শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
চালু হচ্ছে বিমানের যশোর-ঢাকা ফ্লাইট
ফয়সল ইসলাম :
Published : Sunday, 7 June, 2020 at 12:45 AM
চালু হচ্ছে বিমানের যশোর-ঢাকা ফ্লাইটকরোনা দুর্যোগের কারণে টানা আড়াই মাস বন্ধ থাকা যশোর-ঢাকা রুটে যাত্রীবাহী বিমান চলাচল পুণরায় চালু হতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে ফ্লাইটে ওঠার আগে যাত্রীদের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষার জন্যে যশোর বিমান বন্দরে একজন ডাক্তারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল টিম পদায়ন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
আজই স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিমান বন্দর পরিদর্শন করে মেডিকেল টিমের রোস্টার করা হবে। দু’শিফটে মেডিকেল টিমের সদস্যরা বিমান বন্দরে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্যে দায়িত্ব পালন করবেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহীন।
করোনার সংক্রমণের বিস্তার রোধে গত ২১ মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ আকাশপথে যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। গত পহেলা জুন থেকে সীমিত পরিসরে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দেশের সাতটি বিমান বন্দরের মধ্যে চারটিতে অর্থাৎ ঢাকা থেকে সৈয়দপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট আকাশপথে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয় বেবিচক। প্রাথমিকভাবে আসা-যাওয়া মিলিয়ে প্রতিদিন ৪৮টি ফ্লাইট চলতে পারবে বলে নিশ্চিত করে বেবিচক। কিন্তু যশোরসহ কক্সবাজার, রাজশাহী ও বরিশাল ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রাখা হয়েছে।
ফ্লাইট পরিচালনার পূর্ব প্রস্তুতি নিতে বিমান বন্দরগুলোতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিহত করার জন্যে থার্মাল স্ক্যানার, হস্তচালিত ইনফ্রায়েড থার্মোমিটারসহ অন্যান্য সুরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার, নার্স পদায়নের জন্যে বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর মো. খালিদ হোসেন গত ৭ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাছে একটি চিঠি পাঠান।
গত ১২ মে বেবিচকের চেয়ারম্যান বরাবর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ও লাইন ডাইরেক্টর (সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডাক্তার শাহনীলা ফেরদৌসী পাল্টা চিঠি দিয়ে জানান, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি-২০০৫ অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সিডিসি ‘আই এইচ আর মাইগ্রেশন হেলথ ও ইমাজিং- রি-ইমাজিং প্রোগ্রাম’ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, সমুদ্র বন্দর ও স্থল বন্দরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিহত করার জন্যে প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অভ্যন্তরীণ বিমান বন্দরগুলোতে সংক্রমণ প্রতিরোধকল্পে প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনাধীন আছে।
বিমান চলাচল স্বাভাবিক করতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিহতের জন্যে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহসহ ডাক্তার পদায়নের জন্যে সিভিল সার্জনের কাছে গত ৩০ মে চিঠি পাঠিয়েছেন যশোর বিমান বন্দরে ব্যবস্থাপক মাসুদুল হক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কিংবা স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে কোনো নির্দেশনা না পাওয়ায় তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহীন। তিনি ২ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা চেয়ে চিঠি পাঠান। খুলনা বিভাগী স্বাস্থ্য পরিচালকের সাথেও টেলিফোনিক বার্তায় নির্দেশনা চেয়েছেন সিভিল সার্জন। সেখান থেকে ইতিবাচক সাড়াও মিলেছে।
এদিকে, যশোর বিমান বন্দরের ব্যবস্থাপক মাসুদুল হক জানিয়েছেন বেবিচক থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা আসেনি বিমান বন্দর প্রস্তুত করার জন্যে। যে কোনো সময় নির্দেশনা আসতে পারে। তাই আগে থেকেই পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে যাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যে সিভিল সার্জনের কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ ডাক্তার পদায়নের জন্যে অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে, শনিবার অনুষ্ঠিত ‘করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটি’র সভায় যশোর-ঢাকা রুটে ফ্লাইট চালুর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে দ্রুত যশোর বিমান বন্দরে একটি মেডিকেল টিম নিয়োজিত করতে সিভিল সার্জনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন, যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার দিলীপ কুমার রায়, সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহীন, সেনাবাহিনীর পক্ষে লে. কর্ণেল নেয়ামুল হালিম খান, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, বিএমএ যশোরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার মাহমুদুল হাসান পান্নু, দপ্তর সম্পাদক ডাক্তার গোলাম মোর্তুজা ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার এবং মিডিয়া ফোকাল পার্সন ডাক্তার রেহেনেওয়াজ রনি।
সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহীন গ্রামের কাগজকে জানান, ‘করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটি সভায় যশোর বিমান বন্দরে মেডিকেল টিম পদায়নের ব্যাপারে আলোচনার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। ইতিবাচক সাড়াও পাওয়া গেছে। একজন মেডিকেল অফিসার, দু’জন উপসহকারী মেডিকেল অফিসার ও দু’জন স্বাস্থ্য সহকারীর সমন্বয়ে টিম গঠন করা হচ্ছে। যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত ব্যবস্থা দেখতে কালই (আজ) বিমান বন্দরে গিয়ে মেডিকেল টিমের রোস্টার তৈরি করা হবে। দু’শিফটে তারা দায়িত্ব পালন করবেন।’
উল্লেখ্য, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সব জেলার মানুষ রাজধানী ঢাকাতে যাতায়াতের জন্য যশোর বিমান বন্দর ব্যবহার করেন। যশোর-ঢাকা ও ঢাকা-যশোর রুটে প্রতিদিন সরকারি বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সেসরকারি সংস্থা ইউএস বাংলা ও নভোএয়ার প্রতিদিন ১০টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করতো। এতে দিনে গড়ে এক হাজারের বেশি যাত্রী যাতায়াতের সুযোগ পেতেন। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২৫ মার্চ দেশের সব এয়ারপোর্ট বন্ধ করে দেয়া হয়। সর্বশেষ গত ২৪ মার্চ যশোর বিমান বন্দরে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলেছে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft