শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২০
মতামত
প্যারিসের জানালা দিয়ে দেখি মধুসূদনকে
সুকুমার দাস :
Published : Tuesday, 30 June, 2020 at 12:17 AM
প্যারিসের জানালা দিয়ে দেখি মধুসূদনকেবিদ্যাসাগর মহাশয়কে প্রথম চিঠি লেখার পর ২ আগষ্ট ১৮৬৪তে যখন ৬ষ্ঠ চিঠি লেখেন সে সময় হেনরিয়েটার সন্তান প্রসবের মাত্র দু-চার দিন বাকি, হাতে মোটে ২০ ফ্রাঁ।এ চিঠি লেখার পরদিন অর্থাৎ ৩ আগষ্ট তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়, সন্তানটি জন্মের পর পরই মারা যায়। ১৮ আগষ্ট আবার লিখলেন বিদ্যাসাগরকে- ‘সন্তান ভূমিষ্ট হয়েই মারা গ্যাছে। হাতে একটি পয়সাও নেই, এই চিঠি পাঠানোর জন্য যে ডাক টিকিট তাও কেনা হয়েছে বন্ধকী দোকান থেকে টাকা জোগাড় করে। আমার স্ত্রী ও আমার বিশ্বাস, নিশ্চয়ই ইতোমধ্যে আপনি টাকা পাঠিয়েছেন সাথে চিঠি এবং আগামী ডাকে তা আমরা পাবো’। সত্যি সে আশা পূরণ হয়েছিল। ২৮ তারিখ ১৫০০ টাকা পেলেন চিঠি সহ। তখন কবির হাতে ছিল মাত্র তিন ফ্রাঁ, যার মূল্য এক টাকা।
এদিকে কবির বাড়ীর পাশেই মেলা বসেছে। সেখানে ভবনের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা মেলায় যাচ্ছে দেখে কবি পুত্র মিলটন ও কন্যা শর্মিষ্ঠা বায়না ধরলো মেলায় যাবার। কবি পতড়বী এ কথা জানালে তিনি বললেন ‘চিন্তা করো না, আজকের ডাকেই বিদ্যাসাগর মহাশয়ের নিকট থেকে টাকা পাওয়া যাবে’। সত্যিই তাই হলো। তিনি টাকা পেলেন আর সন্তানরা মেলাতে গেলো। বিদ্যাসাগরের কাছ থেকে টাকা পেয়ে তিনি কতটা খুশি হয়েছিলেন তা দেখা যায় তার পরবর্তী চিঠিতে, তিনি লিখলেন- ‘আমার মহান, আমার বিখ্যাত, আমার সত্যিকার বন্ধু, আপনাকে কি বলে যে ধন্যবাদ জানাবো’। শত ঝামেলা-সমস্যা মাথায় নিয়ে কবি ফ্রান্সে থাকলেও লেখালেখি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি।১৮৬৪’র ডিসেম্বরে তৃতীয় কিস্তির টাকা পাওয়ায় সংসারে তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ ফিরে আসায় ৬ হাজার মাইল দূরে ফেলে আসা মাতৃভূমির জন্য তার সমস্ত হৃদয় আকুল হয়ে ওঠে। পরিবেশ সামান্য অনুকূল হওয়ার সাথে সাথে তিনি একের পর এক সনেট লিখতে শুরু করেন। ‘কপোতাক্ষ নদ’সহ অসংখ্য সনেট তিনি এ সময় রচনা করেন।
দীর্ঘ আড়াই বছর ভার্সাই নগরীতে থাকবার পর ১৮৬৫’র সেপ্টেম্বরে পরিবার নিয়ে লন্ডনে ফিরে আসেন। ১৮৬৬’র ১৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতে মধু কবির ডাক পড়ে গ্রেজ ইন সোসাইটির বারে। সেদিন বাংলার মহাকবিকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ব্যারিষ্টার হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। এরপর স্বল্প কিছুদিন কবি লন্ডনে ছিলেন।১৮৬৭ সালের জানুয়ারি মাসের ১ম সপ্তাহে পরিবারের সদস্যদের লন্ডনে রেখে তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন। শুরুতেই বলেছিলাম স্বল্প আয়ু:স্কালে কবির বাল্য-কিশোর জীবন, মাদ্রাজ পর্ব, এরপর কলকাতা, লন্ডন-ফ্রান্স আবার কলকাতার জীবন বৈচিত্র্যময় ও নাটকীয়তায় ভরা।
 সুতরাং কবির প্রত্যেকটি অংশ নিয়ে আলাদা করে লিখলেও শেষ করা যাবে না কবির অমর কীর্তি। ১৯৯৬ সাল থেকে কবির রচনা, জীবনী চর্চা করছি তাকে গভীরভাবে জানা-বোঝার জন্য। আমি তার সনেট, ব্রজঙ্গনা কাব্য, বিভিনড়ব নাটকের গান নিয়ে কাজ করে চলেছি,ফলে তাকে সঠিক ভাবে না জানলে কাজটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। এজন্য আমি আমার সঙ্গীত গুরু প্রয়াত শাহ্ মোহাম্মদ মোর্শেদ হীরা ভাই এর নিকট ঋনী। তারই অনুপ্রেরণায় আমি এ কাজ করে চলেছি। তিনি যশোর তথা এই উপমহাদেশে মধুসূদনের রচনা সুরারোপ করে মানুষের মাঝে পৌঁছে দিয়েছেন। আমি তার পথ ধরে এগিয়ে চলেছি, জানিনা কতদূর যেতে পারবো। কবির অন্যান্য বিষয় নিয়ে ভবিষ্যতে লেখার ইচ্ছা রইল।

লেখক: সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft