মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
দু’স্বাস্থ্যকর্মীসহ নতুন আক্রান্ত ৭ জন
চিকিৎসকসহ একদিনে যশোরে সর্বোচ্চ ১৬ জনের করোনা জয়
ফয়সল ইসলাম :
Published : Thursday, 4 June, 2020 at 11:20 PM
চিকিৎসকসহ একদিনে যশোরে সর্বোচ্চ ১৬ জনের করোনা জয়বৃহস্পতিবার যশোরে নতুন আরও সাতজনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এনিয়ে জেলায় রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল একশ’ ১৮ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে অভয়নগর উপজেলার এক নারী স্বাস্থ্যকর্মী ও তার স্বামীসহ তিনজন, বেনাপোল ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত একজন নারী স্বাস্থ্য সহকারীসহ শার্শা উপজেলার তিনজন ও ঝিকরগাছা উপজেলার একজন রয়েছেন। করোনা আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করে বাড়ি লকডাউন ও তাদের সংস্পর্শে আসাদের চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।  
এদিকে, বৃহস্পতিবার এযাবৎকালের মধ্যে যশোরে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী করোনা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ১৬ জন করোনা জয়ীদের মধ্যে রয়েছেন চারজন ডাক্তার ও তিনজন নার্সসহ নয়জন স্বাস্থ্যসেবী। এনিয়ে ১৬ জন ডাক্তার, নয়জন নার্স ও অন্যান্য ৩৫ জন স্বাস্থ্যসেবীসহ জেলায় করোনা জয়ীর সংখ্যা ৯৪ জন। সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহীন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকালে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারের ল্যাব থেকে ২৬টি নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া গেছে। তাতে নিশ্চিত করা হয়েছে তিনটি নমুনার রেজাল্ট পজেটিভ এসেছে। খুলনা মেডিকেল কলেজের ল্যাব থেকে ৩৪টি নমুনা পরীক্ষার রেজাল্ট দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে চারটি নমুনায় করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে। বাকি সব নেগেটিভ ফলাফল এসেছে।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার এস এম মাহমুদুর রহমান রিজভী বলেন, নতুন আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে একজন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) রয়েছেন। নারী ওই স্বাস্থ্যকর্মী (৩২) পায়রা বারান্দী কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত। তিনি বসবাস করেন নওয়াপাড়াতে। তার স্বামীও করোনাভাইরাসে সংক্রমিত। তাদের দু’জনকে নিজ বাড়ি লকডাউন করাসহ হোম আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিবারের অন্য ছয়জনকে কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
করোনায় আক্রান্ত আরেকজন আকিজ জুট মিলের এক নারী কর্মী (৫০)। তিনি বসবাস করেন চলিশিয়া ইউনিয়নের কোটা বিশ্বাসপাড়া গ্রামে। বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। বাড়িটি লকডাউন করে পরিবারের অন্য দু’সদস্যকে কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আক্রান্ত নারীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ইউসুফ হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবারের রিপোর্ট অনুযায়ী উপজেলায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিতদের মধ্যে রয়েছেন বেনাপোল ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্য বুথে কর্মরত একজন নারী স্বাস্থ্য সহকারী (৪৯)। তিনি বসবাস করেন দুর্গাপুর গ্রামে। বাড়ি লকডাউন করাসহ তাকে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার পরিবারের অন্য পাঁচ সদস্য ও ভাড়াটিয়া সাতজনকে কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
করোনায় কাহিল হয়েছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মসজিদের ইমাম (৫৫)। তিনি বসবাস করেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরের সরকারি কোয়ার্টারে। সম্প্রতি জ্বর, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তিনি যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ মে তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্যে পাঠানো হয়। রিপোর্ট আসার আগেই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হলে তিনি ৩ জুন শার্শায় ফিরে যান। ৪ জুন বৃহস্পতিবার রিপোর্টে তার নমুনা পরীক্ষার রেজাল্ট পজেটিভ বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। কোয়ার্টারেই তাকে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করাসহ পরিবারের অন্য চার সদস্যকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।
শার্শার নাভারণে ভাড়া বাড়িতে বসবাসকারী ও একটি ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ (২৮) করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। তাকেও হোম আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার বসবাসের বাড়িটিও লকডাউন করা হয়েছে।
ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রাশিদুল আলম নিশ্চিত করেছেন মুকুন্দপুর গ্রামের ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি কেশবপুর বেড়াতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ৩০ মে সেখানে নমুনা দিয়ে আসেন। ৪ জুন তার নমুনা পরীক্ষার রেজাল্ট পজেটিভ এসেছে। স্বাস্থ্য কর্মীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তাকে খুঁজে বের করে চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার করোনা জয়ীর স্বীকৃতি পাওয়া ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবীদের মধ্যে রয়েছেন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র যশোরের প্রসূতি ও গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আসাদুজ্জামান, চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নাহিদ সিরাজ, মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার আশরাফুর রহমান, যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ণ ডাক্তার মৌসুমী ভদ্র, মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সিং সুপারভাইজার ফিরোজা পারভীন, যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রেখা খাতুন, চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স বর্না মন্ডল, মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসেবী হোসেন আলী ও আনোয়ারা খাতুন।
যশোর ব²ব্যাধি হাসপাতালে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে চিকিৎসা নিয়ে করোনা জয়ী অন্যরা হলেন শহরের খড়কী পীরবাড়ি এলাকার রাজু আহমেদ (২২), সদর উপজেলার মন্ডলগাতী আদর্শপাড়ার কবির হোসেন (৬০) ও বকচর এলাকার নুর ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন (৩৫)। হোম আইসোলেশনে থেকে করোনা থেকে মুক্তি পেয়েছেন রূপদিয়ার ইব্রাহিম হোসেন (২৫), চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নাহিদ সিরাজের গৃহকর্মী সায়রা খাতুন (১৭), বাঘারপাড়ার পাঠান পাইকপাড়ার রোকেয়া (৬০) ও অভয়নগরের বুইকারা গ্রামের ইজিবাইক চালক জাহিদুল ইসলাম (৩৯)।
উল্লেখিত করোনা জয়ীদের মধ্যে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র যশোরের প্রসূতি ও গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আসাদুজ্জামান ও যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নাহিদ সিরাজকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোসহ মেডিকেল সার্টিফিকেট হস্তান্তর করেন সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহীন। অন্যান্যদের ফুলেল শুলেচ্ছাসহ মেডিকেল সার্টিফিকেট হস্তান্তর ও বাড়ি লকডাউনমুক্ত করেছেন স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।  




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft