বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
ক্রেতা হারিয়ে পুঁজিশূণ্য হয়ে পড়েছে যশোরের নার্সারি ব্যবসায়ীরা
এম. জিহাদ :
Published : Tuesday, 19 May, 2020 at 12:27 AM
ক্রেতা হারিয়ে পুঁজিশূণ্য হয়ে পড়েছে যশোরের নার্সারি ব্যবসায়ীরাকরোনায় পুঁজি হারানোর শঙ্কায় দিন পার করছে যশোরের প্রায় এক হাজার নার্সারি ব্যবসায়ী। ক্রেতা না থাকায় নেই বেচাকেনা। সাথে থমকে গেছে জীবন-জীবিকা। অন্যদিকে অর্থসঙ্কটে যত্ন নিতে না পারায় নষ্ট হওয়ার পথে গাছের চারা। আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অসহায় জীবযাপন করছে এ ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রায় দু’হাজার শ্রমিক। সরকারের কাছে বিশেষ সহায়তার দাবি করেছেন পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখা ব্যবসায়ীরা।  
যশোরের কাঁঠালতলা, সুজলপুর, ভেকুটিয়া, ঝুমঝুমপুর, রুপদিয়া, কুয়াদা, মণিরামপুরের বাসুদেবপুর, সতীঘাটাসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় এক হাজার নার্সারি ব্যবসায়ী রয়েছে। ২৬ মার্চ থেকে প্রায় দু’মাস ক্রেতা না আসায় বেচাকেনা নেই। জীবিকার একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পূঁজি হারাতে বসেছে তারা। অনেকেই ঋণের টাকায় শ্রমিক দিয়ে চারাগুলোর যত্ন নিচ্ছেন। আবার অনেকের টাকা না থাকায় শ্রমিকদের ছুটি দিয়েছেন। অর্থসঙ্কটে সঠিকভাবে যত্ন নিতে না পেরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অনেক চারা। আবার সামনে অধিক বৃষ্টি বা ঝড় হলে নষ্ট হয়ে যাবে সব চারা। এসব দুঃশ্চিন্তা ঘুম কেড়ে নিয়েছে তাদের। বিশেষ কোনো সহায়তা না পেলে নার্সারি ব্যবসা বাদ দিয়ে অন্য ব্যবসা খুঁজতে হবে বলে জানিয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী।
মঙ্গলবার মুসলিম একাডেমি সংলগ্ন নার্সারি দোকানগুলোতে দেখা যায়, ক্রেতা নেই। দু’একজন এসেছেন শহর থেকে কিছু চারা কিনতে। মালিকরা সকাল-সন্ধ্যা গাছের যত্ন নিয়েই ব্যস্ত। ক্রেতা হারিয়ে সব হাসি ম্লান হয়ে গেছে এসব মালিকদের। মহামারি করোনা সংক্রমণ তাদের জীবনকে দুর্বিসহ করে তুলেছে।
ঈশা নার্সারির মালিক আমিন জানান,  নির্দিষ্ট সময়ে বিক্রি করতে না পারায় নার্সারির বীজতলায় অনেক চারার বয়স পার হয়ে গেছে। এখন তিনি অবশিষ্ট চারাগুলো কম দামে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহের কথা ভাবছেন। তবুও মিলছে না গ্রাহক। এমন অবস্থা জেলার বেশিরভাগ নার্সারি উদ্যোক্তার মাঝে বিরাজ করছে। ধারের টাকা দিয়ে সংসার ও চারার যত্ন নিচ্ছেন তারা। এসব নার্সারিকে ঘিরে শ্রমিক ও মৌসুমি চারা বিক্রেতারাও দুঃখ-কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।
হাজেরা নার্সারির মালিক শাহাবুদ্দীন বাবু বলেন, সুজলপুর ও ভেকুটিয়ায় তার ১৫ বিঘা জমির উপর ফুল, ফলজ, বনজ, ঔষধিসহ বিভিন্ন চারা রয়েছে। বর্তমানে অর্থ সংকটে চার থেকে লাখ টাকার চারা নষ্ট হওয়ার পথে। ব্যবসায় চলছে চরম মন্দাভাব। নার্সারিতে কর্মরত ১৭ শ্রমিকের মধ্যে চার শ্রমিককে ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছেন। এখন পুঁজি হারিয়ে ঋণের আট লাখ দিয়ে সংসার ও শ্রমিক খরচ চালাচ্ছেন।
যশোর পৌরসভা নার্সারি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর মিলন বলেন, ক্রেতা না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। প্রধানমন্ত্রী কৃষিখাতে সরকার প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছেন। কৃষিখাতের সাথে এ খাতও প্রণোদনার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
প্রতি বছরের ৫ জুন রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বাণিজ্য মেলার মাঠে আয়োজন করা হয় বৃক্ষ মেলার। যেখানে লাখ লাখ বৃক্ষপ্রেমী নিজেদের পছন্দ মতো গাছ কিনে নিয়ে যান। আর এ মেলার জন্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা এপ্রিল ও মে মাসে যশোর থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকার চারা কিনে নিয়ে যান। কিন্তু এ বছর করোনাভাইরাসের সময়ে মেলার আয়োজন করা হবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। বেচাকেনা হবে কিনা জানেন না যশোরের ব্যবসায়ীরা। নার্সারি উদ্যোক্তাদের তালিকা করে সরকারি আর্থিক সহয়তা দেওয়া না হলে নিজেদের পেশা থেকে ছিটকে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft