শনিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
ক্রেতা নেই, যশোরে শুরু হয়নি কোরবানির পশু বিক্রি
হতাশায় ১০ হাজার খামারি
এম. আইউব
Published : Monday, 6 July, 2020 at 12:43 AM
হতাশায় ১০ হাজার খামারিকোরবানির আর ২৫ দিন বাকি। তারপরও কেনাবেচা শুরু হয়নি। করোনার কারণে এ বছর কোরবানির পশু বিক্রি করা নিয়ে রীতিমতো চিন্তিত যশোরের ১০ হাজার খামারি। তারা চোখেমুখে অন্ধকার দেখছেন।
যদিও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা খামারিদের মতো এতটা হতাশ না। তারা বলছেন, যেহেতু কোরবানি ধর্মীয় বিষয়, সে কারণে সামর্থ্যবান বেশিরভাগ মানুষ পশু কিনবেন। সেক্ষেত্রে হয়তো একটু দেরিতে বিক্রি শুরু হতে পারে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে পাওয়া তথ্যে জানাগেছে, যশোরে এ বছর কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৬৩ হাজার। এর বিপরীতে প্রস্তুত করা হয়েছে ৬৭ হাজার নয়শ’ ৭৫ টি পশুকে। এসব পশুর মধ্যে গরু রয়েছে ৩৪ হাজার নয়শ’ ৯৭ টি। আর ছাগল- ভেড়াসহ অন্যান্য পশু রয়েছে ৩২ হাজার নয়শ’ ৭৮ টি। জেলার ১০ হাজার দুশ’ ৮২ জন খামারি এসব পশুকে লালনপালন করে কোরবানির উপযুক্ত করেছেন।
খামারিদের সাথে আলাপ করে জানাগেছে, অন্যান্য বছর কোরবানির দেড় দু’মাস আগে থেকে পশু বিক্রি শুরু হয়। একমাস বাকি থাকতে বিক্রির হার অনেকাংশে বেড়ে যায়। ক্রেতার ভিড় বাড়তে থাকায় খামারিরা তাদের চাহিদামতো দামে পশু বিক্রি করার চেষ্টা করতেন। কিন্তু এ বছর সেই অবস্থা নেই। করোনা পরিস্থিতি সবকিছু ওলটপালট করে দিয়েছে। সারাদেশের মানুষের মধ্যে ভীতিকর পরিবেশ বিরাজ করছে। অস্থির অবস্থার মধ্যে রয়েছেন সামর্থ্যবান মানুষও। করোনায় কখন কী হয়ে যায় তা নিয়ে টেনশনমুক্ত হতে পারছেনা কেউই। এই পরিবেশে কোরবানি নিয়ে এখনো পর্যন্ত অধিকাংশ মানুষ মাথা ঘামানো শুরু করেনি। খামারিদের কাছে ঘেঁষছে না কেউ। ফলে, ক্রেতাদের নাগাল পাচ্ছেন না খামারিরা।
বেশ কয়েকজন খামারির সাথে আলাপ করে তাদের হতাশার কথা জানাগেছে। খামারিরা বলছেন এখনো পর্যন্ত ক্রেতার খবর নেই। সময়ও সামনে বাকি নেই বেশি। এ অবস্থায় খুববেশি বেচাবিক্রি হবে বলে মনে করছেন না তারা। আর শেষ মুহূর্তে বিক্রি যাই হোক না কেন অন্যান্য বছরের মতো দাম পাবেন না বলে খামারিদের আশঙ্কা।
সদর উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামের খামারি তুহিন বলেন, ‘আমার খামারে ১৩-১৪ টি গরু রয়েছে। রোববার পর্যন্ত কোনো ক্রেতা আসেনি। এবার অবস্থা ভালো বলে মনে হচ্ছে না। তবে, দাম নিয়ে অতবেশি চিন্তার কিছু নেই। কারণ বাজারে গোশতের দাম সাড়ে পাঁচশ’ টাকা কেজি। কোরবানির সময় একটু বাড়ে। তাতে যে আহামরি লাভ হয় তা না।’
হামিদপুরের খামারি আছাদুজ্জামান জানান, এবার এখনো পর্যন্ত কোরবানির পশু বিক্রি শুরু হয়নি। একইভাবে দাম ভালো পাওয়া যাবে না বলে মনে হচ্ছে। ভালো দাম না পেলে তিনি কোনো গরু বিক্রি করবেন না বলে জানিয়েছেন।
রোববার পর্যন্ত যশোরের ২৭ টি হাটের কোনোটিতে কোরবানির পশু বিক্রি শুরু হয়নি বলে একাধিক খামারি, প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা এবং কোরবানি দিতে আগ্রহী কয়েক ব্যক্তি জানিয়েছেন।
জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার শফিউল আলম বলেন, ‘যশোরে চাহিদার তুলনায় অধিক সংখ্যক পশু প্রস্তুত রয়েছে। ফলে, দুশ্চিন্তার কারণ নেই। তাছাড়া, কোরবানি করা ধর্মীয় বিধান হওয়ায় সামর্থ্যবান বেশিরভাগ মানুষ সেটি করবেন। পরিস্থিতিগত কারণে হয়তো ক্রেতারা একটু দেরিতে পশু কিনবেন।’ গত বছর জেলার ২৭ টি হাটে কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছিল বলে জানান এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, করোনা মহামারিতে ভিড় কমাতে এবার হয়তো হাটের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে। এ ব্যাপারে অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা আসলে সেই মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রোববার কোরবানির পশুর হাট নিয়ে বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সাথে ভার্চ্যুয়াল সভা করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। তবে, সেই সভায় চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সূত্র জানিয়েছে। এ ব্যাপারে প্রাণিসম্পদের খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক আমিনুল ইসলাম মোল্লার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা পাইনি। আগামী সপ্তাহে নির্দেশনা আসতে পারে। তখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’  




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft