সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
মণিরামপুরে হতাশায় ১৯৮৮ খামারি ও দু’ ইজারাদার
জাহাঙ্গীর আলম, মণিরামপুর (যশোর)
Published : Wednesday, 8 July, 2020 at 11:27 PM
মণিরামপুরে হতাশায় ১৯৮৮ খামারি ও দু’ ইজারাদারকোরবানি ঈদ উপলক্ষে মণিরামপুরে প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ১৭ হাজার (গরু-ছাগল) পশু। ঈদের আর মাত্র  ২২ দিন বাকি থাকলেও ক্রেতা মিলছে না। এ কারণে হতাশার মধ্যে দিন কাটছে খামারি ও পশুহাটের ইজারাদারদের।
উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পশুরহাট দু’টি। এগুলো হচ্ছে, মণিরামপুর সদর ও রাজগঞ্জ। চলতি বছর মণিরামপুর সদর পশুর হাটটি এক বছরের জন্যে এক কোটি ৭২ লাখ টাকায় এবং রাজগঞ্জ হাটটি ২৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকায় নিয়েছেন দু’জন ইজারাদার। বর্তমানে যে অবস্থা তাতে অর্ধেক টাকাও উঠবে না বলে আশঙ্কা করছেন ইজারাদাররা।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবু জার সিদ্দিকী জানান, উপজেলায় ৭৮টি বড় খামারসহ এক হাজার পাঁচশ’ ৭২ টি গরু ও তিনশ’ ৩৮টি ছাগলের খামার রয়েছে। এ বছর উপজেলায় এসব খামারে কোরবানি উপলক্ষে গরু প্রস্তুত করা হয়েছে ছয় হাজার সাতশ’ ২০টি এবং ছাগল রয়েছে নয় হাজার আটশ’ টি। এ বছর অধিকাংশ খামারি চরম সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। করোনা মহামারিতে বাজারে ক্রেতা না থাকার কারণেই এই সংকট।
মণিরামপুর সদর হাটের ইজারাদার ফারুক আহম্মেদ লিটন দাবি করেছেন, ক্রয়সহ ভ্যাট আইটি যোগ করলে দু’কোটি টাকার উপরে দাঁড়াবে। প্রতি শনি ও মঙ্গলবার এ দু’টি হাট বসতো। করোনার কারণে গত তিন মাস হাট বসেনি। বর্তমান অবস্থায় প্রতি হাটে উঠছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। হাট কেনার সমুদয় টাকা তুলতে গেলে প্রতি হাটে দু’লাখ পাঁচ হাজার টাকা লাগবে। হাতাশা প্রকাশ করে ইজারাদার ফারুক আহম্মেদ লিটন বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে ৫০ শতাংশ টাকাও ঘরে আসবে না।
রাজগঞ্জ পশুর হাট ইজারাদার পান্না খান একইভাবে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, হাট কেনার অর্ধেক টাকা মওকুফের জন্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছি। যদি মওকুফ হয় সেক্ষেত্রে বেঁচে থাকা সম্ভব। পান্না খান জানান, এক বছরের জন্যে ২৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকায় পশুর হাট কিনে প্রতি হাটে আদায় হচ্ছে তিন থেকে চার হাজার টাকা। এরমধ্যে তিন মাসে হাট বসেনি করোনার কারণে। বর্তমান কিছু ক্রেতা হাটে এলেও কেনাবেচা নেই মোটেও। কোরবানি উপলক্ষে পশু পালন করে হতাশার কথা জানিয়েছেন উপজেলার মশ্বিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন। ১০টি গরু পালন করে তিনি চরম হাতাশার কথা জানিয়েছেন। চেয়ারম্যান আবুল হোসেন জানান, দরদাম তো দূরের কথা কোনো ক্রেতাই নেই। ফলে, লাভের আশা বাদ দিয়ে আগামী দিন ১০টি গরুর জন্যে যা ব্যয় হবে তাও লোকসান হবে।
উপজেলার সব চেয়ে আলোচিত খামারি হুরগাতি গ্রামের আসমত আলী। কোরবানির জন্যে তিনি দু’টি গরু পালন করেছেন। উপজেলার সব থেকে বড় আকারের এ গরু দু’টির মধ্যে একটির ওজন ২৫ মণ হবে বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। তবে, গরুর কোনো ক্রেতা নেই বলে জানান তিনি।
বাঙ্গালীপুর গ্রামের আমজাদ হোসেন একটি গরু পালন করেছেন। তিনি বিক্রির জন্যে চেষ্টা করছেন। পাঁচবাড়িয়া গ্রামের অমৃত মÐল গরু পালন করে হতাশায় ভুগছেন। একই অবস্থা শ্রীপুর গ্রামের ফারুক হোসেনের। ১৬টি গরু প্রস্তুত করেছেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনিও গরু নিয়ে চরম হতাশায় রয়েছেন। চান্দুয়া গ্রামের খামারি নূরুল মোল্লা ১৩টি গরু প্রস্তুত করেছেন বিক্রির জন্যে। দুর্গাপুর গ্রামের হাফিজুর রহমানও একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
হতাশার মধ্যে গরু বিক্রি করে দিয়েছেন মোহনপুর গ্রামের জাকির হোসেন ও বিজয়রামপুর গ্রামের সন্তোষ স্বর।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft