শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২০
জাতীয়
করোনা পুরো অর্থনীতিকে ঢেলে সাজানোর সুযোগ করে দিয়েছে : ড. ইউনূস
কাগজ ডেস্ক :
Published : Monday, 6 July, 2020 at 3:43 PM
করোনা পুরো অর্থনীতিকে ঢেলে সাজানোর সুযোগ করে দিয়েছে : ড. ইউনূসকরোনা পরিস্থিতি পিছনে ফিরে তাকানোর এবং পুরো অর্থনীতি ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজিয়ে কাজে লাগানোর অভিন্ন এক সুযোগ করে দিয়েছে। একে কাজে লাগিয়ে ব্যবসার স্বীয় স্বার্থ ও অভিন্ন স্বার্থকে এক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।  
নিক্কি এশিয়ান রিভিউকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী একমাত্র বাংলাদেশি এবং গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, সম্পদ কুক্ষিগত করা এবং ভয়াবহ বেকারত্ব এ পৃথিবীতে আমাদের অস্তিত্বকে শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছিল। করোনা সংক্রমণের আগে যেখানে ছিল এই বিশ্ব, তাকে সেখানে ফিরে যেতে দেয়া উচিত হবে না। আমরা যেখানে ছিলাম সেখানে ফিরে যাওয়া মোটেও উচিত নয়।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, করোনার আগে ছিল ভয়ঙ্কর এক পৃথিবী, যেখান থেকে আমরা বেরিয়ে আসছি। এখন আমরা এমন একটি নতুন বিশ্বের দিকে যেতে চাই, যেখানে ওইসব ভয়ঙ্কর জিনিসগুলোর অস্তিত্ব থাকবে না।
গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, পুরো মানবজাতি তার নিজের স্বার্থের নিজেকে পরিচালিত করে, অর্থনীতির তত্ত্বে এটা বলা হয়। এখন এটাকে পরিবর্তন করতে হলে আপনাকে অর্থনীতির মূলে ফিরে যেতে হবে। অর্থনীতিতে স্বীয় স্বার্থ এবং অভিন্ন স্বার্থের জন্য নিজেকে পরিচালিত করতে হবে।
এর ব্যাখ্যায় নোবেল বিজয়ী বলেন, আমাদের দুই রকম ব্যবসা আছে। একটি হলো স্বীয় স্বার্থের বাণিজ্য, এখানে সর্বোচ্চ লাভ করা যায়। অন্যটি হচ্ছে অভিন্ন স্বার্থ। যেখানে কোম্পানির ব্যক্তিগত লাভের অংশ শূন্য। এটাকে আমরা সামাজিক বাণিজ্য বলে থাকি। অভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য বাণিজ্য বা ব্যবসার ডিজাইন করবো আমরা।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, অভিন্ন স্বার্থ এবং ব্যক্তি স্বার্থের মধ্যে পরিষ্কার সংঘাতের ফলে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার স্বার্থপরতা ও বিশ্বায়নের মতো সমস্যাগুলোর বিস্তার ঘটেছে। অর্থনীতিকে অভিন্ন স্বার্থ আনার মাধ্যমে এই সংঘাতের সমাধান অর্জন করা যেতে পারে। এটা করার জন্য করোনা সঙ্কট হচ্ছে সবচেয়ে ভাল সময়।
নতুন একটি অর্থনৈতিক ইঞ্জিন বা চালক গড়ে তোলার প্রতি আহ্বান করেন বাংলাদেশি এই নোবেল বিজয়ী, যা স্বীয় ও অভিন্ন স্বার্থকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসবে।
এর জন্য উদাহরণ হিসেবে করোনা টিকার কথা উল্লেখ করেন ক্ষুদ্র ঋণের এই উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, এই টিকা আসলে, সব দেশই প্রথমে তা পাওয়ার জন্য চেষ্টা করবে। এটাই হচ্ছে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার স্বার্থপরতা। যদি স্যানোফির মতো কোম্পানি প্রথম টিকা তৈরি করে এবং সেটি মার্কিন বাজারে গেলে এর দাম হবে অনেক বেশি। কিন্তু সর্বোচ্চ লাভ আদায় করতে তাদের এটা করা উচিত হবে না। এটাই অভিন্ন স্বার্থ। টিকা সবার জন্যই পর্যাপ্ত থাকা উচিত হবে, এমনকি দরিদ্র মানুষেরাও যেন সেটি পায়।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft