বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০
সম্পাদকীয়
আরবে আটকা লাখো গৃহকর্মীর মানবেতর জীবন
Published : Tuesday, 7 July, 2020 at 11:15 PM
আরবে আটকা লাখো গৃহকর্মীর মানবেতর জীবনসৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত নয় আফ্রিকান নারী করোনাভাইরাস লকডাউনের কারণে যখন চাকরি হারালেন, তখন নিয়োগকারী দালাল কয়েকটা পাতলা মাদুর দিয়ে তাদের একটি খালি ঘরে ঢুকিয়ে তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। এদের কেউ কেউ মার্চ থেকে সেখানে আছেন। একজন এখন ছয় মাসের গর্ভবতী হলেও কোনো যতœ পাচ্ছেন না। আরেকজন মানসিকভাবে এমন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন যে নিজের কাপড় ছিঁড়ে ফেললে তাকে দেয়ালের সঙ্গে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। ওই নারীরা বলছেন, তাদের দিনে একবার খাবার দেওয়া হয়। দেশে ফিরে যাওয়াতো দূরের কথা তারা সেখান থেকে কখন বের হতে পারবেন সেটাই জানেন না। তাদের মধ্যে কেনিয়া থেকে আসা আপিসাকির সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিউ ইয়র্ক টাইমসের কথা হয়। তিনি বলেন, আমরা সবাই আতঙ্কিত। এখানকার পরিবেশ মোটেই ভাল না। কেউ আমাদের আওয়াজ শুনতে পায় না।
অনেক আরব পরিবার গাড়ি চালানো, ঘরদোর পরিষ্কার রাখা এবং শিশু ও প্রবীণ স্বজনদের যতœ নেওয়ার জন্য এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে আসা লাখ লাখ প্রবাসী কর্মীর উপর নির্ভর করে। কিন্তু তাদেরকে স্বল্প বেতন দিয়ে এমন পরিস্থিতিতে রাখা হয়, মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলি যেটাকে দীর্ঘদিন ধরে ‘শোষণ ও নির্যাতনমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছেন। শ্রমিক অধিকারকর্মীরা বলছেন, এখন মহামারী ও তার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দা তাদের বিপদকে বহুগুণে বাড়িয়ে তুলেছে। ভাইরাস বয়ে নিয়ে আসবে ভয়ে অনেক পরিবার গৃহকর্মীদের ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছে না। লকডাউনের কারণে পুরো পরিবার ঘরে থাকায় গৃহকর্মীদের কাজও অনেক বেড়ে গেছে। অনেক প্রবাসী শ্রমিককে বেতন না দিয়ে ছাঁটাই করা  হয়েছে। স্বদেশ থেকে অনেক দূরে অসহায় অবস্থায় আটকা পড়ে আছেন তারা। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বেতন দিতে না পেরে লেবাননের বৈরুতে নিয়োগকর্তারা অনেক ইথিওপীয় নারীকে ফেরত পাঠাতে তাদের দেশের কনস্যুলেটের সামনে জড়ো করেছেন।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) হিসাবে, লেবানন ও জর্ডানসহ অন্যান্য আরব অঞ্চলে যে পরিমাণ বিদেশি গৃহকর্মী ও আয়া কাজ করেন, তা বিশ্বের অন্য কোনও অঞ্চলের চেয়ে বেশি। এদের বেশিরভাগ নিয়োগ দালালদের মাধ্যমে এবং বাধ্যতামূলক আবাসিকতাসহ স্পনসরশিপ ব্যবস্থার আওতায় হয় বলে তাদের উপর নিয়োগকর্তার ব্যাপক ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আবাসিকতা না হারিয়ে তা চাকরি ছাড়তে পারে না বা নতুন চাকরিতে চলে যেতে পারে বা নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড় দেশও ছাড়তে পারে না।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, অনেক নিয়োগকর্তা শ্রমিকদের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করেন এবং তাদের কোনো ছুটি দেন না। কেউ কেউ কর্মীদের মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দেন না। এছাড়ার শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের ঘটনাতো খুবই সচরাচর। আরবদের এই অমানবিক কার্যক্রম বন্ধ হওয়া জরুরি।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft