শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড যশোরে
গরমে হাঁসফাঁস প্রাণিকূলে
এম. আইউব
Published : Friday, 3 July, 2020 at 11:40 PM
গরমে হাঁসফাঁস প্রাণিকূলে শুক্রবার সারাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে। এদিন এখানে তাপমাত্রা ছিল ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জুলাই মাসের শুরুতে যশোরে তাপমাত্রার তেমন কোনো হেরফের হচ্ছে না। প্রচণ্ড গরমে প্রাণিকূলে হাঁসফাঁস অবস্থা বিরাজ করছে। গরমের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে, বেশিরভাগ মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। অধিকাংশ মানুষ বাতাসের সন্ধানে ব্যস্ত।
যশোর আবহাওয়া অফিস থেকে পাওয়া গত চারদিনের তথ্যে দেখা গেছে, তাপমাত্রা প্রায় একই রকম আছে। জুন মাসের শেষ দিনে যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন সর্বনিম্ন ছিল ২৬.৮ ডিগ্রি। জুলাইয়ের প্রথম দিন থেকে তাপমাত্রা রূপ পরিবর্তন করে। পহেলা জুলাই যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন ছিল ২৮.৪ ডিগ্রি। ২ জুলাই তাপমাত্রা সামান্য কমে দাঁড়ায় ৩৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.৮ ডিগ্রি। আর শুক্রবার ৩ জুলাই সন্ধ্যায় যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৮ ডিগ্রি। এদিন সারাদেশের মধ্যে যশোরেই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
আবহাওয়া অফিসের সাথে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের এই সময়ে যশোরে এতবেশি তাপমাত্রা ছিল না। এ বছর তাপমাত্রা সাংঘাতিকভাবে বেড়েছে। কেবল বাড়েইনি, শুক্রবার সারাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরেই। এখানে রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে। এখানে তাপমাত্রা ছিল ২৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
প্রচণ্ড গরমে যশোরসহ আশপাশের মানুষের মধ্যে চরম অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। অনেকেই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। আতঙ্কগ্রস্ত মানুষের ভয় হিটস্ট্রোক হয় কিনা। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক মানুষ আপাতত প্রাতভ্রমণ বন্ধ করেছেন। ভয় একটিই গরমে কোনো ধরনের অঘটন ঘটে কিনা। এমন একজন শফিউল আলম। তার বয়স ষাটের কাছাকাছি। রয়েছে ডায়াবেটিস। এ কারণে প্রতিদিন হাঁটা তার জন্যে বাধ্যতামূলক। তিনি অধিকাংশ দিন যশোর বিমানবন্দর সড়কে হাঁটতে যান। শফিউল আলমের বক্তব্য, কয়েকদিন ধরে যে পরিমাণ গরম পড়ছে তাতে করে সকালে হাঁটাহাঁটি আপাতত বন্ধ করেছি। গরম কমলে হাঁটতে যাবো। তিনি জানিয়েছেন, তারা একসাথে যে ক’জন হাঁটাহাঁটি করেন সবাই বন্ধ করেছেন।
গরমের কারণে বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই। বিশেষ করে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশু এবং বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি। রফিকুল ইসলাম নামে একজন গ্রাম্য চিকিৎসক এ কথা জানিয়েছেন। গরমে নাভিশ্বাস ওঠা বেশিরভাগ মানুষ ট্যাংকিতে আগে থেকে তোলা পানি দিয়ে গোসল করছেন না। মোটর চালিয়ে ঠাণ্ডা পানি তুলে গোসল করছেন তারা। কেবল তাই না, অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশিক্ষণ ধরে গোসল করছেন অধিকাংশ মানুষ। এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন, শহরতলীর খোলাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল আলী, হাবিবুর রহমান, সুজলপুরের সাবিনা ইয়াসমিন, মোতালেব হোসেনসহ কয়েকজন।
গরমে কেবল মানুষই কাহিল হচ্ছে না, অন্যান্য প্রাণীর অবস্থাও একই। জবুথবু হয়ে পড়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। গরমে অতিষ্ঠ মানুষ প্রতিনিয়ত আবহাওয়ার খবর নিচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা সেটি জানতে চাচ্ছে তারা। সবমিলিয়ে গরমে যশোরের মানুষ ‘ত্রাহি মধুসূদন’ অবস্থার মধ্যে রয়েছে।   




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft