শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
কালভার্টের মুখ বন্ধ করে গোয়াল তৈরি
ছয়টি পরিবারের বাড়িঘর পানির নিচে
কাজী মৃদুল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ)
Published : Thursday, 28 May, 2020 at 8:21 PM
কালভার্টের মুখ বন্ধ করে গোয়াল তৈরিঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার ছয়টি পরিবারের বাড়িঘর পাঁচ দিন পানির নিচে তলিয়ে আছে। অথচ পানি নিষ্কাশণের একমাত্র কালভার্টের মুখে মাটি ভরাট করে গরুর গোয়াল ঘর তুলে বসে আছেন এক প্রভাবশালী। অসহায় পরিবারগুলো পানি নিষ্কাশনের জন্যে উপজেলা নির্বাহী অফিস, এলাকার চেয়ারম্যানসহ সমাজের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের কাছে ধর্ণা দিয়েও সুফল পাননি। উপায়হীণ এসব পরিবারের সদস্যরা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে গ্রামের অন্যের বারান্দা ও উঠানে আশ্রয় নিয়ে চরম কষ্টে দিন পার করছেন।
কোটচাঁদপুর উপজেলার লক্ষিকুÐ গ্রামের কানা পুকুরের পাশে ছয়টি পরিবার বসবাস করে। তারা পেশায় দিনমুজুর। এরা হচ্ছেন সাজ্জাত হোসেন, টুটুল খান, ফতে খাতুন, রাজেদা বেগম, শামিম আহমেদ ও শান্তি। গেল আম্পান ঝড় ও বৃষ্টিতে অন্যান্য এলাকার মত তাদের আধাপাকা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যাপক বৃষ্টিতে পাশের কালভার্ট বন্ধ থাকায় ওই ছয়টি পরিবারের ঘরবাড়ি কোমর সমান পানিতে তলিয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্তরা এ প্রতিবেদকে বলেন, এলাকার প্রভাবশালী গোলাম খানের ছেলে হাসান খান আগেই কালভার্টের মুখ মাটি ভরাট করে সেখানে গরুর গোয়াল তুলেছেন। যে কারণে কালভার্টের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের আর কোনো পথ খোলা নেই। তারা বলেন, ‘আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিস, এলাকার চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও তারা পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা করেননি। যে কারণে ৫/৬ দিন ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে থাকায় দেয়াল ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। আর আমরা পরিবার পারিজন নিয়ে পরের বাড়ির বারান্দায় বা উঠানে বহু কষ্টে দিনাতিপাত করছি।’
এলাকার মেম্বর আয়ুব হোসেন খান বলেন, ‘আমি এসব অসহায় মানুষের ঘরবাড়ি বাঁচানোর জন্য ইউএনও স্যারের অনুমতি নিয়ে রাস্তা কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে গেলে এলাকার কিছু প্রভাবশালী বাধা দেয়। যে কারণে পানি নিষ্কাশনের আর কোনো ব্যবস্থা করতে পারিনি।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজনিন সুলতানা বলেন, ‘আমার কাছে অভিযোগ আসার সাথে সাথে থানা পুলিশকে বলে দিয়েছি ঘটনাস্থলে যেয়ে সমস্যার সমাধান করে আসতে। তারা এসে জানিয়েছে একটু রোদ হলে পানি এমনিতেই শুকিয়ে যাবে। তারপরও (সাংবাদিক) আপনি যখন বলছেন আমি বিষয়টি দেখছি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে।’
এ বিষয়ে সাবদারপুর ইউপি চেয়ারম্যান নওশের আলী নাছির বলেন, ‘একটু আগেই নির্বাহী অফিসার আমার কাছে ফোন করেছিলেন। আমি এখন ঘটনাস্থলে যাচ্ছি সাথে ভূমি অফিসের নায়েবকে নিয়ে। দেখি তারা কিভাবে কালভার্টের মুখ মাটি দিয়ে ভরাট করে সরকারি জমিতে গরুর গোয়াল করেছে।’




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft