শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোরে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫৫৫, নতুন দু’জনসহ মারা গেছেন ১২জন
ফয়সল ইসলাম
Published : Tuesday, 30 June, 2020 at 1:03 AM
যশোরে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫৫৫, নতুন দু’জনসহ মারা গেছেন ১২জনযশোরে করোনায় প্রাণ হারানোর তালিকায় আরও দু’টি নাম যুক্ত হলো। ২৯জুন সোমবার বিকেল চারটা ২০মিনিটে করোনা ডেডিকেটেড জিডিএল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন লুৎফর রহমান (৮২) নামে এক ব্যক্তি। বিমান বাহিনীর সাবেক এ কর্মকর্তা উপশহর ই-ব্লকের বাসিন্দা। করোনার কাছে পরাজিত হয়ে পরপারে যাওয়া অপর ব্যক্তির নাম শামীমুর রহমান (৪০)। তিনি শহরের পুরাতন কসবা কাজীপাড়া আমতলা এলাকার বাসিন্দা।
তিনি চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকার অতিপরিচিত মুখ ও মেসার্স আনোয়ারা ফার্মার স্বত্বাধিকারী ছিলেন। করোনা সংক্রমণের বিভিন্ন উপসর্গ থাকায় গত ২৬জুন শুক্রবার সকালে শামীমুরকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্যে ওইদনিই তাকে খুলনার বেসরকারি গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান। ২৯জুন তার নমুনা পরীক্ষার রেজাল্ট পজিটিভ এসেছে।
নতুন দু’জনসহ করোনায় সংক্রমিত হয়ে জেলায় মৃত্যুবরণকারীর সংখ্যা দাঁড়ালো ১২জন। কিন্তু যশোর স্বাস্থ্য বিভাগ তালিকাভুক্ত করেছে ১০জনের নাম। স্বাস্থ্য বিভাগের দাবি, করোনায় আক্রান্ত হয়ে অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ার বাসিন্দা সাবেক ফুটবলার ও সাংবাদিক বেলাল হোসেন (৫৩) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গত ২৩জুন দিবাগত রাতে। ফলে তার নামটি ঢাকায় মৃত্যুবরণকারীদের তালিকাভুক্ত হয়েছে। শার্শা উপজেলার হরিশচন্দ্রপুর গ্রামের ইয়াকুব আলী (৫৫) নামে এক ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতে মারা জুন ১১জুন রাতে। তিনিও ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। যশোর স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে তার বিষয়েও সু-নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।
এদিকে, গত ২৪ ঘন্টায় (২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে ২৯ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত) যশোরে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩৯জন। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার বাসিন্দা রয়েছেন ২৭জন। এছাড়াও শার্শার ও কেশবপুর উপজেলার পাঁচজন করে ও চৌগাছা উপজেলা দু'জন বাসিন্দা রয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসেব মতে ২৯জুন নতুন শনাক্ত হওয়া ৩৯জনসহ জেলায় করোনায় আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা পাঁচশ’ ৫৫জন। আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতাল আইসোলেশনে ৩২জন এবং হোম আইসোলেশনে তিনশ’ ৩৯জন মোট তিনশ’ ৭১জন চিকিৎসাধীন আছেন। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর নতুন সাতজনসহ করোনা জয়ী অর্থাৎ সুস্থ হয়েছেন একশ’ ৭১জন। সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহীন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারের ল্যাব থেকে একশ’ ৪২টি নমুনা পরীক্ষা করে নতুন ৪২টিতে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে মর্মে ২৯ জুন সোমবার সকালে রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। পজিটিভ রেজাল্ট আসা নমুনাগুলোর মধ্যে আগে আক্রান্ত হওয়া তিনজন রয়েছেন। ফলে নতুন শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৩৯জন। তিনটি নমুনা পরীক্ষার অনুপোযোগী ছিল। পুনরায় তাদের নমুনা সংগ্রহ করার অনুরোধ করা হয়েছে। ৯৭টি নমুনা পরীক্ষার রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে।
সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার আদনান ইমতিয়াজ জানিয়েছেন, ২৯জুন নতুন শনাক্ত হওয়া করোনা রোগীর মধ্যে রয়েছেন ডাক্তারের স্ত্রী-সন্তান, নার্স, স্বাস্থ্যসেবী, ব্যাংকার, পুলিশ সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।  
আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন গত ২০জুন শনাক্ত হওয়া ডেন্টাল সার্জন ডাক্তার বিধান কুষ্ণ সাহার স্ত্রী (৩২) ও ছেলে (১১)। তারা বসবাস করেন ঘোপ সেন্ট্রাল রোড এলাকায়। যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে ইনচার্জ ও সিনিয়র স্টাফ নার্স (৩২), তার বোন ও হাসপাতালের আয়া (৫২) এবং আয়ার ছেলে (৩০) করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। তারা হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাস করেন। উল্লেখিতরা হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন আছেন।
আক্রান্ত অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন, যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (খ-সার্কেল) শাশুড়ি (৫১), বোলপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পুরুষ অফিস সহকারী (৩২), যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক ওয়ার্ড বয়ের স্ত্রী (২০), বেজপাড়া পূজার মাঠ এলাকার বাসিন্দা একই পরিবারের ৭১ বছর বয়সী পুরুষ, ৬৫ ও ৫৫ বছর বয়সী দু’নারী। বেজপাড়া নলডাঙ্গা রোড এলাকার এক যুবক (২৬), ষষ্ঠীতলা পাড়ার বাসিন্দা বৃদ্ধ (৬০) ও তার স্ত্রী (৫০), রেল স্টেশন এলাকার এক নারী (৪৩), নাজির শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা ও আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকের পুরুষ কর্মকর্তা (৩৬), উপশহর বি-ব্লক এলাকার বাসিন্দা এক বৃদ্ধা (৮০), কিসমত নওয়াপাড়ার বাসিন্দা ও ইসলামী ব্যাংকের পুরুষ কর্মকর্তা (৩৬) ঝুমঝুমপুর এলাকার বাসিন্দা এক যুবক (২১), অপর যুবক (১৭), পুলিশের পুরুষ কনস্টেবল (২২),  আরবপুর ইউনিয়নের ভেকুটিয়া কারিগর পাড়ার এক নারী (৩৫), চুড়ামনকাটি ছাতিয়ানতলা গ্রামের একজন পুরুষ (৩৫)। কেশবপুরের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের একজন পুরুষ (৩৫) ও বাঘারপাড়ার রায়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা এক পুরুষ (৩৮) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারা কর্মসূত্রে যশোর শহরে থাকেন। সংক্রমিত হওয়া সন্দেহে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা করতে দিয়েছিলেন। নমুনা পরীক্ষার রেজাল্ট পজিটিভ আসার খবর পেয়ে তারা স্থায়ী ঠিকানায় অবস্থান করছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়াও গৌতম সাহা (৫৫) নামে এক ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ এসেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের লোকজন তার কোনো সন্ধান করতে পারেনি। নমুনা দেয়ার সময় নির্ধারিত ফরমে উল্লেখ করা মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
ডাক্তার আদনান আরও বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে পুলিশ সদস্য, ঝুমঝুমপুরে এক যুবক ও হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়ের স্ত্রীকে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে অর্থাৎ জিডিএল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের বাড়িতে রেখে চিকিৎসা করানো সম্ভব না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সাথে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকির হোসেনের নেতৃত্বে অন্যান্য আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করাসহ তাদের সংস্পর্শে আসা সহকর্মী ও পরিবারের স্বজনদের চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। একই সাথে আক্রান্তদের বসবাসের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ইউসুফ আলী বলেন, উপজেলায় নতুন আরও পাঁচজন করোনায় সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন শার্শা উপজেলা ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের পুরুষ কর্মী (৩০), উলাশী খাজুরা গ্রামের এক বৃদ্ধ (৬৫), নাভারণের এক বৃদ্ধ (৬০), বেনাপোলের বাসিন্দা এক বৃদ্ধ (৬২) ও এক যুবক (২৫)। আক্রান্ত নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসাধীর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আলমগীর হোসেন বলেন, উপজেলায় নতুন আক্রান্ত পাঁচজনের মধ্যে মধু সড়কের বাসিন্দা ও একই পরিবারের তিনজন সদস্য রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন ৫৭ বছর বয়সী পুরুষসহ তার মেয়ে (২৪) ও ছেলে (১৭)। অপর দু’জনের মধ্যে কলেজ পাড়ার বাসিন্দা ও নারী এনজিও কর্মী (২৪) ও বায়সা গ্রামের এক যুবক (২৩)। তারা হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন আছেন।
চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার লুৎফুন্নার বলেন, নতুন শনাক্ত হওয়া করোনা আক্রান্ত দু’জনের মধ্যে পাঁচনামনা গ্রামের একজন পুরুষ (৩৯) ও মাঠ চাকলা গ্রামের এক যুবক (২৮)।আক্রান্তদের নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চৌগাছা উপজেলায় ২৯জুন নতুন দু’জনসহ মোট করোনা শনাক্ত রোগী ৩১ জন। তাদের মধ্যে ১৬ জন সুস্থ হয়েছেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ও মিডিয়া ফোকাল পার্সন ডাক্তার রেহেনেওয়াজ রনি জানিয়েছেন, গত ১০ মার্চ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার আটটি উপজেলা থেকে করোনা সংক্রমিত সন্দেহভাজন চার হাজার পাঁচশ’ পাঁচ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্যে ঢাকার আইইডিসিআর, খুলনা মেডিকেল কলেজ ও যবিপ্রবি’র ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে চার হাজার ২৭টি নমুনার রিপোর্ট এসেছে।
এদিকে, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারের ল্যাবে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত সন্দেহভাজনদের নমুনা পরীক্ষণ দলের সদস্য এবং এনএফটি বিভাগের চেয়ারম্যান ডক্টর শিরিন নিগার জানিয়েছেন, ২৮ জুন দিবাগত রাতে যশোরের একশ’ ৪২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪২ জনের, মাগুরার ৪২ জনের মধ্যে ১১ জনের, বাগেরহাটের ৬৩ জনের মধ্যে সাত জনের ও সাতক্ষীরার ৩০ জনের মধ্যে ৯ জনের নমুনার রেজাল্ট পজিটিভ পাওয়া গেছে।
অর্থাৎ যবিপ্রবির ল্যাবে মোট দু’শ’ ৭৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৬৯ জনের করোনা পজিটিভ এবং দু’শ’ আটজনের নেগেটিভ ফলাফল এসেছে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft