শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যমেক হাসপাতালে চালু হচ্ছে আইসিইউ
আজই আসছে ছয়টি ভেন্টিলেটর ও সমসংখ্যক বেড
ফয়সল ইসলাম :
Published : Sunday, 28 June, 2020 at 12:46 AM
যমেক হাসপাতালে চালু হচ্ছে আইসিইউকরোনা মহামারিতে আশঙ্কাজনক অবস্থার রোগীদের সর্বোন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে যশোরেই চালু হতে যাচ্ছে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)। যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ ওয়ার্ড চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ন্যাশনাল ইলেকট্রো মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ এন্ড ট্রেনিং সেন্টার (নিমিইউ এন্ড টিসি) থেকে প্রথম অবস্থায় ছয়টি বেড ও ছয়টি ভেন্টিলেটর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আজ রোববার সেগুলো যশোর পৌঁছাবে।
সরঞ্জামগুলো স্থাপনের জন্যে হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ড ইতোমধ্যে খালি করা হয়েছে। সেখানে আইসিইউ সুবিধা চালুর পাশাপাশি স্থাপন করা হবে কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন। কালক্ষেপণ না করেই গণপূর্ত বিভাগ ওয়ার্ডটির সাজসজ্জার কাজ করারও প্রস্তুতি নিয়েছে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার দিলীপ কুমার রায়।
যশোর জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ১২ এপ্রিল। করোনা সংক্রমণ রোধে গত ৩০ মে পর্যন্ত সরকারি সাধারণ ছুটি ছিল। ওইদিন পর্যন্ত যশোরে রোগীর সংখ্যা ছিল একশ’ জন। কোনো মৃত্যুর ঘটনা ছিল না। ৪ জুন থেকে হঠাৎ করেই রোগীর সংখ্যা দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গত ৬ জুন। মৃত ব্যক্তি অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া বিশিষ্ট শিল্পপতি মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন (৭৫)। ইতোমধ্যে যশোরে করোনার থাবায় ১০ জনের প্রাণ গেছে। শনাক্ত রোগীর সংখ্যা পাঁচশ’ ছাড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসেব অনুযায়ী ২৭ জুন শনিবার নতুন শনাক্ত হওয়া ৪২ জনসহ যশোর জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা পাঁচশ’ আটজন। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য রনজিত কুমার রায়সহ তার পরিবারের তিনজন, যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার দিলীপ কুমার রায়, তার স্ত্রী ও মেয়ে, অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার এসএম মাহমুদুর রহমান রিজভী, চৌগাছা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নাহিদ সিরাজ, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি সার্ভেলেন্স মেডিকেল অফিসারসহ ২২ জন ডাক্তার ও স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারী, সেনা কর্মকর্তা, পুলিশ-র‌্যাব সদস্য, ব্যাংকার এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বর্তমানে করোনা উপসর্গ থাকা রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসলে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যাদের আইসিইউ সাপোর্টের প্রয়োজন হচ্ছে তাদের খুলনা ও ঢাকায় রেফার্ড করা হচ্ছে। করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে গত ৩ মে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার দিলীপ কুমার রায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের কাছে লিখিত আবেদন করেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাইফ্লো অক্সিজেন প্লাণ্ট নির্মাণ ও  ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট চালু করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বরাদ্দ ও স্থাপনের জন্যে। এরই মধ্যে গত ২ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একনেক সভায় নির্দেশনা দেন প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ চালু করার। করোনা দুর্যোগ মোকাবেলায় মানুষের সঠিক সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্যে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের কর্মকর্তারা তৎপর রয়েছেন। ১১ জুন যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার দিলীপ কুমার রায়ের নমুনা পরীক্ষার রেজাল্ট পজেটিভ আসে। তিনি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট চালুর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বরাদ্দের জন্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ রক্ষা করেন। একইসাথে যশোরের সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহীনও তৎপর ছিলেন। তারই ফলশ্রুতিতে গত ২৩ ও ২৬ জুন পৃথক দু’টি পত্রের মাধ্যমে ন্যাশনাল ইলেকট্রো মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ এন্ড ট্রেনিং সেন্টার (নিমিইউ এন্ড টিসি) লিখিতভাবে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করেছে আইসিসিইউ বেড ও ভেন্টিলেটর বরাদ্দের বিষয়টি।
এদিকে গণপূর্ত বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট চালুর জন্যে একটি ওয়ার্ড সাজসজ্জার চাহিদা মোতাবেক সাড়ে নয় লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ২৮ জুন থেকেই কাজ শুরু হবে। ১৫ দিনের মধ্যে সাজসজ্জার কাজ শেষ করে ইউনিট চালুর জন্যে কর্তৃপক্ষের কাছে বুুঝিয়ে দেয়া হবে। এর জন্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
যশোরের সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহীন বলেন, শুধু করোনা দুর্যোগ নয়, অন্যান্য সময়েও সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ না থাকায় গুরুতর রোগীদের খুলনা কিংবা ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ চেষ্টায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যশোরে সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট চালু হতে যাচ্ছে। এতে মানুষের উন্নত চিকিৎসার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার দিলীপ কুমার রায় জানিয়েছেন, সরকারি সিদ্ধান্তে জাতীয় নাক কান গলা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মেরামতকৃত ছয়টি আইসিইউ ভেন্টিলেটর বরাদ্দ পাওয়া গেছে। একই সাথে ছয়টি বেড বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, হাইফ্লো সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লাণ্ট নতুন করে নির্মিত হবে না। করোনারি কেয়ার ইউনিটে আগে থেকে প্লাণ্ট নির্মিত আছে। সেটি অব্যবহৃত থাকায় কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটি মেরামত করে লাইন সম্প্রসারণের মাধ্যমে আইসিইউ ইউনিটে সংযোগ দেয়া হবে। প্রথম অবস্থায় ভেন্টিলেটর ও বেড আসছে। পর্যায়ক্রমে পালস্ অক্সিমিটার, এপিজি অ্যানালাইজারসহ অন্যান্য সরঞ্জামও চলে আসবে। আইসিইউ ইউনিটের সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখার জন্যে আলাদা প্যাথলজিক্যাল ল্যাব স্থাপনেরও প্রস্তাবনা দেয়া হবে। নতুন করে জনবল নিয়োগ বা পদায়ন না হলেও কর্মরত ডাক্তার, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবীদের ঢাকা থেকে প্রশিক্ষক এনে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করে আইসিইউ ইউনিট চালু করা হবে।
এটির তত্ত্বাবধানে থাকবেন অ্যানেসথেশিওলজি বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার এএইচএম আহসান হাবীব। বিভাগটিতে ছয়জন ডাক্তার নিয়োগপ্রাপ্ত আছেন। দুর্যোগকালীন অবস্থা তারা মোকাবেলা করতে সক্ষম। আশা করা যায় আইসিইউ ইউনিট চালু হলে শতভাগ সুফল রোগীরা ভোগ করতে পারবে। একইসাথে কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিনেরও চাহিদাপত্র দেয়া আছে। আসছে অর্থ বছরের মধ্যে সেটিও চলে আসবে। স্বল্প খরচে সরকারি ব্যবস্থাপনায় জনগণ ডায়ালাইসিসের সুবিধাও নিতে পারবেন।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft