সোমবার, ২৫ মে, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
করোনা দুর্যোগ
যশোরে ঘরে থাকার নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত
স্বপ্না দেবনাথ :
Published : Friday, 3 April, 2020 at 11:58 AM
যশোরে ঘরে থাকার নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিতকরোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিহত করতে ঘরে থাকার সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না যশোরের মানুষ। অসচেতনতার কারণে এ প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। যত দিন যাচ্ছে ততই যেন সচেতনতার বদলে অসচেতন হয়ে পড়ছেন যশোরবাসী। মহা দুর্যোগের সময় ধৈর্য্য এবং সচেতনতার বদলে নিয়ম ভঙ্গের প্রতিযোগিতায় নামছে সকলে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পাড়া মহল্লা এবং বাজার ঘুরে জনসাধারণের অবাধে চলাফেরা দেখা গেছে। যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্বও।
হাতে গোলভস এবং মুখে মাস্ক পড়লে সবচেয়ে জরুরি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টিকেই দিন দিন হালকাভাবে নিয়েছেন যশোরবাসী। তাই অপ্রয়োজনে বেশি সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় এমনকি অলিগলিতে জটলা পাকিয়ে গল্প-আড্ডায় সময় কাটাচ্ছেন অনেকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃঢ় পদক্ষেপ থাকলেও জনসাধারণের অসহযোগিতায় ও আন্তরিকতার অভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশংকা ক্রমাগত বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত শহরের মণিহার, চৌরাস্তা, চারখাম্বার মোড় এবং বড় বাজার এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে অন্য দিনের তুলনায় ইজিবাইক ও রিক্সা চলাচলের পরিমাণ বেড়েছে। একই সাথে ব্যক্তিগত গাড়ি এবং মোটরসাইকেলের চলাচলও বেশি। মোড়ে মোড়ে বেড়েছে মৌসুমী ফল বিক্রেতার সংখ্যা। তরমুজ, ডাব, পেয়ারা, কলাসহ নানা ফলের পসরা নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। আর তাদের ঘিরে ক্রেতাদের অবাধ বিচরণ। মানা হচ্ছে না কোনো সামাজিক দূরত্ব। একই চিত্র বড় বাজারের মাছ এবং সবজির দোকান গুলোতেও। নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে কিছু দোকানের সামনে গোলকার বৃত্ত আাকা থাকলেও তা মানছেন না কেউই।  অনেকের মুখে মাস্ক থাকলেও একে অপরের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনছেন। আবার কেউ কেউ প্রয়োজন না থাকা সত্বেও টুকিটাকি কিছু কেনার অজুহাতে বাজারে এসে সময় কাটাচ্ছেন।  
এদিকে, বড় বড় শপিং মলগুলো বন্ধ থাকলেও এর সামনে রাখা মোটরসাইকেলের জন্য পা ফেলার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু কিছু দোকানে সাটার অর্ধেক খোলা রেখে চলছে বিকিকিনি। আর পাড়া মহল্লার ছোট চা ও পানের দোকান গুলোতে বসার টুল উঠানো থাকলেও দাঁড়িয়ে চা খাওয়া কিংবা আড্ডা দেয়ার লোকের কমতি নেই। যশোরে ঘরে থাকার নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত
এ বিষয়ে বড় বাজারের সবজি বিক্রেতারা বলছেন, তারা সচেতনভাবেই ক্রেতাদের দূরত্ব বজায় রেখে প্রয়োজনীয় জিনিসটি সংগ্রহ করার অনুরোধ করছেন। কেউ মানছেন আবার কেউ এটাকে উপহাস করছেন।
ঘরে থাকা এবং নিয়ম মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ব্যক্তিরা বলছেন এখনো শহরে মানুষ নিজেদের সচেতনতার চেয়ে পুলিশ কিংবা সেনাবাহিনীর ভয়ে যতটুকু কিছুটা নিয়ম মানছেন। অঘোষিত লক ডাউন নয়, প্রয়োজনে দেশ ও জনগণের বৃহৎ স্বার্থে আনুষ্ঠানিক লক ডাউনের ঘোষণার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তারা।
এদিকে, এখনো গণসচেতনতার জন্য রাস্তা এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে মাইকিং করছে প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হতে নানাভাবে নিরুৎসাহিত করছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সহনশীলতার পরিচয় দিয়ে সকলকে সচেতন করার চেষ্টা তারা চালাচ্ছেন বলে জানান বিভিন্ন সড়কে টহল দেয়া আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তারা সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
যশোরের সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহীন গ্রামের কাগজকে জানান, জনগণকে নানাভাবে সচেতনতার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এরপরও যদি মানুষ সচেতন না হয় তবে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপারি নিজে এবং পরিবারের সদস্য, ঘরবাড়ি, আশপাশের পরিবেশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন ডাক্তার শেখ আবু শাহীন। তিনি বলেন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ও দুর্যোগ মোকাবেলা সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সচেতন হতে হবে।






সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft