সোমবার, ২৫ মে, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোরে ১শ’২০টি হোটেল-রেস্তরা ব্যবসা অনিশ্চিত
জাহিদ আহমেদ লিটন :
Published : Saturday, 16 May, 2020 at 11:52 PM
যশোরে ১শ’২০টি  হোটেল-রেস্তরা ব্যবসা অনিশ্চিতযশোরের হোটেল-রেস্তরায় ব্যবসা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ শহরে ১শ’২০টি হোটেল-রে¯েঁÍারা আছে। আগামীতে এ ব্যবসা চলবে কিভাবে তা নিয়ে তারা সংশয়ে রয়েছেন তারা। একইসাথে করোনা পরিস্থিতিতে হোটেল শ্রমিকদের কীভাবে দেখবেন সেটাও তাদের ভাবিয়ে তুলেছে।  মালিকরা ভয়াবহ এ পরিস্থিতিতে সরকারের কাছ থেকে প্রণোদনা বা স্বল্প সুদে ঋণ দাবি করেছেন।
গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হবার পর প্রার্দুভাব গোটা জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে গত ২৫ মার্চ থেকে দেশের সকল হোটেল-রেস্তোঁরা সরকার বন্ধ ঘোষণা করে। হোটেল ব্যবসায়ীরা জানায়, যশোরে গত ২২ মার্চ থেকে সকল হোটেল রে¯েঁÍারা বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর থেকে গত প্রায় দু’মাস যশোর শহর এলাকার ১২০টি হোটেল বন্ধ রয়েছে।
এ সব হোটেলগুলোতে তাদের প্রায় ৬শ’ স্টাফ ও শ্রমিক রয়েছে। নিজের ব্যবসা ও শ্রমিকদের নিয়ে এই দু:সময়ে চলতে গিয়ে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরকার বা কোন সংগঠন তাদের খোঁজ খবর নিচ্ছে না। তারা বা তাদের শ্রমিক পরিবার কিভাবে চলছে সেটাও কেউ জানতে আগ্রহ প্রকাশ করছে না। অথচ অন্যান্য সকল পেশার মানুষকে সরকারসহ প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠন খোঁজ খবর নিচ্ছে ও সহযোগিতায় এগিয়ে আসছে। শুধুমাত্র তারাই রয়ে যাচ্ছে সবার অগোচরে। এ কারণে করোনা পরিস্থিতিতে হোটেল ব্যবসা টিকে থাকবে কিনা তা নিয়েও ব্যবসায়ীরা সংশয়ে রয়েছে। যদিও প্রশাসন যশোরে সীমিত পরিসরে সকল দোকানপাট খোলার অনুমতি দিয়েছে, তারপরও তারা হোটেল খুলতে পারছে না। কারণ হচ্ছে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে হোটেল ব্যবসা করা যায় না। এরপর শহরে মানুষের চলাচল কম। মানুষ জরুরি কাজের জন্য শহরে এসে দ্রুত ঘরে ফিরে যাচ্ছে। হোটেলে বসে খেয়ে সময় পার করার মত অবস্থা তাদের হাতে নেই। এ অবস্থা কতদিন চলবে সেটাও কারো জানা নেই।
হোটেল ব্যবসায়ীরা জানায়, চলতি রমজান মাসেও তারা হোটেলের বড় ব্যবসা ধরতে পারেননি। এ অবস্থায় ব্যবসা বন্ধ রেখে পুঁজি ভেঙ্গে খেয়ে তাদের দিন কাটছে। এর থেকে উত্তোরণের কোন উপায় তারা দেখছে না। রে¯েঁÍারা মালিক সমিতি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সীমিত পরিসরে ক্যাফে মদিনা, আনন্দ হোটেল ও বিকাশ হোটেল খুলেছিল। কিন্তু খরিদ্দার না থাকায় তাদের হোটেল খোলার আয়োজনের যে টাকা ব্যয় করতে হয়, সেটাও লোকসান হয়। এ জন্য তারা পরদিন আর হোটেল খোলেননি। তারপর শ্রমিকরা তাদের কাছে বেতন বোনাসের জন্য আসছে। ঈদ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সমিতি কার্যালয়ে শ্রমিকরা এসে এ দাবি জানায়। এসময় তাদেরকে এসি নুরু হোটেল, বাজার নুরু হোটেল ও রাজপ্রিয়া হোটেল কর্তৃপক্ষ যথাসম্ভব সহায়তা প্রদান করে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রে¯েঁÍারা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ মুকুল বলেন, কারোনা প্রার্দুভাব তাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিয়েছে। একদিকে ব্যবসা বন্ধ, অপরদিকে শ্রমিকরা বেকার। এ যেন তাদের মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে। করোনা দুর্যোগ তাদের ব্যবসা অনিশ্চিত করে দিয়েছে। কবে ফের তাদের হোটেল ব্যবসা পূর্বের মত শুরু হবে সেটা কেউ বলতে পারছে না। এখন তারা শুধুমাত্র আগামীর দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। নিজেদের আয় রোজগার বন্ধ থাকলেও তারা শ্রমকিদের যথাসম্ভব সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, সরকার করোনা পরিস্থিতিতে সব পেশার মানুষকে প্রণোদনা বা সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণের সুযোগ দিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বঞ্চিত হচ্ছেন হোটেল রে¯েঁÍারা ব্যবসায়ীরা। এ কারণে তিনি সরকারের কাছে প্রণোদনা বা স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করার দাবি জানান। তা না হলে যশোরের ১২০ জন হোটেল ব্যবসায়ীকে তাদের শ্রমিকদের সাথে নিয়ে পথে বসতে হবে।          




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft