শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
ছিন্নমূল শিশুদের ছাত্রলীগ নেতা আসাদ ও শুভর উদ্যোগে পোশাক বিতরণ
কাগজ সংবাদ :
Published : Saturday, 23 May, 2020 at 8:17 PM
ছিন্নমূল শিশুদের ছাত্রলীগ নেতা আসাদ ও শুভর উদ্যোগে পোশাক বিতরণ ‌‌"ঈদের খুশি সবার ঘরে শান্তি নিয়ে আসুক, ধনী গরিব সবাই মিলে প্রাণটা খুলে হাসুক" এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে যশোর জেলা ছাত্রলীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ ও অন্তর দে শুভ যশোরে ছিন্নমূল সুবিধা বঞ্চিত শিশু-কিশোরদের আসন্ন ঈদ উপলক্ষে নতুন পোশাক বিতরণ করেছেন। শনিবার শহরের বিভিন্ন স্থানে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার নির্দেশে ও যশোর পৌর সভার ছয় নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী আলমগীর কবির সুমনের সহযোগীতায় এ বস্ত্র বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- শহর ছাত্রলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম খান, সোহাগ হোসেন,আরিফুল ইসলাম,আরবপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুর রহমান অপু।  

কাউন্সিলর হাজী সুমন বলেন, আমরা প্রতি বছরই ঈদ, পূজাসহ বিভিন্ন উৎসবে শিশুদের সহযোগিতা করে থাকি। তারাও আমাদের সমাজের একটি অংশ। তারা যে অবহেলিত নয় সে বিষয়গুলো বোঝানোর চেষ্টা করি। করোনাভাইরাসের এই সংকটময় সময়ে সবার উচিত নিজ জায়গা থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া।



আরও খবর
অসহায়দের জন্যে জুয়েলের ঈদ উপহার মুরগি পেয়ে কেঁদে ফেললেন ওরা!
কাগজ সংবাদ
করোনা শুরুর পর থেকে অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন মানবতাবাদী যুবনেতা শফিকুল ইসলাম জুয়েল। হ্যান্ডসেনিটাইজার থেকে শুরু করে অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়া এখন তার নিত্য দিনের কাজ। কখনো কোনো করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করলে তার দাফনে সহায়তা করতে গড়ে তুলেছেন ‘করোনাযোদ্ধা বাহিনী’। এই বাহিনীর জন্যে উপকরণ সামগ্রী কিনে দেয়া থেকে শুরু করে তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ আর পরিবারের পুরো দায়িত্বই তুলে নিয়েছেন নিজ কাঁধে। কিন্তু, মনের মধ্যে একটা অতৃপ্ত বাসনা সবসময়ই কুরে কুরে খাচ্ছিল তাকে-‘এবারের ঈদে যদি অসহায় মানুষের জন্যে এক টুকরো মাংসের ব্যবস্থা করতে পারতাম’! অদম্য ইচ্ছাশক্তিরই জয় হল শেষ পর্যন্ত। করোনাভাইরাসের কারণে ঘরবন্দি অসহায় পাঁচশ’ মানুষকে চিনি, সেমাই, মসলা, পোলাওয়ের চালের পাশাপাশি দিয়েছেন একটা করে মুরগিও। আর এটা দিতে পেরে যেনো ভারমুক্ত হলেন জুয়েল। যারা সহযোগিতা পেয়েছেন তাদের অনেকে এমন ঈদ উপহার পেয়ে আনন্দে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন নি।
শফিকুল ইসলাম জুয়েল যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। বর্তমানে যুবলীগের নেতা। ছোটকাল থেকেই ‘মানুষের জন্যে রাজনীতি’র মন্ত্রে উজ্জীবিত জুয়েল সুযোগ পেলেই মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। এবার করোনার ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা পেতে সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেয় সরকার। বন্ধ হয়ে যায় সকল অফিস, আদালত, স্কুল, কলেজ, কল-কারখানা, দোকানপাটসহ সকল প্রতিষ্ঠান। এমনকি মুটে-মজুরসহ দিন আনা দিন খাওয়া মানুষেরও উদোরের জ্বালা নিবারণের সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। এমনই এক অসহায় অবস্থায় নিজ এলাকার অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান তিনি। 
এলাকার ঘরবন্দি অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেন চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, আলু, লবণসহ নানা প্রকারের খাদ্য সামগ্রী। বাজার থেকে টাটকা সবজি এনেও তা পৌঁছে দিয়েছেন বাড়ি বাড়ি। যারা কারও কাছে হাত পাততে চাননা, বাদ যাননি অসহায় সেইসব মানুষও। তাদের জন্যে উচ্চমূল্যে চিকন চাল কিনে নামমাত্র মূল্য নিয়ে তাদেরকে সরবরাহ করেছেন-যাতে কেউ এটাকে ত্রাণ মনে করে মানসিকভাবে কুণ্ঠিত না হন। এতসবের মধ্যেও নিজের মধ্যে একটা বাসনা সবসময়ই পোষণ করেছেন-ঈদে গরিব মানুষের ঘরে মাংস পৌঁছে দিতে হবে। তা জানিয়েছেনও বন্ধু আরিফ হোসেন অপুকে। কিন্তু, সাধ আর সাধ্যের মধ্যে বিস্তর ফারাক থাকার কারণে সেটা সম্ভবও হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত তার অদম্য ইচ্ছা আর মানবতার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে দেয়ার মানসিকতায় উৎসাহিত হয়ে বন্ধু আর সুহৃদরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। 
শনিবার সকাল ১১টার দিকে যশোর শহরের পুরাতনকসবা এলাকায় করোনাভাইরাসের কারণে ঘরবন্দি অসহায় পাঁচশ’ পরিবারকে ঈদ উপলক্ষে খাদ্য সামগ্রী প্রদান করেন যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম জুয়েল। পোলাওয়ের চাল, সেমাই, চিনি, দুধ, মসলার সাথে চমক হিসেবে ছিল প্রত্যেকের জন্যে একটা করে মুরগি। 
সহযোগিতা পাওয়া দু’সন্তানের জননী বুলবুলি খুশিতে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলেন না। ভেঁজা গলায় তিনি বলেন, ‘করোনা শুরুর পর থেকে কয়েক জায়গাতে কিছু সহযোগিতা পাইছি। এর আেেগ অন্যবারের ঈদিও সেমোই, চিনি, পাইছি। কিন্তু মুরগি কেউ দিইনি। এইবারই প্রথম কেউ আমাগের মুরগি দিলো। লোকের বাড়ি কাজ করতাম। করোনার কারণে এখন কাজ বন্ধ। স্বামী রাজমিস্ত্রীর যোগালের কাজ করে। তারও কাজ বন্ধ। মুরগি পাইয়ে খুব ভালো হইয়েছে। ঈদির দিন ছেলে-পিলের মুখি গোসত দিতি পারবানে।’ 
ঈদে খাদ্য সামগ্রীর সাথে মুরগি পেয়ে খুশি তিন সন্তানের জনক ফেরিওয়ালা আলতাফ হোসেনও। পরিবারে তার সাথে তার মা-বাবাও থাকেন। জুয়েলের ঈদ উপহার সম্পর্কে নিজের অনুভূতি জানান তিনি। বললেন, ‘সবাই শুধু সেমোই, চিনি, চাইল, তেল, দেয়। কিন্তু ঈদির দিন ইট্টু গোসত হলি বাড়ির ছেলে পিলে কিযে খুশি হয়! ইনারা সেই গোশতর ব্যবস্থাও কইরে দিল। আল্লা ইনাগের ভালো করুক।’ 
বুবলি, আলতাফদের মতো সবাই মুরগি পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। জানিয়েছেন ঈদের দিন সন্তানদের মুখে এক টুকরো মাংস তুলে দিতে পারবে কি না-সেই দুশ্চিন্তার অবসানের কথাও। অনেকে এমন ঈদ উপহার পাবেন তা নাকি কখনো আশাও করতে পারেন নি। সামাজিক দূরত্ব মেনে ঈদ উপহার নেয়া এসব মানুষের অনেককে আনন্দে চোখের পানি ফেলতেও দেখা গেছে। 
যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘মহামারী করোনা শুরুর পর মানবিক দুর্দশা লাঘবে নিজ উদ্যোগে এলাকার খেটে খাওয়া মানুষের জন্য খাদ্য সামগ্রী সাবান, স্যানিটাইজার সহায়তার চেষ্টা করেছি। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বেশিদূর এগুতে পারছিলাম না। এসময় বন্ধু-বান্ধব, সুহৃদ, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী-সবাই কমবেশি এগিয়ে আসেন। সেকারণে গত দু’মাসে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের কাছে খাদ্য সামগ্রী পৌছৈ দিতে সক্ষম হয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘করোনায় মৃতদের জন্য আমাদের ১৮ সদস্যর প্রশিক্ষিত দাফন দল রয়েছে। এদের নাম দেয়া হয়েছে করোনাযোদ্ধা বাহিনী। এদের ১২ জন পুরুষ ও ছয়জন নারী। করোনাযোদ্ধাদের সুরক্ষা সামগ্রী ও খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থাও আমরা করেছি। করোনার সাথে আম্পানের ভয়াবহতার মাঝে ঈদকে সামনে রেখে অন্য খাদ্র সামগ্রীর সাথে একটা করে মুরগীর ব্যবস্থা করতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’
ঈদ উপহারের মধ্যে মুরগী দেয়ার বিষয়টি মাথায় আসলো কেনো জানতে চাইলে জুয়েল বলেন, ‘যত দুর্যোগই আসুক না কেনো আমরা কিন্তু ঈদের দিন আমাদের নিজ নিজ পরিবারে ভালোমন্দ খাবো। এসব অসহায় মানুষ যারা ঠিকমতো খেতেই পারে না তাদের পক্ষে পরিবারের জন্যে ঈদে মাংসের ব্যবস্থা করার ভাবনাটাও কঠিন। তাদের কথা চিন্তা করেই আমার এই চেষ্টা। এটা সম্পন্ন করতে পেরে যে তৃপ্তি পাচ্ছি তা কখনোই পাইনি।’ 
এ কাজে যারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সবাইকেও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জুয়েল। আশা করেছেন করোনাভাইরাসের এই দুর্দিন যতদিন থাকবে সাধারণ মানুষকে ততদিন সেবা দিয়ে যাবেন। তবে, আল্লাহর কাছে তার ফরিয়াদ দ্রæত করোনাভাইরাস থেকে দেশ ও বিশ্বসাবীকে তিনি যেনো মুক্ত করে দেন। একইসাথে তিনি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ও অন্যকে রক্ষা করতে স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে সবার প্রতি আহবান জানান। 
জুয়েলের ঈদ উপহারে মুরগি, আনন্দে কাঁদলেন ওরা! অসহায়দের জন্যে জুয়েলের ঈদ উপহার মুরগি পেয়ে কেঁদে ফেললেন ওরা! কাগজ সংবাদ করোনা শুরুর পর থেকে অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন মানবতাবাদী যুবনেতা শফিকুল ইসলাম জুয়েল। হ্যান্ডসেনিটাইজার থেকে শুরু করে অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়া এখন তার নিত্য দিনের কাজ। কখনো কোনো করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করলে তার দাফনে সহায়তা করতে গড়ে তুলেছেন ‘করোনাযোদ্ধা বাহিনী’। এই বাহিনীর জন্যে উপকরণ সামগ্রী কিনে দেয়া থেকে শুরু করে তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ আর পরিবারের পুরো দায়িত্বই তুলে নিয়েছেন নিজ কাঁধে। কিন্তু, মনের মধ্যে একটা অতৃপ্ত বাসনা সবসময়ই কুরে কুরে খাচ্ছিল তাকে-‘এবারের ঈদে যদি অসহায় মানুষের জন্যে এক টুকরো মাংসের ব্যবস্থা করতে পারতাম’! অদম্য ইচ্ছাশক্তিরই জয় হল শেষ পর্যন্ত। করোনাভাইরাসের কারণে ঘরবন্দি অসহায় পাঁচশ’ মানুষকে চিনি, সেমাই, মসলা, পোলাওয়ের চালের পাশাপাশি দিয়েছেন একটা করে মুরগিও। আর এটা দিতে পেরে যেনো ভারমুক্ত হলেন জুয়েল। যারা সহযোগিতা পেয়েছেন তাদের অনেকে এমন ঈদ উপহার পেয়ে আনন্দে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন নি। শফিকুল ইসলাম জুয়েল যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। বর্তমানে যুবলীগের নেতা। ছোটকাল থেকেই ‘মানুষের জন্যে রাজনীতি’র মন্ত্রে উজ্জীবিত জুয়েল সুযোগ পেলেই মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। এবার করোনার ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা পেতে সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেয় সরকার। বন্ধ হয়ে যায় সকল অফিস, আদালত, স্কুল, কলেজ, কল-কারখানা, দোকানপাটসহ সকল প্রতিষ্ঠান। এমনকি মুটে-মজুরসহ দিন আনা দিন খাওয়া মানুষেরও উদোরের জ্বালা নিবারণের সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। এমনই এক অসহায় অবস্থায় নিজ এলাকার অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান তিনি। এলাকার ঘরবন্দি অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেন চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, আলু, লবণসহ নানা প্রকারের খাদ্য সামগ্রী। বাজার থেকে টাটকা সবজি এনেও তা পৌঁছে দিয়েছেন বাড়ি বাড়ি। যারা কারও কাছে হাত পাততে চাননা, বাদ যাননি অসহায় সেইসব মানুষও। তাদের জন্যে উচ্চমূল্যে চিকন চাল কিনে নামমাত্র মূল্য নিয়ে তাদেরকে সরবরাহ করেছেন-যাতে কেউ এটাকে ত্রাণ মনে করে মানসিকভাবে কুণ্ঠিত না হন। এতসবের মধ্যেও নিজের মধ্যে একটা বাসনা সবসময়ই পোষণ করেছেন-ঈদে গরিব মানুষের ঘরে মাংস পৌঁছে দিতে হবে। তা জানিয়েছেনও বন্ধু আরিফ হোসেন অপুকে। কিন্তু, সাধ আর সাধ্যের মধ্যে বিস্তর ফারাক থাকার কারণে সেটা সম্ভবও হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত তার অদম্য ইচ্ছা আর মানবতার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে দেয়ার মানসিকতায় উৎসাহিত হয়ে বন্ধু আর সুহৃদরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। শনিবার সকাল ১১টার দিকে যশোর শহরের পুরাতনকসবা এলাকায় করোনাভাইরাসের কারণে ঘরবন্দি অসহায় পাঁচশ’ পরিবারকে ঈদ উপলক্ষে খাদ্য সামগ্রী প্রদান করেন যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম জুয়েল। পোলাওয়ের চাল, সেমাই, চিনি, দুধ, মসলার সাথে চমক হিসেবে ছিল প্রত্যেকের জন্যে একটা করে মুরগি। সহযোগিতা পাওয়া দু’সন্তানের জননী বুলবুলি খুশিতে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলেন না। ভেঁজা গলায় তিনি বলেন, ‘করোনা শুরুর পর থেকে কয়েক জায়গাতে কিছু সহযোগিতা পাইছি। এর আেেগ অন্যবারের ঈদিও সেমোই, চিনি, পাইছি। কিন্তু মুরগি কেউ দিইনি। এইবারই প্রথম কেউ আমাগের মুরগি দিলো। লোকের বাড়ি কাজ করতাম। করোনার কারণে এখন কাজ বন্ধ। স্বামী রাজমিস্ত্রীর যোগালের কাজ করে। তারও কাজ বন্ধ। মুরগি পাইয়ে খুব ভালো হইয়েছে। ঈদির দিন ছেলে-পিলের মুখি গোসত দিতি পারবানে।’ ঈদে খাদ্য সামগ্রীর সাথে মুরগি পেয়ে খুশি তিন সন্তানের জনক ফেরিওয়ালা আলতাফ হোসেনও। পরিবারে তার সাথে তার মা-বাবাও থাকেন। জুয়েলের ঈদ উপহার সম্পর্কে নিজের অনুভূতি জানান তিনি। বললেন, ‘সবাই শুধু সেমোই, চিনি, চাইল, তেল, দেয়। কিন্তু ঈদির দিন ইট্টু গোসত হলি বাড়ির ছেলে পিলে কিযে খুশি হয়! ইনারা সেই গোশতর ব্যবস্থাও কইরে দিল। আল্লা ইনাগের ভালো করুক।’ বুবলি, আলতাফদের মতো সবাই মুরগি পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। জানিয়েছেন ঈদের দিন সন্তানদের মুখে এক টুকরো মাংস তুলে দিতে পারবে কি না-সেই দুশ্চিন্তার অবসানের কথাও। অনেকে এমন ঈদ উপহার পাবেন তা নাকি কখনো আশাও করতে পারেন নি। সামাজিক দূরত্ব মেনে ঈদ উপহার নেয়া এসব মানুষের অনেককে আনন্দে চোখের পানি ফেলতেও দেখা গেছে। যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘মহামারী করোনা শুরুর পর মানবিক দুর্দশা লাঘবে নিজ উদ্যোগে এলাকার খেটে খাওয়া মানুষের জন্য খাদ্য সামগ্রী সাবান, স্যানিটাইজার সহায়তার চেষ্টা করেছি। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বেশিদূর এগুতে পারছিলাম না। এসময় বন্ধু-বান্ধব, সুহৃদ, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী-সবাই কমবেশি এগিয়ে আসেন। সেকারণে গত দু’মাসে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের কাছে খাদ্য সামগ্রী পৌছৈ দিতে সক্ষম হয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘করোনায় মৃতদের জন্য আমাদের ১৮ সদস্যর প্রশিক্ষিত দাফন দল রয়েছে। এদের নাম দেয়া হয়েছে করোনাযোদ্ধা বাহিনী। এদের ১২ জন পুরুষ ও ছয়জন নারী। করোনাযোদ্ধাদের সুরক্ষা সামগ্রী ও খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থাও আমরা করেছি। করোনার সাথে আম্পানের ভয়াবহতার মাঝে ঈদকে সামনে রেখে অন্য খাদ্র সামগ্রীর সাথে একটা করে মুরগীর ব্যবস্থা করতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’ ঈদ উপহারের মধ্যে মুরগী দেয়ার বিষয়টি মাথায় আসলো কেনো জানতে চাইলে জুয়েল বলেন, ‘যত দুর্যোগই আসুক না কেনো আমরা কিন্তু ঈদের দিন আমাদের নিজ নিজ পরিবারে ভালোমন্দ খাবো। এসব অসহায় মানুষ যারা ঠিকমতো খেতেই পারে না তাদের পক্ষে পরিবারের জন্যে ঈদে মাংসের ব্যবস্থা করার ভাবনাটাও কঠিন। তাদের কথা চিন্তা করেই আমার এই চেষ্টা। এটা সম্পন্ন করতে পেরে যে তৃপ্তি পাচ্ছি তা কখনোই পাইনি।’ এ কাজে যারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সবাইকেও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জুয়েল। আশা করেছেন করোনাভাইরাসের এই দুর্দিন যতদিন থাকবে সাধারণ মানুষকে ততদিন সেবা দিয়ে যাবেন। তবে, আল্লাহর কাছে তার ফরিয়াদ দ্রæত করোনাভাইরাস থেকে দেশ ও বিশ্বসাবীকে তিনি যেনো মুক্ত করে দেন। একইসাথে তিনি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ও অন্যকে রক্ষা করতে স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে সবার প্রতি আহবান জানান। জুয়েলের ঈদ উপহারে মুরগি, আনন্দে কাঁদলেন ওরা!
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft