সোমবার, ২৫ মে, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
দুর্যোগের মধ্যে সেবার মানসে সুরক্ষা সামগ্রী বিক্রি সানির
সরোয়ার হোসেন :
Published : Sunday, 5 April, 2020 at 7:22 PM
দুর্যোগের মধ্যে সেবার মানসে সুরক্ষা সামগ্রী বিক্রি সানিরকরোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সাথে সাথে বাজার থেকে এক প্রকার উধাও হয়ে যায় সুরক্ষা সামগ্রী। মাস্ক, হ্যান্ডসেনিটাইজার, সার্জিক্যাল ক্যাপ, গ্লোবস, স্প্রে ইত্যাদির মজুত করতে থাকেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। ওষুধের দোকান থেকে রাতারাতি উধাও হয়ে যায় সার্জিক্যাল মাস্ক, ক্যাপ, হ্যান্ডসেনিটাইজার। খুচরা ও পাইকারি দোকান থেকে হারিয়ে যায় হ্যান্ডওয়াশ ও জীবানুনাশক। দু’একটি দোকানে যাও কিছু সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছিল তা বিক্রি হচ্ছিল কয়েকগুণ বেশি দামে। অসহায় মানুষ মাস্ক এবং হ্যান্ডসেনিটাইজারের জন্যে হন্যে হয়ে ঘুরেছেন এক দোকান থেকে আরেক দোকানে। দিন যত গড়িয়েছে পরিস্থিতি একটু একটু করে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। স্বল্পতা থাকলেও বাজারে বর্তমানে সুরক্ষা সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে। তবে, দাম এখনো নাগালের বাইরে। ব্যবসায়ীরা মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে দাম হাঁকাচ্ছেন ইচ্ছেমতো। এই সুযোগে শহরে সুরক্ষা সামগ্রীর পসরা খুলে বসেছেন একাধিক ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী। কিন্তু, তারাও দাম খুব একটা কম নিচ্ছেন না।
মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের ভিড়ে ব্যতিক্রম একজন-আমিরুল ইসলাম সানি। তিনি কেনা মূল্যের উপর নামমাত্র লাভে ক্রেতার হাতে তুলে দিচ্ছেন সুরক্ষা সামগ্রী। উদ্দেশ্য, করোনাভাইরাসের কবল থেকে সকল মানুষ যাতে স্বল্পমূল্যে সুরক্ষা পায় তার ব্যবস্থা করা। মানুষকে সেবা দিতেই ইমিটেশন জুয়েলারি ব্যবসায়ী সানি ফুটপাথে খুলে বসেছেন সুরক্ষা সামগ্রীর দোকান।
চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনার ছেলে আমিরুল ইসলাম সানি যশোরে এসেছেন প্রায় বারো বছর। অথৈই সিটি গোল্ড নামে তার একটি প্রতিষ্ঠান আছে। করোনাভাইরাসের কারণে সরকার দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণার সাথে সাথে অন্যদের মতো বন্ধ হয়ে যায় তার প্রতিষ্ঠানও। এই অবসর সময়টি বেছে নিয়েছেন মানবতার সেবায়-এমনটাই জানালেন তিনি। বাজারে যখন সুরক্ষা সামগ্রীর আকাল তখন থেকেই তিনি এর পসরা সাজিয়ে বসেছেন শহরের চৌরাস্তার কাপুড়িয়াপট্টি এলাকায়। প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে দোকান খুলে তিনি মানুষের হাতে কম মূল্যে তুলে দিচ্ছেন মাস্ক, গ্লোভস, হ্যান্ডস্যানিটাইজার, সার্জিক্যালক্যাপ, স্প্রে, ডেঙ্গু মশারোধকারী ক্রিম ইত্যাদি। এ কাজে দোকানের আরও কয়েকজন কর্মচারীকে নিয়োজিত করেছেন তিনি।দুর্যোগের মধ্যে সেবার মানসে সুরক্ষা সামগ্রী বিক্রি সানির
রোববার বেলা ১২টার দিকে তার দোকানের সামনে দেখা যায় মানুষের উপচেপড়া ভিড়। তাদেরই একজন আবুল হোসেন। পেশায় ব্যাংক কর্মচারী। এসেছিলেন কাঁচাবাজার করতে। দোকান দেখে কেনেন এক প্যাকেট সার্জিক্যাল মাস্ক। তিনি জানান, ‘কয়েকদিন থেকে ওষুধের দোকানগুলো ঘুরে ঘুরে একটি মাস্কও পাইনি। কোনো হ্যান্ডস্যানিটাইজার বিক্রি করা হয়নি আমার কাছে। শুধু বলে সাপ্লাই নেই। অথচ আমার পরিচিতদের অনেকেই ওষুধের দোকান থেকে এসব সামগ্রী কিনেছেন শুনেছি। তবে, যে দাম তাদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে তা অবিশ্বাস্য। এখানে এসে তুলনামূলক কম দামেই এগুলো কিনতে পারলাম’।
মোটরসাইকেল আরোহী তানজিব সুমন বলেন, ‘এখানে যে মাস্ক বা অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি করা হচ্ছে তার দামও অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি। কিন্তু, ওষুধের দোকানগুলোর থেকে অনেক কম। সরবরাহেরও কোনো ঘাটতি নেই। যার যা প্রয়োজন তিনি তাই কিনতে পারছেন’।
দোকানি আমিরুল ইসলাম সানিকে বিষয়টি ধরিয়ে দিতেই তিনি নিজের চালান দেখান। বলেন, ‘আমি যে দামে কিনছি তার চেয়ে পণ্যভেদে এক থেকে পাঁচ টাকা বেশিতে বিক্রি করছি। আমার লাভ করার উদ্দেশ্য না, মানুষ যাতে এই সঙ্কটময় মুহূর্তে সব কিছুই পায় তার ব্যবস্থা করা, বলতে পারেন মানুষকে সেবা দেয়ার জন্যেই আমি এই দোকান খুলেছি’।
তিনি জানান, প্রতি পিছ সার্জিক্যাল মাস্ক বিক্রি করছেন ২৫ থেকে ২৬ টাকায়। যা কেনা হয়েছে ২৪ টাকায়। এছাড়া, সার্জিক্যাল ক্যাপ ছয় টাকায় কিনে সাত থেকে আট টাকা, গ্লোবস পাঁচ, ২০, ২৫ ও ৩০ টাকা, হ্যান্ডস্যানিটাইজার ৬০, ৮০, ৯০, ৯৫ এবং তিনশ’ ৪০ টাকা, কাপড়ের মাস্ক ১৫ টাকা ও ক্যাপওয়ালা (বল্টুওয়ালা) মাস্ক ২০ টাকায় বিক্রি করছেন। তার দোকানে পাওয়া যাচ্ছে একশ’ টাকা মূল্যের সেপনিল হ্যান্ডওয়াশ ও একশ’ দশ টাকা মূল্যের নিটওয়াশ হ্যান্ডস্যানিটাইজার। স্প্রে মেশিন পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ টাকায়। রয়েছে ৫০ গ্রাম ওজনের ডেঙ্গুমশা প্রতিরোধী ক্রিম অটোনোমস, দাম ৭০ টাকা। এসবের পাশাপাশি সাবান থেকে শুরু করে অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রীও রয়েছে তার দোকানে।
চালান দেখে সানির কথার সত্যতাও পাওয়া যায়। তিনি যে দামে সামগ্রী কিনছেন তাও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশ বেশি জানিয়ে বলেন, ‘বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের মধ্যে সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহারের আগ্রহ ও প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। কিন্তু, বাজারে এসব সামগ্রী মাত্রাতিরিক্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তাও অনেকে পাচ্ছেন না। সে সুযোগে সরবরাহকারীরাও দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা দামের সাথে পরিবহন চার্জ লাগিয়ে খুবই কম দামে তা মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছি’। তিনি জানান, তার দোকানে সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই। কম দাম পেয়ে মানুষ কিনছেনও বেশি। প্রতিদিন গড়ে এক একটি সামগ্রী প্রায় পাঁচশ’ করে বিক্রি হচ্ছে।
তিনি জানান, গণপরিবহন বন্ধ হলেও সামগ্রী পেতে কোনো সমস্যা হয় না। ঢাকায় চাহিদা পাঠানোর এক দিন পরেই কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে হাতে চলে আসে। পরিস্থিতি যতদিন স্বাভাবিক না হবে ততদিন এই সেবা দিয়ে যাবেন বলে জানান বেজপাড়া ফ্রেন্ডস ক্লাবের এই সদস্য।
তিনি জানান, যত কমে কেনা যাবে তত কমে তিনি সুরক্ষা সামগ্রী মানুষের হাতে তুলে দেবেন।
এদিকে, শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে আরও একাধিক ভ্রাম্যমাণ দোকান লক্ষ্য করা যায়। ছোট বড় এসব দোকানের কোনোটিতে বিক্রি হচ্ছে মাস্ক, কোনোটিতে মাস্ক ও সার্জিক্যাল ক্যাপ আবার কোনোটিতে শুধু স্প্রে মেশিন। কেউ কেউ কিছু হ্যান্ডওয়াশও নিয়ে বসেছেন। সবচেয়ে বেশি ভ্রাম্যমাণ দোকান দেখা গেছে কাপুড়িয়াপট্টির মধ্যে ফুটপাথে। প্রতিটি দোকানেই মানুষকে সামগ্রী কিনতে দেখা গেছে। তবে, এসব দোকানেও দাম বেশ চড়া।




আরও খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft