শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
নেচে গেয়ে বসন্তকে বরণ করলো উদীচী শেকড় ও ভৈরব
কাগজ সংবাদ :
Published : Friday, 14 February, 2020 at 6:23 AM
নেচে গেয়ে বসন্তকে বরণ করলো উদীচী শেকড় ও ভৈরবমাঘের শেষ সূর্যাস্তের পরই আসে ফাল্গুনের নতুন সুর্যোদয়। প্রাণে প্রাণে বসন্ত প্রাপ্তির আনন্দের সুরের সাথে একটু হলেও বাজে শীতের বিলাপ সুর। হারানোর বিলাপ আর প্রাপ্তির আনন্দের সাথে শীতের বিদায় আর বসন্তের আগমনী উৎসবে বৃহস্পতিবার মাতোয়ারা ছিল যশোরবাসী। মাঘ সংক্রান্তিতে বসন্তবরণ উৎসব করেছে উদীচী, শেকড় ও ভৈরব যশোর। বর্ণিল সাজে নৃত্য গানের সমারোহে মাঘের শেষ সূর্যকে বিদায় দিয়ে বসন্ত আবাহনে মাতে সংগঠনের বন্ধুরা। যদিও বৃহস্পতিবার ছিল শীতের শেষ দিন; তবে এ দিনেই বাসন্তী সাজে পহেলা বসন্ত উৎযাপন করেছেন অনেকে। এ দিন সূর্যোদয়ের সাথে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকলের মধ্যেই ছিল বিশেষ আনন্দের সমারোহ।
উদীচী যশোর : ‘পলাশ রাঙা ফাগুন ডাকে আয় ছুটে সকলে।’ এ মনোকামনায় এবার বসন্ত আহ্বানে উৎসব উদযাপন করে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ যশোর। ইটকাঠের ব্যস্ত জীবনে ক্ষণিকের জন্যে হলেও সকলের মনে দোলা দিতে সমবেত কণ্ঠে ‘মধুর বসন্ত আগমনে’ গানের সাথে নাচের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। প্রকৃতির চিরাচরিত প্রস্থান রীতিকে মেনে নিয়ে শীতের জীর্ণ পাতার প্রস্থান শেষে নব পল্লবের আশায় উদীচীর এবারের উৎসবে প্রকৃতির গর্ভে হারিয়ে যাওয়া সহযাত্রীদেরও স্মরণ করা হয়।নেচে গেয়ে বসন্তকে বরণ করলো উদীচী শেকড় ও ভৈরব বিকেল চারটার পর পৌর উদ্যানে বসে উদীচীর উৎসব। দু’ দশকেরও বেশি সময় ধরে বর্ণিল এ উৎসব আয়োজন করছে সংগঠনটি। প্রতিবারের মতো এবারো তাদের অনুষ্ঠানের ডালি ভর্তি ছিল নৃত্য, কবিতা আর গানের সমন্বয়ে। প্রকৃতি, মানব আর আত্মপ্রেমের নবজাগরণে সকল নির্জিবতা, না পাওয়াকে পিছনে ফেলে নব উদ্যোমে অনুষ্ঠানে মাতে সকলে। শিশু এবং বড়দের সমবেত পরিবেশনার পাশাপাশি একক পরিবেশনায় ছাপ ছিল প্রবল। নাহার, কানিজ, বৈশাখী, মিতা, নন্দিতা, শুভ, শেখর, লাবন্যের একক গানের পাশাপাশি শাহেদ নওয়াজের আবৃত্তির ছন্দমালা মুগ্ধতা ছড়ায়। কম ছিল না সমবেত পরিবেশনার আবেদনও।
নেচে গেয়ে বসন্তকে বরণ করলো উদীচী শেকড় ও ভৈরবঅনুষ্ঠানের শেষার্ধে অগ্রিম বাসন্তী শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুবুর ররহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান খান বিপ্লব ও সহসভাপতি শেখর নাথ।  
শেকড় : টাউনহল মাঠের রওশন আলী মঞ্চে অনুষ্ঠান আয়োজন করে শেকড়। শীত ছেড়ে বসন্তের আমেজে মেয়েরা বাসন্তী রঙের শাড়ি কেউ কেউ সালোয়ার কামিজের সঙ্গে হাতে খোঁপায় হলুদ গাদা ফুলসহ বাহারি ফুলে নিজেদের সাজিয়ে আসেন অনুষ্ঠান স্থলে। ছেলেদের পোশাকেও ছিল বসন্তের ছোঁয়া। রওশন আরা রাসুর সার্বিক নির্দেশনা ও সঞ্চালনায় আগমনী উৎসব হয়ে ওঠে অনন্য। আয়োজনের অনেকাংশ জুড়ে ছিল নৃত্যের সমাহার। নূপুরের তালে তালে শীতের শেষ বিকেলের আলো বসন্তের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষণ টাউনহলে উপস্থিত দর্শক শ্রোতা মুগ্ধতার সাথে উপভোগ করেন। তবে, শীতের বিদায় ও ফাল্গুনের আবাহনে সংগঠনের সকল আয়োজনকে ছাপিয়ে যায় আমন্ত্রিত দম্পতিদের নিয়ে ব্যতিক্রমী উপস্থাপনায়। বাঙালির কাছে বসন্তই হলো ভালোবাসা দিবস। সাংসারিক টানাপড়েন, অভাব, অভিযোগ, মান অভিমানকে ছাপিয়ে বাঙালি দম্পতি তাদের ভালোবাসার শক্তিতে আমৃত্যু একসাথে থাকেন। সেই বন্ধনের অন্তর্নিহিত শক্তিকে শ্রদ্ধা করে শেকড় শহরের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের ২১ দম্পতিকে হাজির করে অনুষ্ঠান মঞ্চে। ভালোবেসে ভালোবাসাকে বেধে রাখার জন্যে যে দম্পতিরা পরস্পরকে পরস্পরের সাথে মধুর বন্ধনে আবদ্ধ রাখার প্রতিশ্রুতিতে মালা বিনিময় করে। শেকড়ের নেচে গেয়ে বসন্তকে বরণ করলো উদীচী শেকড় ও ভৈরবসভাপতি অ্যাঞ্জেলা গোমেজ দম্পতিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।   
ভৈরব সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন : পৌরপার্কে উদীচীর অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় বসন্তবরণ অনুষ্ঠান করে নেচে গেয়ে বসন্তকে বরণ করলো উদীচী শেকড় ও ভৈরবভৈরব সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন। পৌরসভার সার্বিক সহযোগিতায় এ উৎসবের আয়োজন হয়। সংগঠনের সভাপতি সায়েদা বানু শিল্পীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন মেয়র পতœী শামীমা শারমিন ¯িœগ্ধা। বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌরমেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু। বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষের সমাগমে অনুষ্ঠান চলে রাত পর্যন্ত । একক ও সমবেত সঙ্গীত, নৃত্য এবং আবৃত্তির সমন্বয়ে সাজানো হয় সমগ্র অনুষ্ঠান। তবে, বসন্তকে ঘিরে প্রচলিত নানা গানের সমন্বয়ে সাজানো ফিউশন ধর্মী নৃত্য ছিল ভৈরবের এবারের বসন্ত উৎসবের মূল আকর্ষণ। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft