শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
ঝিনাইদহে ঘুর্ণিঝড় আম্পানে দু’লাখ ২৭ হাজার চাষি ক্ষতিগ্রস্ত
কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
Published : Friday, 29 May, 2020 at 11:05 PM
ঝিনাইদহে ঘুর্ণিঝড় আম্পানে দু’লাখ ২৭ হাজার চাষি ক্ষতিগ্রস্তঝিনাইদহে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ঘুর্ণিঝড় আম্পান। ২০ মে রাত ১০টা থেকে শুরু হয়েছে সকাল পর্যন্ত তান্ডব চালায় আম্পান। এতে ভেঙে যায় গাছ-পালা, বাড়িঘর। ভেসে যায় খামার-পুকুরের মাছ। সেই সাথে নষ্ট হয়েছে মাঠের ফসল।
ঝিনাইদহ জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যে জানা যায়, জেলার ছয় উপজেলায় প্রায় দু’লাখ ২৭ হাজার কৃষক আম্পানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় দেড় হাজার হেক্টর কলা, এক হাজার ২৫ হেক্টর শাক-শবজি, এক হাজার নয়শ’ ৫০ হেক্টর মুগডাল, দু’হাজার ২০ হেক্টরের তিল, সাড়ে সাতশ’ হেক্টর মরিচ, একশ’ হেক্টর বোরো ধান, দেড় হাজার হেক্টর পান বরজ, দু’হাজার আটশ’ ৭৫ হেক্টর আম, চারশ’ ১৮ হেক্টর লিচু বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  টাকার অংকে ফসলের ক্ষতি হয়েছে ৮৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
কালীগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর গ্রামের শাহাজান আলী বলেন, তার ছয় বিঘা জমিতে ধরন্ত কলা গাছ ছিল। অম্পানে ছয় বিঘা জমির গাছ পড়ে গেছে। এত করে তিনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, আর পনের দিনের মতো সময় পাওয়া গেলে কিছু কলার কাধি বিক্রি করতে পারতেন।
হরিণাকুন্ডু উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের কৃষক রাশেদুল ইসলাম জানান, ঘুর্ণিঝড় আম্পানে তার দেড় বিঘা জমির পান বরজ নষ্ট হয়ে গেছে। বরজে প্রায় আড়াই লাখ টাকার পান ছিল। বিধ্বস্ত পান বরজ মেরামত করতে এখন প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হবে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী গ্রামের কলাচাষি কাদের মিয়া বলেন, এ বছর তিনি আড়াই বিঘা জমিতে কলা চাষ করেছিলেন। কয়েকদিন হলো অল্প কিছু কলা বিক্রি করতে পেরেছেন। কলা বিক্রি করে তিনি কমপক্ষে তিন লাখ টাকা আয় করতেন। আম্পানের কারণে তার তিন বিঘা জমির কলাগাছ ভেঙে পড়েছে।
মহেশপুর উপজেলার নাটিমা গ্রামের কৃষক শামীম হোসেন বলেন, আম্পানের কারণে তার মাছের খামারগুলো ভেসে গেছে। এছাড়াও তার ১০ বিঘা জমির কলাক্ষেত নষ্ট হয়েছে। মুলধন হারিয়ে এখন পথে বসেছেন তিনি।
এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সরকারিভাবে সহযোগিতা করার আহŸান জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা। শৈলকুপা উপজেলার ফুলহরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামিনুর রহমান বিপুল বলেন, ঘুর্ণিঝড় আম্পানের কারণে শৈলকুপা উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফুলহরি ইউনিয়ন। শুধু এই ইউনিয়ন না-জেলার প্রতিটি ইউনিয়নের কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব কৃষকের তালিকা করে সরকারিভাবে সহযোগিতা করলে কৃষকরা একটু হলেও বাঁচতে পারবে।
এব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃপাংশু শেখর বিশ^াস বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হয়েছে। পানবরজ, কলাক্ষেত, আম, লিচুসহ অন্যান্য ফসল যা রয়েছে তা সংরক্ষণ ও বিপণনের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও, মাঠে মাঠে গিয়ে কৃষকদের শান্তনা দেয়া হচ্ছে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft