বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
করোনা আতঙ্কে কলারোয়ায় পানির দামে দুধ কিক্রি
মোস্তফা হোসেন বাবলু, কলারোয়া পৌর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি :
Published : Thursday, 9 April, 2020 at 10:58 AM
করোনা আতঙ্কে কলারোয়ায় পানির দামে দুধ কিক্রিসম্প্রতি মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্কে কলারোয়ার উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অঞ্চলের বাজারে গরুর দুধের বিক্রি একেবারে কমে গেছে।সরজমিনে দেখা গেল গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি লিটার ৩৫/৪০ টাকা থেকে ১৮-২০ টাকায় নেমে এসেছে। এতে বিপাকে পড়ে গেছে উপজেলা ওরজিন গোয়ালানী দুধ ব্যবসায়ীরা (ঘোষেরা) উপজেলার খামারি, খ্যাতল দুধ খামারী কৃষকরা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন দুধ বাজার ঘুরে দেখা যায়, খামারি, দুধ ব্যবসায়ী ও কৃষকরা তাদের উৎপাদিত গুরুর দুধ নিয়ে বাজারগুলোতে বসে আছেন। ক্রেতা কম থাকায় অনেক দুধ নিয়ে বাড়ী ফিরে যাচ্ছে। দুধের দাম কম পাওয়ায় অনেকেই আবার ইচ্ছা মতো দুধ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এদিকে, বাধ্য হয়েই লোকসানে দুধ বিক্রি করেছেন বিক্রেতারা।
উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের বড় দুধ বিক্রেতা শ্রী সুনীল কুমার ঘোষ ও সুবোধ ঘোষ জানান , কী অসুক আইছে দেশে, দুধ খাইলে নাকি মানুষ মারা যাইব।তিনি আরো জানান আমি প্রতিদিন আমার লোকদিয়ে ১৬০কেজি থেকে  ২০০ কেজি দুধ গামাল থেকে সংগ্রহ করি।কিন্তু দুধের ছানা, ঘি এবং দুধ কেউ কিনতে আসেনি। এছাড়া  কথা হয় আরেক দুধ বিক্রেতা আ. কাদের সাথে। তিনি জানান, ৪ সদস্যের সংসারে আয়ের একমাত্র উৎস দুটি গাভীর ৬ লিটার দুধ। গত দুই সপ্তাহে ১২ লিটার দুধ বিক্রি করছিলাম ৪৮০ টাকায়। কিন্তু কয়েকদিন ধরে প্রতি লিটার দুধ বাধ্য হয়ে ১৮/২০/২২ টাকা দরে বিক্রি করছি। করোনাভাইরাস আতঙ্কে ক্রেতা কমে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে কম দামে দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
উপজেলার দুধ খামারি তুলশীডাঙ্গা গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, আমার ৩টি গাভী থেকে প্রতিদিন ১৭/১৮ লিটার করে দুধ পাওয়া যায়। দুধ বিক্রি করে সংসার চালাই। এর আগে প্রতিদিন ৭থেকে৮’শত টাকার দুধ বিক্রি করতাম। এখন একেবার পানির দামে দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে। এত দুধ কোথায় রাখবো বা কি করবো। বিক্রি না করে উপায় নেই। তিনি আরো বলেন, এই টাকা দিয়ে সংসারের খরচ করবো না  গরুর খাবার কিনব, চিন্তায় আছি। অন্যদিকে বাজারে গো-খাদ্যসহ ঔষুধের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। অথচ সপ্তাহখানেক ধরে ক্রেতারা ২০ টাকার বেশি দাম দিচ্ছে না।দুধ ক্রেতা কলারোয়ায় দুলাল মিষ্টান্ন ভান্ডারের সুভাষ জানান জানান, ভাইরাসের কারণে সবার মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আমাদের দোকান বন্ধ ।বাজারে তেমনটা মিষ্টির ক্রেতাও নেই। দুধ কম লাগে ,দুধের দাম কম থাকায় আমার কোন লাভ নেই , আবার অনেকই বেশি করে দুধ কিনে নিয়ে কোথায় রাখব।মিষ্টি বিক্রেতা  নিরজ্ঞন, আ. বারেক, কৃষ্ণ চ›ন্দ্র ঘোষ, রাখাল চন্দ্র ঘোষ জানান, করোনা ভাইরাস আতঙ্কে দুধের দাম একেবারে কমে গেছে। ক্রেতারা প্রয়োজন ছাড়া মিষ্টিও কিনতে আসে না। আগের চেয়ে আমরা মিষ্টি অনেক কম বানাচ্ছি। মিষ্টি বানালেও বিক্রি করতে পারছি না। তাই বাধ্য হয়ে কম দামে দুধ কিনেতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পাদ কর্মকর্তা  জানান, করোনা ভাইরাসের সাথে গাভীর দুধের কোন সম্পর্ক নেই। মানুষ আতংঙ্কিত হয়ে অনেকেই এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে। আমাদের উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে গাভী পালনকারীরা যাতে আতঙ্কিত না হয় তার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft