শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০
সম্পাদকীয়
রানা প্লাজার বিচার শুরুর জট খুলবে কবে?
Published : Friday, 24 April, 2020 at 7:18 PM
সাত বছর আগে সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাটির বিচার শুরুর জট এখনও খোলা সম্ভব হয়নি। আমাদের প্রশ্ন, এ মামলার জট খুরবে কবে?
বিভিন্ন মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, মামলাটির কার্যক্রমের ওপর আসামিপক্ষ সেই যে হাই কোর্ট থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে রেখেছে, সে গেরো থেকে এখনও বের হওয়া যায়নি। অথচ অভিযোগপত্র দায়েরের পর পেরিয়েছে চার বছর। এর মধ্যে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর তারিখ পিছিয়েছে ২০ বারের বেশি। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি খন্দকার আব্দুল মান্নান এবং রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, কেউ বিচার শুরুর বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পেশকার আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মামলাটিতে আগামী ৩০ জুলাই ফের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন রয়েছে। বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়ে যাওয়া সেই ঘটনার বিচারে দীর্ঘসূত্রতাকে ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও প্রহসন’ বলছেন শ্রমিক স্বার্থ নিয়ে সোচ্চার কর্মীরা।          
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আট তলা রানা প্লাজা ধসে নিহত হন এক হাজার ১৩৫ জন; প্রাণে বেঁচে গেলেও পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয় আরও হাজারখানেক গার্মেন্ট শ্রমিককে। ঘটনার দিনই সাভার থানায় দুটি মামলা হয়। পরের বছর দুর্নীতি দমন কমিশন দায়ের করে আরেকটি মামলা। প্রথমটিতে হতাহতের ঘটনা উল্লেখ করে ভবন ও কারখানা মালিকদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন সাভার মডেল থানার এসআই ওয়ালী আশরাফ। আর রাজউক কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনের দায়ের করা অন্য মামলাটিতে ভবন নির্মাণে ত্রুটি ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়। এর আগে আইনজীবী খন্দকার আব্দুল মান্নান জানিয়েছিলেন, সাত আসামির আবেদনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনায় হাই কোর্টের স্থগিতাদেশ থাকায় বিচার শুরু করা যাচ্ছে না। স্থগিতাদেশের আবেদনকারী সাত আসামির মধ্যে আবু বকর সিদ্দিক নামের একজন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এ প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মান্নান বলেন, হাই কোর্টে যাদের মামলা স্থগিত হয়ে গিয়েছিল, তাদের মধ্যে মোহাম্মদ আলী ছাড়া সবার স্থগিতাদেশ উঠে গেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। কিন্তু হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট সেকশন থেকে আমরা এখনও স্থগিতাদেশ খারিজের আদেশটি পাইনি। যে কারণে আমরা সাক্ষ্য নিতে পারছি না। হাই কোর্টের স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ার পর শুনানি করতে প্রস্তুত আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে কোনো খবর না আসলে আমরা কি করতে পারি? তারা উদ্যোগী হলে আমরাও উদ্যোগ নিতে পারি।
এ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আমাকে তো জানাতে হবে যে মামলাটিতে কার কার বিচার এখানে স্টে রয়েছে। না জানালে আমি কি করতে পারি? মাহবুবে আলম বলেন, যে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে তাদের বাদ দিয়ে যাদের পক্ষে মামলার কার্যক্রম স্থগিত নেই তাদের বিচার শুরু হতে তো বাধা নেই। ‘অবহেলা ও অবহেলাজনিত হত্যার’ অভিযোগে মামলা দায়েরের দুই বছর পর ২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বিজয়কৃষ্ণ কর ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় সাক্ষী করা হয় ৫৯৪ জনকে। আসামিদের আবু বক্কর সিদ্দিক ও আবুল হোসেন মারা যাওয়ায় এখন আসামির সংখ্যা ৩৯ জন। ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ এস এম কুদ্দুস জামান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
আমরা মনে করি, পৃথিবী কাঁপানো এ মামলার জট কাটিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়া উচিৎ।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft