শনিবার, ৩০ মে, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
চৌগাছায় ৫৯ বস্তা চাল জব্দ : তদন্ত কমিটি গঠন
সরকারি চাল কালোবাজের নেয়ার সময় হাতেনাতে ধরা
স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর)
Published : Sunday, 22 March, 2020 at 6:29 AM
সরকারি চাল কালোবাজের নেয়ার সময় হাতেনাতে ধরা যশোরের চৌগাছায় ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ স্লোগানের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নেবার পথে হাতেনাতে দু’টি আলমসাধু আটকের পর চাল জব্দ করেছে প্রশাসন। একটি আলমসাধুতে ৩০ কেজি ওজনের ৩৯ বস্তা ও অপরটিতে ৫০ কেজি ওজনের ১৯ বস্তা চাল রয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শনিবার বেলা ১২টায় স্থানীয় পাকিস্তান রোড থেকে এই চাল জব্দ করেন। জব্দকৃত চালের একটি বড় অংশ হচ্ছে ধুলিয়ানী ইউনিয়নের কাবিলপুর বাজারের ডিলার ছাত্রলীগ নেতা এইস এম ফিরোজের। অপর অংশটি ঝিকরগাছা উপজেলা থেকে এসেছে। এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে উপজেলার পাকিস্তান রোড দিয়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে আলমসাধুতে করে চৌগাছা বাজার অভিমুখে আসছে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম পাকিস্তান রোডে অবস্থান করে হাতেনাতে দু’টি আলমসাধু থেকে ৫৯ বস্তায় মোট দু’হাজার একশ’ ২০ কেজি চাল জব্দ করেন।
উপজেলার বড় কাবিলপুর থেকে চাল নিয়ে আসা আলমসাধু চালক আব্দুস সামাদ জানান, কাবিলপুর গ্রামের ছানার ছেলে জহুরুল তাকে বলেছেন, ‘কিছু চাল চৌগাছা বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যেতে হবে। আমি ভাড়া ঠিক করে আমার গাড়িতে কাবিলপুর বাজারে তার গোডাউন থেকে ৩০ কেজির ৩৯ বস্তা চাউল উঠিয়ে বাজারে নিয়ে আসছিলাম। জহুরুল আমার সাথে মোটরসাইকেলে ছিল। কিন্তু সে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতি টের পেয়ে সেখান থেকে সটকে পড়ে’।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, জহুরুল ছাত্রলীগ নেতা ডিলার ফিরোজের লোক। ফিরোজ তার মাধ্যম দিয়ে এই চাল বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল।
অপরদিকে, আটক অন্য একটি আলমসাধুর চালক নজরুল ইসলাম জানান, চৌগাছা বিশ্বাসপাড়ার চাল ব্যবসায়ী মনু সকালে তাকে ঝিকরগাছার ছুটিপুর বাজারে ভাড়া ঠিক করে চাল আনার জন্য পাঠান। তিনি ছুটিপুরের জনৈক এক ব্যবসায়ীর আড়ৎ থেকে চাল নিয়ে আসছিলেন। প্রতিমধ্যে নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে আটক করেন। এসময় মনুকে ফোন দিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে বললে তিনি আর আসেননি।
উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার  খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৩০ জন ডিলার নিয়োগ দেয়া আছে। উপজেলায় মোট ১৭ হাজার নয়শ’ ৯৭ জন কার্ডধারীকে এ চাল বিতরণ করা হয়। তার মধ্যে ধুলিয়ানি ইউনিয়নে দু’জন ডিলার রয়েছেন। চাল আনা হয়েছে ধুলিয়ানি ইউনিয়নের বড় কাবিলপুর গ্রাম থেকে। এ গ্রামে পাঁচশ’ পাঁচজন হতদরিদ্র কার্ডধারী রয়েছে। এলাকার লোকজন অভিযোগ করেন কার্ডধারীর স্বাক্ষর নকল করে অনেকের চাল ১০ টাকা মূল্যে ডিলার নিজেই ক্রয় করেন। পরবর্তীতে তা বাইরে বেশি দামে বিক্রি করা হয়।
এ বিষয়ে ডিলার ফিরোজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো অনিয়ম করিনি। কার্ডধারীরা একটি আড়তে তাদের চাল বিক্রি করে। ওই আড়ত মালিক এই চাল বাইরে বিক্রি করার চেষ্টা করছিল’।  
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলার পাকিস্তান রোড থেকে সরকারি চাল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি নারায়ণ চন্দ্র পালকে আহবায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft