শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
ভৈরবের মাটি নিয়ে বাণিজ্য
দেওয়ান মোর্শেদ আলম
Published : Saturday, 27 June, 2020 at 11:36 PM
ভৈরবের মাটি নিয়ে বাণিজ্যপানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে অন্ধকারে রেখে ভৈরব নদের মাটি নিয়ে যশোরের ডাকাতিয়া, নুরপুর, নওগাগ্রাম ও বারান্দীপাড়া এলাকায় চলছে ব্যাপক অর্থবাণিজ্য। নদ পাড়ে পাবলিকের পুকুর ডোবা এমনকি নিচু জমি ভরাট করার নামে কাাড়ি কাড়ি টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে।
স্থানীয় একটি অসাধু দালাল চক্রের মধ্যস্থতায় স্কেভেটর চালক ও পরিচালনাকারী এই অনৈতিকতা চালিয়ে যাচ্ছেন কয়েক মাস জুড়ে। যারা টাকা দিচ্ছেন তাদের মাটি দেয়া হচ্ছে। যারা টাকা দিচ্ছেন না তাদেরকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। মাটি নিয়ে অর্থ বাণিজ্যের ঘটনায় চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
যদিও পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলীর দাবি ওই এলাকার মাটি একেবারে ফ্রিতে, যে কেউ নিতে পারেন।
একেতো ঢিমে তালে চলছে ভৈরব নদ শহরের অংশ খনন কাজ। মামলা জাটিলতা, অবৈধ স্থাপনা, বর্ষা ঠিকাদারী সমস্যাসহ নানা জটিলতায় কাজ থামছে, আবার চলছে। এর মধ্যে শহরতলী অংশের কয়েকটি গ্রাম কেন্দ্রিক একটি অসাধু চক্র নদের মাটি নিয়ে শুরু করেছে টাকা কামানোর ব্যবসা। গ্রামের সহজ সরল মানুষকে বোকা বানিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। ডাকাদিয়া নুরপুর নওদা গ্রাম চষছে জসীম উদ্দিন-ইউনুস দালাল সিন্ডিকেট। তারা ওই এলাকার নদের স্কেভেটর চালক আলমগীর হোসেন ও সাইড দেখাশোনাকারী তুষার বাবু এবং মিজান নামে ৩ জনের মাধ্যমে মাটি বিক্রির ব্যবসা শুরু করেছেন। তবে এই মাটি বিক্রি ট্রাকে বা ভ্যানে করে নয়। রীতিমত স্কেভেটর মেশিনে মাটি তুলে চুক্তি অনুযায়ী ডোবা পুকুর ও নিচু জমি ভরাট করে দিচ্ছে।
বিগত কয়েক মাস জুড়ে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি করে ওই এলাকার নদ পাড়ের পাবলিকের বাড়ির পাশের পুকুর  ডোবা নিচু জমি ভরাট করছে এ চক্রটি। ডাকাতিয়া নুরপুরে আব্দুল ওহিদ, দবির আহমেদ, কাইউমসহ অনেককে ভুল বুঝিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে ভরাট করেছে। এছাড়া ওই এলাকার সোহেলের কাছ থেকে মাটি ভরাট করে দেয়ার নামে আগাম ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আরো ১০ হাজার টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী দালাল ইউনুস ও জসীম সিন্ডিকেট।
এদিকে টাকা না দেয়ায় সাবের আলী নামে এক বৃদ্ধের মাটি দেয়নি অসাধু চক্রটি। আর কারো বাড়ি বা জমি নদে বেধে গেছে, ভেঙে ফেলা হবে বলে বুলি আওড়িয়েও টাকা হাতাচ্ছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্কেভেটর পরিচালনাকারীরা। নওদা গ্রামের হাইফারের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে বেধে যাওয়া বাড়ি না ভাঙার শর্তে। এছাড়া  ডাকাতিয়ার রেজাউলের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাকে ‘সেইফ’ করেছে ওই চক্রটি।
এদিকে বারান্দীপাড়া এলাকায় নদে বালি উত্তোলন মেশিন বসিয়ে পাইপ লাগিয়ে নিচু জমি, পুকুর ও ডোবা ভরাট করা হচ্ছে। এলাকার কয়েক ডজন লোকের এ ধরণের জমি ভরাট করে ২০ লাখ টাকার মত বাণিজ্য করেছে অপর একটি অসাধু চক্র। এভাবে গত এক বছরে মোটা অংকের টাকার ব্যবসা করছে নদের মাটি পুঁজি করে। নদের মাটি পাাশের জমিওয়ালা এমনিতেই পাবেন এমন নিয়ম থাকলেও স্কেভেটর পরিচালনাকারী ও সাইড দেখাশোনাকারী দালাল চক্রের মাধ্যমে অর্থ বাণিজ্য করছে। এ নিয়ে এলাকায় চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা এর প্রতিকার দাবি করেছেন।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, উল্লেখিত স্পটগুলোর মাটি বিক্রির কোনো টেন্ডার হয়নি। কাউকে বিক্রি করার অনুমতিও দেয়া হয়নি। যে চক্রটি মানুষকে বোকা বানিয়ে ভরাটের নামে মাটি বিক্রি করছে বলে অভিযোগ আসছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নদ কাটতে বলা হয়েছে, কারো ডোবা, পুকুর নিচু জমি ভরাটের দায়িত্ব দেয়া হয়নি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। নদের মাটি ফ্রিতেও যে কেউ নিতে পারবে। যারা বিক্রি করছে বা যারা কিনছেন সবাই অন্যায় করছেন। মাটি বিকিকিনি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft