাছে দাম অতি তুচ্ছ। এই আবেগী সিদ্ধান্তেই ভরে ওঠে ফুল চাষির স্বপ্নগোলা। যশোরের পৌরপার্ক, টাউনহল মাঠ, কালেক্টরেট পার্কসহ বিভিন্ন বিনোদন স্পটে থাকে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলির নান্দনিক পরিবেশনা। তবে, কারো কারো কাছে অনুষ্ঠান দেখা ছিল উপলক্ষ মাত্র। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্যে বাহারি পোশাক এবং ফুলে সজ্জিত তরুণ তরুণীরা পার্ক আর নির্জনতায় খুলতে চায় হৃদয়ের আগল। না বলা কথা বলার উপলক্ষ যেন এ বসন্ত।  ভোজন রসিকদের সাথে অন্যদেরও এদিন ভিড় জমে বাহারি খাবার দাবারের প্রতিষ্ঠানে। খাওয়ার চাইতে যেখানে অনেকের কথা বলা আর প্রিয়জনের সঙ্গই উপভোগ্য।
বাঙালির জীবনে বসন্তের উপস্থিতি সেই অনাদিকাল থেকেই। সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শনেও বসন্ত ঠাঁই করে নিয়েছে স্বমহিমায়। গ্রামের সাথে শহুরে বসন্তেও যেন সেই আত্মীয়তা থাকে। কানে কানে বলে যায়, ‘আজ ভুলিয়ো আপন পর ভুলিয়ো। তব অবগুণ্ঠিত কুণ্ঠিত জীবনে কোরো না বিড়ম্বিত তারে, আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে।’ ফাল্গুনের চমৎকার চিত্র বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ফাল্গুন কবিতায় এঁকেছেন এভাবে- ‘এ ফাল্গুন, এ বসন্ত সবার মনে সুখের ঢেউ তুলুক। আনন্দের রেশ থাকুক সারা বছর। এই হোক আমাদের সবার প্রত্যাশা।’



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft