বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
করোনাজয়ীদের কথা - ৫
আবার স্কুলে যাবো এটাই বড় আনন্দ
আশিকুর রহমান শিমুল :
Published : Monday, 18 May, 2020 at 1:03 AM
আবার স্কুলে যাবো এটাই বড় আনন্দডাক্তার ও পরিবারের সহযোগিতায় করোনা জয় করলো অভায়নগর উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের পুড়াখালী গ্রামের শিশু তিলকা খাতুন (১৩)।
গত ৫ মে উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের পুড়াখালী গ্রামের তিলকার নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ সময় তাঁর শরীরে করোনাভাইরাস পজিটিভ ধরা পড়ে। এরপর থেকে শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে রাখা হয়। শিশুটি তার দাদার মাধ্যমে করোনা আক্রান্ত হয়। বর্তমানে দাদাও করোনা জয় করে বাড়িতে ফিরেছেন।
তিলকা জানান, হাসপাতালের দিন গুলো সত্যিই খুব কষ্টের ছিলো। কখনো কারো সাথে দেখা করতে পারতাম না। বন্ধুদের সাথে খেলা করার সুযোগ ছিলো না। সব সময় হাসপাতালের একটি ঘরে থাকতো হতো। মা হাসপাতালে তার সাথে থাকলেও তার কাছে আসতে দেয়া হতো না। তার খুব কষ্ট হতো। সব সময় ডাক্তার ও সেবিকারা তার খোঁজ খবর রাখতো। কখনো কোনো কিছুর দরকার হলে ওয়ার্ডের ভাইয়া ও আপুরা এনে দিতো।
বাড়িতে ফিরতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আবার সবার সাথে দেখা হবে। প্রাণখুলে কথা বলতে পারবো, ঘুরে বেড়াতে পারবো, বন্ধুদের সাথে খেলা করতে পারবো ও স্কুলে যেতে পারবো, এটাই বড় আনন্দ। এ এক অন্যরকম অনুভুতি। যা বুঝিয়ে বলা সত্যিই কঠিন।
তিলকা খাতুনের পরিবার জানায়, প্রতিবেশি ও ডাক্তারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। কেননা, তারা সব সময় তাদের সহযোগীতা করেছেন। শুধুমাত্র তাদের জন্য মেয়ে আবারও স্কুলে যেতে পারবে। পরিবারের মাঝে ফিরে এসেছে। সকলের কাছে তাদের পরিবার কৃতজ্ঞ।
এ ব্যাপারে অভায়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এস এম মাহামুদুর রহমান রিজভী তার ফেসবুকে অনুভূতি প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্যে তুলে ধরা হলো, তিলকা (১৩) আমাদের দ্বিতীয় রোগী, ওর দাদা অসুস্থ হওয়ার পর ওই বাড়ি থেকে ওরই পজিটিভ হওয়ার তথ্য আমারা পাই । তখন অনেক কিছু ভাবি যেহেতু সে শারীরিক ভাবে তখনও সুস্থ, ওকে কি আমরা হোম এ রাখবো ? তখন সিভিল সার্জনের সাথে কথা বলি ওকে কিভাবে আমরা হসপিটালে আনবো, ওকে দেখাশুনা করবো। আলোচনার এক পর্যায়ে দুটো বিষয়ে বেশি জোর দেই, প্রথমত ওদের কমন টয়লেট, উন্মুক্ত গোসলের স্থান, আর ওর সাথে কে থাকবে ? তারপর সিদ্ধান্ত নেই ওকে হসপিটালে শিফট করবো আর ওর মা সেখানে স্বেচ্ছায় যেতে আগ্রহী হয়।
আমার সিস্টারদের ওর চুলের তেল,শ্যাম্পু করে চুল বাধা, গোসল করা, বাথরুমের সাবান সবকিছুর খোঁজ নেওয়া আমাকে আনন্দে উদ্বেলিত করতো।ওর ভাল থাকা আর আমি ওর কাছে এলে প্রতিদিনই ওর মা বলতো সারাক্ষণ তিলকা আমাকে বলে আপনি কখন আসবেন ? আমি যখন হসপিটালে নেওয়ার মুহূর্তে ওর বাড়ীতে ওকে একটা পিপিই দিয়ে বলি তুমি কি এটা পরতে পারবে? কি বোকার মতোই না প্রশ্ন করেছিলাম! আমি এখনো পর্যন্ত ঠিকঠাক মতো পরতেই পারিনা ও তো সারাজীবন ফ্রক পরেই অভ্যস্ত। গ্লাভস এর আঙ্গুল গুলো যেন একটার সাথে আরেকটা থাকতে চাইছে, মাস্ক বা সুকভার এগুলোর ও একই অবস্থা , পিপিই পরানোর এক ফাকে দেখি ও কাঁদছে। মাথায় যখন হুড তুলে দেই তখন ওকে বলি নতুন জামায় তোমাকে কি সুন্দর ই না দেখাচ্ছে।  বেখাপ্পা পিপিই ওকে শেষ পর্যন্ত মানিয়ে যায় তারপর আমরা ওকে ওর নতুন ঘরে ওর মায়ের সাথে একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব আর মাস্কের গন্ডিতে রেখে দেই। যে মা ওর অসুস্থতায় ওর মাথার কাছ থেকে কখনও দূরে যাইনি সেই মায়ের কাছে এই ছয় ফুটের দুরত্ব টা ও যেন অসীম দুরত্ব। ওদের দুজনের রিপোর্ট আজ নেগেটিভ এসেছে। ওদের আমরা বাড়ী দিয়ে আসলাম।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft