বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
কালীগঞ্জে দরিদ্র স্কুলছাত্র নাইমের মাস্কসেবা
টিপু সুলতান, কালীগঞ্জ(ঝিনাইদহ) :
Published : Tuesday, 31 March, 2020 at 11:27 PM
কালীগঞ্জে দরিদ্র স্কুলছাত্র নাইমের মাস্কসেবাশহর কিংবা গ্রাম-সকল স্থানে প্রচার মাইকে স্বাস্থবিধি মানার জন্য নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। মহামারী থেকে রেহাই পেতে দেশের গণমাধ্যমগুলোর মাধ্যমে স্বাস্থ্য কর্তাদের ভাষ্য একই। সর্দি, হাছি ,কাঁশি থেকেই করোনার সংক্রমণ ঘটছে। আর কার দেহে এ ভাইরাস আছে কে কোথায় থুথু ফেলছে তা কেউ জানেন না। ফলে সংক্রমণের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে মুখে মাস্ক পরার বিকল্প নেই। কিন্তু লকডাউনে কাপড়ের দোকান বন্ধ। ফার্মেসিগুলোতেও প্রয়োজন মতো মাস্ক নেই। কিছু কিছু ফার্মেসিতে পাওয়া গেলেও লোক বুঝে দাম নিচ্ছেন তারা। কেউ কেউ অল্প টাকার মাস্কে দাম নিচ্ছেন কয়েকগুণ বেশি। এগুলো দেখেই ঘর থেকে বের হওয়া। নিজের ক্ষতির আশংকা মাথায় নিয়েই শহরের বিভিন্ন এলাকার পাড়া মহল্লায় ঘুরে মাস্ক বিক্রি করে বেড়াচ্ছেন স্কুলছাত্র নাইম হোসেন।
সে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার হেলাই গ্রামের মফিজুর রহমানের ছেলে ও সরকারি নলডাঙ্গা ভূষন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।
নাইম হোসেন বলে, ‘আমার বাবা শহরে দিন মজুরের কাজ করেন। এখন লকডাউনে কাজও বন্ধ। অভাব অনটনের সংসার আমাদের। বাজারে এখন করোনা সুরক্ষার মাস্ক সংকট ছাড়াও বেশি দামে তা বিক্রি হচ্ছে। এমন অবস্থায় সাধারণ দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য কিনতে কষ্ট হচ্ছে। এতে নিজের কিছুটা রোজগারের পাশাপাশি মানুষের সেবাও হচ্ছে’।
নাইম আরও বলে, ‘অনেক রিকশা-ভ্যানচালককে শুধু কেনা দামে দিচ্ছি। একেবারেই যার টাকা নেই আবার মুখে এখনো মাস্ক পরেননি সংখ্যায় কম হলেও সে সমস্ত অসহায়দেরকে টাকা ছাড়াই বিবেকের তাড়নায় দিচ্ছি’।
নাইম বলে, কুষ্টিয়া থেকে পাইকারি কিনে এনে তা অত্যন্ত স্বল্প লাভে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বিক্রি করছে সে। লাভের টাকাটা লকডাউনের সময়ে ঘরে বসে থাকা বাবার হাতে দিচ্ছে। যা তাদের সংসারের কাজে আসছে।
‘আমরা গরীব মানুষ, এ দুর্যোগ মূহুর্তে আমাদের কিছু দেয়ার সামর্থ নেই। নিজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হলেও মাস্কটা কম দামে মানুষের হাতে তুলে দিয়ে মানুষের চাহিদা মেটাচ্ছি’-বলে নাইম।
বাবা মফিজুর রহমান জানান, ‘আমার দু’টো ছেলে নাইম আর নাহিদ। তারা দু’জনই হাইস্কুলে পড়ে। করোনার প্রভাবে এখন তাদের স্কুল বন্ধ। নিজে একজন দিনমজুর। প্রতিদিনের রোজগারে চলে সংসার। তারপরও দু’ছেলের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে হয়। এখন বড় ছেলে মাস্ক কিনে এনে বাজারে ঘুরে বিক্রি করছে। সব মানুষকে এখন ঘরে থাকার কথা তাই প্রথম দিকে নাইমকে বাধা দিয়েছি। কিন্তু বর্তমান সময়ে মাস্ক সকলেরই দরকার আর ছেলের জোরাজুরিতে আর বাধা দিইনি’।




আরও খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft