বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০
সারাদেশ
কলাপাড়ায় লোকসানের মুখে তরমুজ চাষিরা
এইচ,এম, হুমায়ুন কবির কলাপাড়া (পটুয়াখালী) :
Published : Saturday, 28 March, 2020 at 5:43 PM
কলাপাড়ায় লোকসানের মুখে তরমুজ চাষিরা পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা ধানের লোকসানের পর এবার তরমুজ চাষ করে ও করোনার কারনে বড় ধরনের লোকসানের মুখে তরমুজ চাষিরা। বর্তমানে বাজারে তরমুজ সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার কথা কিন্তু করোনার কারনে দেখা যাচ্ছে না ক্রেতা। আর এ কারনেই লোকসানের মুখে তরমুজ চাষিরা। এ অঞ্চলের লাভজনক ফসল হিসেবে তরমুজ চাষ বেশ পরিচিত। এ এলাকার মাটি তরমুজ চাষের উপযোগি হওয়ায় প্রতি বছর বেশি লাভের আশায় তরমুজ চাষ করেন এ এলাকার চাষিরা।
কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতর সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ১৫০০ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষাবাদ হয়েছে। মাঘ মাসের শুরুতে চাষিরা তরমুজ চাষ শুরু করে কিন্তু মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিতে কিছু জমির তরমুজ নষ্ট হলে ও পরে আর ক্ষতির সম্মুখিন হননি চাষিরা। এ ক্রনে এবার তরমুজ মোটামুটি ফলন ভালই হয়েছে বলে দাবি করছে কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতর। আবার এ দিকে ক্ষেতের তরমুজ চুরি ঠেকাতে এখন রাত জেগে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্ষেতের মাঝখানে ছোট ছোট ঝুঁপড়ি করে তাতে দলবদ্ধভাবে পাহারা দিচ্ছেন চাষিরা। গত তিন –চার দিনে ক্ষেতের তরমুজ চুরি হওয়ায় এ ব্যবস্থা করছেন কৃষকেরা।  
সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার ধুলাসার , ধাণখালী , বালীয়াতলী , লতাচাপলী ও চাকামইয়া ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায় বিস্তীর্ন এলাকাজুড়ে শুধু তরমুজ ক্ষেত। দুই-তিন কেজি সাইজের এই তরমুজ আর কয়েক দিনের মধ্যে বিক্রি করা যাবে কিন্তু করোনার কারনে বাজারজাত ও বিভিন্ন জায়গার থেকে তরমুজ ক্রয় করতে পাইকার আসতে না পারার কারনে বড় ধরনের লোকসানের মুখে চাষিরা। তরমুজ মৌসুমে এখান থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে জমি থেকে কিনে নিয়ে  ট্রাক ভর্তি করে যশোর ,মাগুরা ,চাঁদপুর,মানিকঞ্জ, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যেত। কাক ডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তরমুজ কাটা ও বাজার জাতকরনের কাজে ব্যস্ত থাকত চাষিরা। বেলে Ñদোআঁশ মাটি তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় রসালো ফল তরমুজ অন্য জেলায় উৎপাদিত তরমুজের চেয়ে এ এলাকার তরমুজ মিষ্টি বেশি, টকটকে লাল ও চামরা পাতলা হওয়ায় যার কারনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
কৃষকরা অধিক লাভের আশায় ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋৃন নিয়ে দ্বিগুন হারে তরমুজের চাষাবাদ করেছেন। শেষ পর্যন্ত করোনার কারনে পুঁজি টুকুও উঠবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।  কলাপাড়ায় লোকসানের মুখে তরমুজ চাষিরা
ধানখালী ইউনিয়নে পাঁচজুনিয়া গ্রামের তরমুজ চাষি মো.সান্টুমাল বলেন, আমার তরমুজ  মাঘ মাসের শুরুতে তরমুজ চারা রোপন  চাষ শুরু করি কিন্তু মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় তরমুজ চারা নষ্ট হয়ে গেছে আবার চারা রোপন করি এজন্য আমার দু’একর জমিতে তরমুজ গাছ থেকে কাটতে পারবে আর ৫-৭ দিনের মধ্যে কিন্তু দেশের যে অবস্থা কোরানো কারনে তরমুজ বিক্রি করতে পারি কিনা তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ভাল জানে।  এনজিওর কাছ থেকে ঋৃন নিয়ে তরমুজ চাষ করছি। এখন যে পালা মোগো রাস্তায় বসা ছাড়া কোনো উপায় দেখিনা।  
ধুলাসার ইউনিয়নে কাওয়ারচর গ্রামে তরমুজ চাষি মো. বশার শিকদার জানান, আমি প্রথম দিকে তরমুজ রোপন করছি বালু জমিতে তা ভালই হয়েছে। আমার ৫একর জমিতে তরমুজ রোপন করছি তাতে বিক্রি করা হয়েছে এক লক্ষ পাঁচ চল্লিশ হাজার টাকা। কিন্তু ক্ষেতে এখন তরমুজ আছে ওই তরমুজ বিক্রি করতে পারবো কিনা তা জানিনা দেশের যে অবস্থা তরমুজ ক্রয় করতে পাইকার আসতে না পারার কারনে এখন আমাদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম হতাশা।
কলাপাড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতরের কর্মকর্তা মো.আবদুল মন্নান জানান, করোনার কারনে তরমুজ চাষিরা বড় বিপাকে পড়েছে। তাদের ক্ষেতে উৎপাদিত তরমুজ পাঁকলে ও বাজারজাত করতে পারছেনা। মেীসুমের শুরুতে বুলবুল কারনে কৃষকের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে এখন আবার করোনার কারনে লোকসানের মুখে তরমুজ চাষিরা। তাদেকের  পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন ক্ষেতে পানি দিলে তরমুজ কম পাঁকে। পানি দেওয়া বন্ধ করলে অল্পতে তরমুজ পেকে যাবে। চার তারিখ পর্যন্ত অফিস আদালত বন্ধ লোকজন  বাজারে আসতে পারেনা। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft