বুধবার, ০৫ আগস্ট, ২০২০
আন্তর্জাতিক সংবাদ
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘যত গর্জে তত বর্ষে না’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
Published : Saturday, 22 February, 2020 at 7:47 PM
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘যত গর্জে তত বর্ষে না’ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোমের ‘নাম-ডাক’ বিশ্বজুড়ে। অনেক দেশের সামরিক বাহিনী এটিকে নিজেদের আদর্শ হিসেবেও মনে করে। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রও ইসরায়েল থেকে এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনতে চেয়েছিল।
এই যে ইসরায়েলের আয়রন ডোম নিয়ে এত উদ্দীপনা সেটা কী বাস্তবসম্মত? অর্থাৎ, আয়রন ডোম কী সত্যিই খুব কার্যকর নাকি ‘নাম-ডাকেই’ সীমাবদ্ধ? পশ্চিমা বিশ্লেষকরা এটির উত্তর দিয়েছেন কিছুটা ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে।
আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হলো কোনো দেশকে সুরক্ষিত রাখার জন্য নির্ভরযোগ্য একটি ব্যবস্থা। বাইরে থেকে কেউ হামলা চালালে এই ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই হামলা ধ্বংস করে দেয়। এতে সংশ্লিষ্ট দেশ ঝুঁকিমুক্ত থাকে। মূলত কেউ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে ওই ক্ষেপণাস্ত্রকে ভূমি স্পর্শ করার আগে অন্য একটি ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে আকাশেই ধ্বংস করে ফেলার প্রযুক্তিটির নাম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
মার্কিন ম্যাগাজিন দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্টের এক নিবন্ধে বলা হয়, ২০১৯ সালের এপ্রিলে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ৬৯০টি রকেট ও মর্টার শেল ছোড়ে হামাস। এর মধ্যে ত্রুটির কারণে ৯০টি রকেট ও মর্টার শেল ইসরায়েল পর্যন্ত আসেনি, ২৪০টি ধ্বংস করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম, ৩৫টি জনবসতির মধ্যে পড়েছে এবং বাকিগুলো পড়েছে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ফাঁকা জায়গায়।
ইসরায়েল দাবি করছে, যে রকেট ও মর্টার শেলগুলো আয়রন ডোম ধ্বংস করেছে সেগুলোর হার মোটের ওপর ৮৬ শতাংশ। অর্থাৎ, শত্রুদের ছোড়া ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ৮৬টি ধ্বংস করতে পেরেছে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। কিন্তু প্রকৃত হিসাবে তাদের দাবি করা ৮৬ শতাংশ একেবারেই সমর্থনযোগ্য নয়। অবশ্য এক্ষেত্রে ইসরায়েল একটি যুক্তি দাঁড় করিয়েছে। তারা বলছে- যেসব রকেট ও মর্টার শেল জনবসতি এলাকায় আঘাত হানার সম্ভাবনা ছিল শুধু সেগুলোকে ধ্বংসের ক্ষেত্রে এই হার দেখানো হয়েছে।
নিজেদের পক্ষে সাফাই গাওয়া ইসরায়েলের এই যুক্তি মানতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির এমেরিটাস অধ্যাপক টেড পোস্টল। তিনি বলেন, আমি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোমের কার্যক্রম দেখেছি। এটি মোটেও ভালো কাজ করে না। ক্ষেপণাস্ত্রকে ধ্বংস করার পরিবর্তে ক্ষেপণাস্ত্রের চারপাশে ঘুরতে শুরু করে আয়রন ডোম থেকে নিক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো। এর মানে হলো, আক্রমণাত্মক কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বস্ত করতে খুব একটা সক্ষম নয় আয়রন ডোম।
৮৬ শতাংশ রকেট ও মর্টার শেল ধ্বংসের যে দাবি ইসরায়েল করে সেটিকেও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। এ সম্পর্কে টেড পোস্টল বলেন, কোনোভাবেই এটি ৮৬ শতাংশ হবে না। সর্বোচ্চ ৫ থেকে ১০ শতাংশ হতে পারে। এটি লোহার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নয়, এটি লোহার খাঁচা। যেখানে এসে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র বাসা বাঁধতে পারবে।
শুধু টেড পোস্টল নয়, পশ্চিমা আরও অনেক বিশ্লেষক ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোমের তীব্র সমালোচনা করে থাকেন। তাদেরও বক্তব্য পোস্টলের মতোই। পশ্চিমা এই অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের সমালোচনার কারণেই শেষ পর্যন্ত আয়রন ডোম কেনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে মার্কিন প্রশাসন।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft