সোমবার, ২৫ মে, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
করোনা সংক্রমণ
ভয়ের অন্যতম কারণ ব্যাংক
এম. আইউব
Published : Monday, 6 April, 2020 at 6:46 PM
ভয়ের অন্যতম কারণ ব্যাংকবর্তমানে করোনা আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়িয়েছে ব্যাংকিং লেনদেন। ব্যাংকে আসা লোকজন সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত না করার কারণে এ ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে বলে সাধারণ মানুষের আশঙ্কা। আতঙ্কগ্রস্ত মানুষ ব্যাংকিং লেনদেনের বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। কেবল সাধারণ মানুষ না, এ দাবি ভীতসন্ত্রস্ত ব্যাংক কর্মকর্তাদেরও।
সোমবার যশোরের বিভিন্ন ব্যাংক ঘুরে দেখা গেছে, গ্রাহকরা অন্যান্য সময়ের মতো স্বাভাবিকভাবে লেনদেন করছেন। কোথাও কোনো সামাজিক দূরত্ব বজায় নেই। সব ব্যাংকে গ্রাহকরা পাশাপাশি গাদাগাদি দাঁড়িয়ে কাজ সারছেন। কারো কারো মুখে এ সময় মাস্ক না থাকার দৃশ্যও চোখে পড়ে। কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই দুর্যোগের সময় ব্যাংকে মাত্র পাঁচটি বিষয়ে লেনদেন করার কথা। এগুলো হচ্ছে, ফান্ড ট্রান্সফার, টাকা উত্তোলন, জমা, রেমিটেন্স উত্তোলন ও ক্লিয়ারিং। অথচ এসবের বাইরেও গ্রাহকরা এসে অযথা ভিড় করছেন। কেউ ডিপিএস কিংবা এমএসএসের টাকা, বিদ্যুৎ বিল জমা দিতে, কেউ স্টেটমেন্ট নিতে, কেউ একাউন্ট খুলতে ব্যাংকে এসে হাজির হচ্ছেন। এসব বিষয়ে কর্মকর্তারা কোনো কথা বললে ব্যাংকে আসা লোকজন অহেতুক তাদের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ছেন। সোনালী ব্যাংক গরীব শাহ সড়ক শাখা, কালেক্টরেট ভবন শাখা, কর্পোরেট শাখা, অগ্রণী ব্যাংক যশোর শাখা, ইসলামী ব্যাংক যশোর শাখা, জনতা ব্যাংক বাজার শাখায় গিয়ে গ্রাহকদের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে লেনদেনের চিত্র দেখা গেছে। তবে, ব্যাংকে প্রবেশের সময় হ্যান্ডস্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করানোর দৃশ্যও চোখে পড়ে।
করোনার এই দুর্যোগের মধ্যে সংক্রমণ রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথম অবস্থায় সকাল ১০ টা থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত লেনদেন করার নির্দেশ দেয়। কয়েকদিন এভাবে ব্যাংকিং লেনদেন চলছিল। এরপর এই লেনদেনের সময় এক ঘণ্টা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে দুপুর একটা পর্যন্ত চলছে ব্যাংকিং লেনদেন।
গ্রাহকরা জরুরি কিংবা বিনা কারণে বিভিন্ন ব্যাংকে ভিড় করছেন। যেটি কিছুদিন পরে করা যাবে সেই কাজেও অহেতুক ভিড় করছেন কেউ কেউ। তবে, সবচেয়ে ভয়ের কথা হচ্ছে, গ্রাহকরা ঠাসাঠাসি করে লেনদেন করছেন। কোথাও কোনো সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে না। ব্যাংক কর্মকর্তারা এটি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তারা এক প্রকার অসহায়। চাকরি বাঁচাতে, জীবন-জীবিকার তাগিদে ইচ্ছার বাইরে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে ব্যাংক কর্মকর্তাদের। চরম আতঙ্কের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন তারা। যশোরে বিভিন্ন ব্যাংকের ডিজিএম, এসপিও, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, ম্যানেজার ও ডেপুটি ম্যানেজার পদের ১৪ জন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে তাদের এই আতঙ্কের কথা জানাগেছে। আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন অন্যান্য পদের কর্মকর্তারাও।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তার বক্তব্য,‘গ্রাহকের প্রয়োজনে সরকার ব্যাংক খোলা রেখেছে। মানুষের প্রয়োজন মেটাতে ব্যাংক খোলা রাখা দরকার এটা ঠিক। তবে, ব্যাংকে লেনদেন করতে এসে যদি কারো জীবন ঝুঁকিতে পড়ে তাহলে তার কী হবে। একজনের কারণে শেষ পর্যন্ত বহু মানুষের জীবন সংকটাপন্ন হলে তার দায় কে নেবে?’ অধিকাংশ ব্যাংক কর্মকর্তার বক্তব্য,‘প্রয়োজন মেটাতে ব্যাংক লেনদেনের সময় কমিয়ে আনলে মানুষ ব্যক্তিগতভাবে যেমন নিরাপদ থাকবে ঠিক তেমনি নিরাপদ থাকবে দেশও।’ এক্ষেত্রে কোনো কোনো ব্যাংক কর্মকর্তার মত সপ্তাহের এক, দু’দিন স্বল্প সময়ে ব্যাংকে লেনদেনের ব্যবস্থা করা হোক। আর এ সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন জরুরি। যারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারে।
যশোরে সরকারি-বেসরকারি মিলে ৩৭ টি ব্যাংকের শাখা রয়েছে। এসব ব্যাংকে কমবেশি লেনদেন হয়ে থাকে। তবে, সবচেয়ে বেশি গ্রাহকের চাপ সোনালী, ইসলামী, পূবালী, ডাচবাংলাসহ সাত-আটটি ব্যাংকে। এসব ব্যাংকের কর্মকর্তারা এক প্রকার অসহায় হয়ে পড়েছেন গ্রাহকের কাছে। কোনো ব্যাংকে লেনদেনে কড়াকড়ি করার চেষ্টা করলে উল্টো গ্রাহকের কাছ থেকে অবাঞ্চিত গালাগাল শুনতে হচ্ছে।
ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও যশোর শাখা প্রধান আশরাফুল আলম বলেন,‘ব্যাংকে গ্রাহকরা আসলে তাদের নিষেধ করা যাচ্ছে না। দু’ একবার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে ফল বিপরীত হয়েছে। কোনো কোনো গ্রাহক কর্মকর্তাদের সাথে অসৌজন্য আচরণ করছেন। তারা বলছেন, সরকার ব্যাংক খোলা রেখেছে স্বাভাবিকভাবে লেনদেনের জন্যে। কোনো কড়াকড়ি করার জন্যে না। এ কারণে তারা কড়াকড়ি মানতে নারাজ।’ এই কর্মকর্তা ব্যাংকে পুলিশ দিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার ব্যাপক ভিড় দেখা যায় অগ্রণী ব্যাংক যশোর শাখায়। সেখানেও মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের এসপিও (সিনিয়র প্রিন্সিপ্যাল অফিসার) রোকন উদ্দীন বলেন,‘আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু অনেক সময় নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তা পুরোপুরি পারা যাচ্ছে না। এই ব্যাংকে অনেকের বেতন হয়। তারা বেতন উঠানোর জন্যে ভিড় করছেন। ভিড় হওয়ার কারণে ঝুঁকিও বাড়ছে। তারপরও তো মানুষকে সেবা দিতে হবে।’
সোনালী ব্যাংক যশোরের ডিজিএম শফিকুল ইসলাম বলেন,‘মানুষের প্রয়োজন মেটাতে টাকা দরকার। এ কারণে অনেকেই ব্যাংকে আসছেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। যখন পারা যাচ্ছে না তখন স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নেয়া হচ্ছে। তারপরও ঝুঁকির মধ্যে কাজ করে যাচ্ছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।’  
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন,‘আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) থেকে আমাদের লোকজনকে ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হবে। যাতে করে সেখানে লোকজন কিছুটা হলে শৃঙ্খলায় আসে। বিষয়টি দেখা হবে।’   



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft