শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
আম্পানে কেশবপুরে ২৮ কোটি টাকার ক্ষতি
বিদ্যুৎবিহীন রাত কাটাতে হচ্ছে উপজেলাবাসীকে
আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, কেশবপুর
Published : Thursday, 28 May, 2020 at 8:09 PM
আম্পানে কেশবপুরে ২৮ কোটি টাকার ক্ষতি ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে সৃষ্ট ঝড়, দমকা হাওয়া ও অতি বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বোরো ধান, পাট, তরিতরকারি, আম, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি ও ভুট্টাসহ কৃষির ব্যাপক ক্ষতির কারণে কৃষকরা এখন খুব চিন্তিত। এমনিতেই করোনার কারণে সারাদেশের কৃষক উৎপাদিত কৃষি পণ্যের দাম পাননি। এর ওপর আম্পানে কৃষকের জন্য ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ এর মতো অবস্থা হয়েছে। এছাড়াও স্কুল, কলেজ, রাস্তা-ঘাট, গাছ, ঘর-বাড়ি ও পল্লী বিদ্যুতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের শতাধিক পোল ভেঙে পড়ায় গ্রাহকদের বিপাকে পড়তে হয়েছে। হাজার হাজার গ্রাহক বিদ্যুতবিহীনভাবে রাত যাপন করছেন। কেশবপুর উপজেলায় ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে ১৩ জন আহত হয়েছেন। পড়ে যাওয়া গাছ সরাতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে শিশুসহ ১৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙে যাওয়া গাছ সরাতে গিয়ে উপজেলার মূরগ্রামের  আবু শাহীন সানা নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড়ে আটশ’ ২০ হেক্টর পাট, সাতশ’ ১২ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজি, ১০ হেক্টর মুগ, ২৪ হেক্টর তিল, ১৬ হেক্টর মরিচ, একশ’ ৩৫ হেক্টর পান, ৬৪ হেক্টর লিচু, চারশ’ ২৪ হেক্টর আম, ২০ হেক্টর পেঁপে, ৪৫ হেক্টর কলার খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ভেতর সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে ২০ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজি, এক হেক্টর মরিচ, ২০ হেক্টর পান, দু’হেক্টর লিচু, ৫০ হেক্টর আম, তিন হেক্টর পেঁপে ও পাঁচ হেক্টর কলার খেত। বাকি খেতের ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কৃষকের তিন হাজার আটশ’ ৯২ মেট্রিক টন উৎপাদিত ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ঘরবাড়ি ভেঙে পাঁচ কোটি ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের তান্ডবে প্রায় ১১ কিলোমিটার রাস্তা নষ্ট হয়ে পাঁচ কোটি ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৬০টি উচ্চ বিদ্যালয়, আটটি কলেজ ও ৫১টি মাদ্রাসার ভবনের চাল উড়ে গিয়ে এক কোটি ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার দোরমুটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীল রতন সরকার জানান, তার বিদ্যালয়ের চালের সঙ্গে স্থাপন করা চারটি সিসি ক্যামেরাও উড়ে গেছে। এতে তার প্রতিষ্ঠানের প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা প্রকাশ চন্দ্র মন্ডল বলেন, ৪৫টি মুরগির খামারের ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের তান্ডবে ৬০টি গভীর নলকুপ সম্পূর্ণ ও ৪০টি আংশিক এবং অগভীর নলকুল সম্পূর্ণ ৭২টি ও আংশিক ৪৮টি ভেঙে প্রায় ৭৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা চারশ’ ২০টি সম্পূর্ণ ও দু’শ’ ৮০টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।
পল্লী বিদ্যুত অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঘূণিঝড় অম্পানের প্রভাবে কেশবপুর উপজেলায় ৯৫টি পোল ভেঙে ও উপড়ে পড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছয়শ’ ৬৩টি মিটার ও ১২টি ট্রান্সফরমার এবং এক হাজার ৯৩ কিলোমিটার তারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। কেশবপুর পৌরসভার মধ্যকুল এলাকার গ্রাহক শাহিনুর রহমান জানান, তাদের বাড়িতে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত বিদ্যুত সংযোগ আসেনি। তাদেরকে বিদ্যুত বিহীন অতিকষ্টে রাত যাপন করতে হচ্ছে। তার মতো হাজার হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎবিহীনভাবে রাত যাপন করতে হচ্ছে।  
পল্লী বিদ্যুত কেশবপুর অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আব্দুল লতিফ জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে বিদ্যুতের খুটি ভেঙে ও তার ছিড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়। উপজেলার ৭৫ হাজার গ্রাহকের মধ্যে অধিকাংশেরই বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।  দু’এক দিনের মধ্যে বাকি গ্রাহকদেরকেও বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার জন্য কাজ চলছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মহাদেব চন্দ্র সানা জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে কেশবপুরে সাত হাজার নয়শ’ ৫৭ জন কৃষকের ১৩ কোটি ৬৩ লাখ একশ’ ৭৫ হাজার টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ধরনের গাছ ভেঙে ও উপড়ে পড়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান গ্রামের কাগজকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তান্ডবে কেশবপুরের বিভিন্ন সেক্টরে  প্রায় ২৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের উপজেলা নির্বাহী অফিসে আবেদন করতে বলা হয়েছে। সরকারিভাবে সহায়তা আসলে তাদেরকে সহযোগিতা করা হবে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft