শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
এসএসসিতে পাসের হার ৮৭.৩১ জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩৭৬৪ জন
সাত বছরের রেকর্ড ভেঙেছে যশোর বোর্ড
এম. আইউব :
Published : Monday, 1 June, 2020 at 12:39 AM
সাত বছরের রেকর্ড ভেঙেছে যশোর বোর্ডএবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এ সাত বছরের রেকর্ড ভেঙেছে যশোর শিক্ষাবোর্ড। গত সাত বছরের মধ্যে এসএসসিতে এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক জিপিএ-৫ পেয়েছে পরীক্ষার্থীরা। এবার যশোর বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার সাতশ’ ৬৪ জন। পাসের হার ৮৭.৩১ শতাংশ। যা গত বছরের তুলনায় ৩.৫৭ শতাংশ কম। যদিও এ বছর পরীক্ষার্থী গত বছরের চেয়ে ২২ হাজার কম ছিল। এ কারণে শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ পাসের হার কমেছে বলে মনে করছে না। বরং জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার গুণগত মান বেড়েছে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নয়টি সাধারণ বোর্ডের মধ্যে রাজশাহীতে পাসের হার ৯০.৩৭, ঢাকায় ৮২.৩৪, কুমিল্লায় ৮৫.২২, চট্টগ্রামে ৮৪.৭৫, সিলেটে ৭৮.৭৯, বরিশালে ৭৯.৭০, ময়মনসিংহে ৮০.১৩ ও দিনাজপুর বোর্ডে ৮২.৭৩ শতাংশ। এছাড়া, মাদ্রাসা বোর্ডে ৮২.৫১ ও কারিগরি বোর্ডে ৭২.৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। পাসের হারের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে রাজশাহী বোর্ড। গত বছরও এই বোর্ড শীর্ষে ছিল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাসের হার যশোর বোর্ডে।
২০২০ সালে যশোর শিক্ষাবোর্ড থেকে সর্বমোট এক লাখ ৬০ হাজার ছয়শ’ ৩৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ছাত্র ২০ হাজার ছয়শ’ দু’জন, ছাত্রী ১৬ হাজার চারশ’ ৪৪ জন, মানবিক বিভাগে ৪৪ হাজার তিনশ’ সাতজন ছাত্র ও ৫২ হাজার চারশ’ ৮১ জন ছাত্রী এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৫ হাজার চারশ’ ছাত্র ও ১১ হাজার চারশ’ একজন ছাত্রী ছিল। এদের মধ্যে ১৩ হাজার সাতশ’ ৭৪ জন জিপিএ-৫, ৪২ হাজার একশ’ আটজন জিপিএ-৪ থেকে ৫ এর নীচে, ৩৩ হাজার চারশ’ ছয়জন জিপিএ-৩.৫ থেকে ৪ এর নীচে,৩০ হাজার তিনশ’ ৭৪ জন জিপিএ-৩ থেকে ৩.৫ এর নীচে, ২০ হাজার দুশ’ ৩৯ জন জিপিএ-২ থেকে ৩ এর নীচে এবং তিনশ’ ৫২ জন জিপিএ-১ থেকে ২ এর নীচে পেয়েছে। এ বছর বহিষ্কার হয় ২৪ জন পরীক্ষার্থী। এদের মধ্যে ছাত্র ২২ ও ছাত্রী দু’জন ছিল।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ছয় হাজার তিনশ’ ৮৪ জন ছাত্র ও পাঁচ হাজার পাঁচশ’ ১৬ জন ছাত্রী, মানবিক বিভাগে দুশ’ ৩২ জন ছাত্র ও সাতশ’ ৮৬ জন ছাত্রী ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে তিনশ’ ৪০ জন ছাত্র ও পাঁচশ’ ছয়জন ছাত্রী রয়েছে।
বিগত চার বছরের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখাগেছে ২০১৭ সালে যশোর শিক্ষাবোর্ডে এসএসসিতে পাসের হার ছিল ৮০.০৪, ২০১৮ সালে ৭৬.৬৪, ২০১৯ সালে ৯০.৮৮ ও ২০২০ সালে ৮৭.৩১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পর্যালোচনা করে দেখাগেছে, ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ছিল ছয় হাজার চারশ’ ৬০ জন, ২০১৮ সালে নয় হাজার তিনশ’ ৯৫ জন, ২০১৯ সালে নয় হাজার নয়শ’ ৪৮ জন এবং ২০২০ সালে ১৩ হাজার সাতশ’ ৬৪ জন। শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৩ সালের পর এবারই সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পেয়েছে। এবছর শতভাগ পাস করেছে দুশ’ ৫০ টি বিদ্যালয় থেকে। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছিল দুশ’ ৭৫, ২০১৮ সালে ৭৩ ও ২০১৭ সালে একশ’ ৫০। এ বছর দু’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজনও পাস করতে পারেনি। ২০১৯ সালে এ রকম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল একটি, ২০১৮ সালে একটি এবং ২০১৭ সালে দু’টি।
জেলা অনুযায়ী পাসের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে সাতক্ষীরা। এ জেলা থেকে সর্বোচ্চ ৯৪.০৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। এছাড়া, খুলনায় ৯২.৬৬, বাগেরহাটে ৯০.৮৬, কুষ্টিয়ায় ৮০, চুয়াডাঙ্গায় ৮৬.৯৯, মেহেরপুরে ৭৮.৩০, যশোরে ৯০.০৪, নড়াইলে ৮৩.৯৫, ঝিনাইদহে ৮৩.৭৮ ও মাগুরায় ৮২.৩৪ শতাংশ পাস করেছে।
এ বছর ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে পরীক্ষা শুরু হয়। শেষ হয় ৫ মার্চ। অন্যান্য বছরের নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করার কথা ছিল শিক্ষাবোর্ডগুলোর। কিন্তু এবার সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দেয় প্রাণঘাতি করোনা। করোনাভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার কারণে সবকিছু একপ্রকার স্তব্ধ হয়ে যায়। যে কারণে এসএসসির ফল প্রকাশে ২৬ দিন দেরি হয়েছে। তারপরও এ বছর যে পদ্ধতিতে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে তাতে খুশি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। তারা বাড়িতে বসে মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পেরেছেন কোনো রকম বিড়ম্বনা ছাড়াই। ভিন্ন সময়ে ভিন্নভাবে ফলাফল জানতে পেরে সন্তুষ্ট তারা।
ফলাফল পাওয়ার ব্যাপারে কথা হয় আলমগীর সিদ্দিকী নামে একজন অভিভাবকের সাথে। তার ছেলে যশোর কালেক্টরেট স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তিনি মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে ফল পেয়ে খুবই খুশি। সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন শাহনাজ আক্তার নামে আরও একজন অভিভাবক।
ফলাফলের বিষয়ে কথা হয় যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্রের সাথে। তিনি বলেন, প্রশ্নব্যাংকের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পরীক্ষা গ্রহণ করার কারণে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক বইমুখি হয়েছে। যার ফল জিপিএ-৫ বৃদ্ধি পাওয়া। এটি মানসম্মত একটি ফলাফল। পাসের হার কমে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার ২২ হাজার পরীক্ষার্থী কম ছিল। সে হিসেবে যেটুকু কমেছে সেটি পাসের হারের দিক থেকে কম না। জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft