শনিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোরে করোনা আক্রান্ত সাতশ’ ছাড়াল
একদিনে সর্বোচ্চ ৫৯ জন শনাক্ত
ফয়সল ইসলাম
Published : Thursday, 2 July, 2020 at 11:14 PM
যশোরে করোনা আক্রান্ত সাতশ’ ছাড়ালসাতশ’ ছাড়িয়েছে যশোরে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। জেলায় একদিনে অতীতের দু’টি রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ ৫৯ জন করোনা সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন বৃহম্পতিবার। সর্বশেষ ২৪ জুন ৪৬ জন শনাক্ত হয়েছিলেন। বর্তমানে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সাতশ’ দু’জন।
নতুন আক্রান্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়েছেন জনপ্রতিনিধি, ডাক্তার, নার্স, পুলিশ, র‌্যাব, ব্যাংকার, স্বাস্থ্যসেবী, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থী। আক্রান্তদের মধ্যে আইসোলেশনে আছেন মোট চারশ’ ৪৭ জন। এর মধ্যে হাসপাতাল আইসোলেশনে ৪২ জন এবং হোম আইসোলেশনে চারশ’ পাঁচজন রয়েছেন। ইতোমধ্যে করোনাকে জয় করে সুস্থ জীবনে ফিরে গেছেন দু'শ’ ৪০ জন। প্রাণ হারিয়েছেন ১৪  জন।
সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহীন জানিয়েছেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারের ল্যাবে দু’শ’ ৪১ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট বৃহস্পতিবার দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬২ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষার রেজাল্ট নিশ্চিত হতে না পারায় সাতজনের নমুনা পুণরায় সংগ্রহের অনুরোধ করা হয়েছে। আটজনের নাম দু’বার লিপিবদ্ধ হয়েছে। টিউবে নমুনা পাওয়া যায়নি চারজনের। আগে আক্রান্ত পাঁচজনের নমুনা পুনঃপরীক্ষায়ও পজিটিভ রেজাল্ট এসেছে। এছাড়াও মাগুরার এক বাসিন্দার নমুনায় করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে। ফলে ওই রিপোর্টটি মাগুরা জেলার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ যশোর জেলার দু’শ’ ১৬টি নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৫৯ জন।  একশ’ ৫৭ জনের নমুনা পরীক্ষার রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে।
নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার বাসিন্দা ৩৩ জন। তার মধ্যে ২৫ জনই পৌরসভার বাসিন্দা। অন্যদের মধ্যে ফতেপুর, হৈবতপুর, নওয়াপাড়া, আরবপুর ইউনিয়নের একজন করে এবং চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের দু’জন বাসিন্দা রয়েছেন। দু’জন রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মণিরামপুর উপজেলায় সাতজন, অভয়নগরে ছয়জন, শার্শায় পাঁচজন, কেশবপুরে চারজন, চৌগাছায় দু’জন, ঝিকরগাছা ও বাঘারপাড়া উপজেলায় একজন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা প্রশাসনের সহযোগিতায় নতুন আক্রান্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণ, তাদের সংস্পর্শে আসাদের কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা ও বসবাসের বাড়ি লকডাউন করেছেন।
সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার এএনএম নাসিম ফেরদৌস বলেন, বৃহস্পতিবার সদর উপজেলায় নতুন শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে দু’জনের হদিস করা সম্ভব হয়নি। হাফিজুর (৫৬) ও মোসলেম আলী (৬০) নামে দু’জন যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফ্লু-কর্ণারে নমুনা দিয়েছিলেন। নির্ধারিত ফরমে তারা ঠিকানা উল্লেখ করেননি। যে মোবাইল নম্বর দিয়েছেন তাতেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। নমুনা পরীক্ষার রেজাল্ট পজিটিভ আসায় তাদের চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের লোকজনের সব উদ্যোগ ভেস্তে গেছে। কোনোভাবে তাদের সন্ধান করা যায়নি। লিখিতভাবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগে অবহিত করা হয়েছে।  
ডাক্তার নাসিম নিশ্চিত করেছেন, যশোরের সাবেক সিভিল সার্জন ও আদ-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাক্তার সালাহ উদ্দিন খান (৬৬), তার স্ত্রী (৪৪) ও মেডিকেল কলেজে পড়ুয়া মেয়ে (২২) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারা পুরাতন কসবা আবু তালেব সড়ক এলাকায় বসবাস করেন।
আক্রান্ত অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন র‌্যাব-৬ যশোরের তিনজন পুরুষ সদস্য। তাদের বয়স যথাক্রমে ৫৫, ৩৩ ও ৩৪ বছর। ৪০ বছর ও ৫০ বছর বয়সী দু’জন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য। পুরুষ পুলিশ সদস্য (৫৫), নারী পুলিশ সদস্য (২৫), ব্র্যাক ব্যাংক যশোর শাখার ৩৪ ও ৪১ বছর বয়সী দু’জন পুরুষ কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে একজন কেশবলাল সড়কে ও অপরজন পূর্ববারান্দীপাড়ায় বসবাস করেন। পূর্ববারান্দী মাঠপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী যুবক (২৮), বেজপাড়া পূজার মাঠ এলাকার বাসিন্দা ও যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স (৩৩), রেল রোড এলাকার বাসিন্দা ও ইসলামী ব্যাংক যশোর শাখার পুরুষ কর্মী (৩৪), পোস্ট অফিস পাড়ার বাসিন্দা ও বিআরডিবি’র নারী কর্মকর্তা (৫৩), চাঁচড়া রায়পাড়ার ব্যবসায়ী (৫৫), ঘোপ নওয়াপাড়া রোড এলাকার এক নারী (৪০), একই এলাকার পুরুষ ফার্মাসিস্ট (৫১), শহীদ মশিউর রহমান সড়ক এলাকার ডাক্তার আবু বাশার (৪৬), যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের এক পুরুষ রক্ষী (২২), বেজপাড়া সাদেক দারোগার মোড় এলাকার ব্যবসায়ী (৫০), পূর্ব বারান্দী ফুলতলা এলাকার বাসিন্দা ও সমাজসেবা অফিসের পুরুষ কর্মী (৫৭), সার্কিট হাউজ পাড়ার বাসিন্দা ও বাঘারপাড়ার ভিটেবল্লা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (২৯), বেজপাড়া রানার অফিস এলাকার এক যুবক (৩১), ফতেপুর ইউনিয়নের ঝুমঝুমপুর এলাকার বাসিন্দা ও সোনালী ব্যাংক প্রিন্সিপ্যাল ব্যাংকের পুরুষ কর্মী (৩৩), হৈবতপুর ইউনিয়নের বেনেয়ালী গ্রামের এক বৃদ্ধ (৬০), নওয়াপাড়া ইউনিয়নের বাহাদুরপুর দক্ষিণপাড়ার এক শিক্ষার্থী (২৫), আরবপুর ইউনিয়নের দর্গাপুর গ্রামের এক যুবক (৩০), চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের দোগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও চৌগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ অফিস সহকারী (৩০) ও একই গ্রামের অপর এক পুরুষ (৫০)।
উল্লেখিত রোগীদের মধ্যে চার পুলিশ সদস্য ও সমাজসেবা অফিসের কর্মী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের সংস্পর্শে আসা সহকর্মী ও পরিবারের স্বজনদের চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। একইসাথে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকির হোসেনের নেতৃত্বে আক্রান্তদের বসবাসের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।
মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার শুভ্রা দেবনাথ বলেন, উপজেলায় নতুন শনাক্ত হওয়া সাতজনের মধ্যে রয়েছেন তাহেরপুর গ্রামের বাসিন্দা ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের নারী কর্মী (৪২), জুড়নপুর গ্রামের এক পুরুষ (৪৫), পাতনগ্রামের এক বৃদ্ধ (৬৫), উত্তর লাউড়ী গ্রামের এক যুবক (২৯), হাকুবা গ্রামের এক বৃদ্ধ (৫৯), খানপুর গ্রামের এক ব্যক্তি (৫৫) ও কামালপুর গ্রামের বাসিন্দা ও পল্লী বিদ্যুতের পুরুষ কর্মী (৪২)।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার এ এস এম মাহমুদুর রহমান রিজভী বলেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান তারুসহ ছয়জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তিনি গুয়াখোলা এলাকায় বসবাস করেন। আক্রান্ত অন্য পাঁচজনের মধ্যে রয়েছেন গুয়াখোলা এলাকার দু’জন ১৬ বছর বয়সী কিশোরী, ২৩ বছর বয়সী নারী ও ২৮ বছর বয়সী যুবক। অপরজন বেঙ্গল গেট এলাকার এক যুবক (২৯)।   
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ইউসুফ আলী বলেন, নতুন আক্রান্ত পাঁচজনের মধ্যে রয়েছেন কায়বা গ্রামের বাসিন্দা ও পুরুষ মেডিকেল টেকনোলিজস্ট (২১), বড়আঁচড়া গ্রামের এক নারী (৩৫) ও তার ছেলে (১৪)। তারা নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছেন। আক্রান্ত অপর দু’জন পুটখালী ইউনিয়নের খুলশী গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষক (৩৮), তার স্ত্রী ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মী (৩৩)। তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাতে যশোর ব²ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আলমগীর হোসেন বলেন, নতুন শনাক্ত হওয়া চারজনই পুরুষ। তাদের মধ্যে সাবদিয়া গ্রামের তিনজন। তাদের বয়স যথাক্রমে ৫৫, ৪৩ ও ৪০ বছর। অপরজন পাজিয়া গ্রামের এক যুবক (২৪)।
চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার লুৎফুন্নাহার বলেন, নতুন করে শনাক্ত হওয়া দু’জন করোনা রোগীর মধ্যে একজন পুরুষ উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (৫৫) ও অপরজন মাশিলা কাকুড়িয়া গ্রামের এক যুবক (২৭)।
বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার শরিফুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের সামনে বসবাসকারী এক ওষুধ ব্যবসায়ী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তার বয়স ৩৮ বছর। নিজ বাড়িতে তিনি আইসোলেশনে আছেন।
ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার রাশিদুল আলম বলেন, উপজেলায় নতুন করে একজন রোগীর সন্ধান মিলেছে। তিনি নাভারণ শরিফপুর গ্রামের এক বৃদ্ধ (৬০)। করোনা উপসর্গ থাকায় শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দিয়েছিলেন। তার অবস্থা গুরুতর নয়। একারণে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ও মিডিয়া ফোকাল পার্সন ডাক্তার রেহেনেওয়াজ রনি জানিয়েছেন, গত ১০ মার্চ থেকে ২ জুন পর্যন্ত যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার আটটি উপজেলা থেকে করোনা সংক্রমিত সন্দেহভাজন পাঁচ হাজার একশ’ ৩২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্যে ঢাকার আইইডিসিআর, খুলনা মেডিকেল কলেজ ও যবিপ্রবি’র ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে চার হাজার চার’শ’ ৭৮টি নমুনার রিপোর্ট এসেছে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft