রবিবার, ৩১ মে, ২০২০
সম্পাদকীয়
প্রসঙ্গ : সারাদেশ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা
Published : Friday, 17 April, 2020 at 7:12 PM
নভেল করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা পাওয়ার জন্য রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে বসানো হয়েছে জীবাণু নাশক টানেল। হাসপাতালে যারা ঢুকছেন কিংবা বের হচ্ছেন, তাদের এই টানেলের ভেতর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। কিন্তু এমন সাবধানতা অবলম্বন কিংবা সতর্কতায় মৃত্যুর মিছিল থামছে না। গতকালের রিপোর্ট অনুযায়ী, একদিনেই ১৫ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৫ জন।
Save
আর এর আগের দিন বৃহস্পতিবার দেয়া ২৪ ঘন্টার রিপোর্টে ১০ জনের মৃত্যুর কথা বলা হয়। যার সতর্কতায় রাতে দেশের ৪৮ জেলা নয়, গোটা দেশ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু আমরা এই ঘোষণাকে কতোটা আমলে নিচ্ছি তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
খবর অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২১৯০টি নমুনা পরীক্ষা করে আরও ২৬৬ জনের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে ১৮৩৮ জন হয়েছে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগীর খোঁজ মেলে গত ৮ মার্চ। তার দশ দিনের মাথায় ঘটে প্রথম মৃত্যু। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত এক দিনে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও নয়জন। এ পর্যন্ত মোট ৫৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এ ১৫ মৃত্যুর আগের রাতে সারাদেশে সতর্কতা জারি করা হয়। দুই-তৃতীয়াংশ জেলায় নভেল করোনাভাইরাসের দেড় হাজারের বেশি রোগী পাওয়ার পর গোটা দেশকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সরকার। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, “যেহেতু বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় এই রোগের সংক্রমণ ঘটেছে, সেহেতু সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ এর ১১(১) ধারার ক্ষমতাবলে সমগ্র বাংলাদেশকে সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করা হল।” এর আগে ৪৩ জেলায় এ পর্যন্ত এক হাজার ৫৭২ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত করার কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১০ জনের মৃত্যু ঘটে করোনাভাইরাসে। এই সময়ে আক্রান্ত হন ৩৪১ জন। একদিনে এত বেশি নতুন রোগী আর মৃত্যু বাংলাদেশকে দেখতে হয়নি। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকায় ৫৪৬ জন, নারায়ণগঞ্জে ২১৪ জন, গাজীপুরে ৫৩ জন, চট্টগ্রামে ৩১ জন, নরসিংদীতে ২৮ জন, মুন্সিগঞ্জে ২১ জন, মাদারীপুরে ১৯ জন, কিশোরগঞ্জে ১৭ জন, কুমিল্লায় ১৪ জন, গাইবান্ধা ও জামালপুরে ১২ জন করে, বরিশালে ১০ জন, গোপালগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে ৯ নয় করে করোনাভাইরাসের রোগী পাওয়া গেছে। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৮ জন, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহে ৭ জন করে; চাঁদপুর, নিলফামারী ও রাজবাড়ীতে ৬ জন করে; মানিকগঞ্জ ও শরিয়তপুরে ৫ জন করে; বরগুনা, নেত্রকোণা, পিরোজপুর ও রাজশাহীতে ৪ জন করে; ঝালকাঠি, শেরপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে ৩ জন করে; ফরিদপুর, কুরিগ্রাম, লালমনিরহাট, মৌলভীবাজার, পটুয়াখালী ও রংপুরে ২ জন করে এবং চুয়াডাঙ্গা, কক্সবাজার, হবিগঞ্জ, খুলনা, ল²ীপুর, নড়াইল, নোয়াখালী ও সুনামগঞ্জে একজন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ইতোমধ্যে ৪৮টি জেলা লকডাউন করে প্রশাসন। এর বাইরেও কিছু উপজেলা এবং কিছু অঞ্চলে লকডাউন জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। তবে বৃহস্পতিবার গোটা দেশকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা দেয়া হয়।
আমরা মনে করি, শুধু এই ঘোষণাতেই মানুষ সেইভাবে সতর্ক হবে না। দেশে পথে-ঘাটে, হাট-বাজারে ঘুরে এখনো মনে হচ্ছে সাধারণ মানুষ যেনো করোনাকে নয়, পুলিশকে বেশী ভয় পায়। এখনো প্রচÐ ভীড় হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। এমনকি, অসহায়দের খাবার বিতরণেও কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে করোনার ভয়াবহতা রুখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আরো কঠোর হতে হবে। তা না হলে শুধুমাত্র ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণাতেই মহামারীর প্রকোপ ঠেকানো যাবে না।    



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft