শনিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
করোনা মহামারিতে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২০ টাকা কেজির চাল
যশোরে উপকৃত ৪০ হাজার পরিবার
জাহিদ আহমেদ লিটন
Published : Wednesday, 8 July, 2020 at 11:36 PM
যশোরে উপকৃত ৪০ হাজার পরিবারযশোরে করোনা মহামারিতে সরকার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় বিপুল পরিমাণ চাল স্বল্প মূল্যে গরিবের মাঝে বিতরণ করেছে। যা থেকে উপকৃত হয়েছে শহরের পৌর এলাকার প্রায় ৪০ হাজার পরিবার। ১০ টাকা কেজি দরের এ চাল ৬টি পয়েন্ট থেকে গত তিন মাস বিতরণ করা হয়েছে।  যার পরিমান সাত লাখ কেজি।
করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। বাংলাদেশও এ ভাইরাসের কবল থেকে রক্ষা পায়নি। এ রোগে দেশের তিনটি বিভাগ ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে খুলনা বিভাগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে শতাধিক মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৬ হাজার। করোনা পরিস্থিতির শুরুতে গত মার্চ মাস থেকে মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েন। এ মাস থেকেই দেশে লকডাউনের কারণে শ্রমজীবী মানুষ কাজে যেতে পারেননি। তাদের ঘরে বসেই পুঁজি ভেঙ্গে বা অন্যের পাঠানো খাবার খেয়েই চলতে হয়েছে। এ অবস্থা বিবেচনায় এনে সরকার কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষের জন্য এপ্রিল মাস থেকে দেশে দশ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করে। যা থেকে উপকৃত হয়েছে দিন আনা দিন খাওয়া শ্রেণির মানুষ। তারা ১০ টাকা কেজি দরের চাল একসাথে ২০ কেজি পর্যন্ত কিনে বাড়ি নিয়ে যেতে পেরেছেন। এ কারণে কর্মহীন অবস্থায় অন্তত তাদের না খেয়ে থাকার কথা চিন্তা করতে হয়নি। পরিবার নিয়ে তারা দু’মুঠো ভাত খেয়ে লকডাউনের দিন কাটিয়ে দিতে পেরেছেন।
যশোর খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, গত এপ্রিল মাস থেকে যশোরে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়। তিন মাসব্যাপী এ কার্যক্রম চলে জুন মাস পর্যন্ত। এ কাজে যশোর পৌর এলাকায় নিযুক্ত ছিলেন ৬ জন ডিলার। তাদের মাধ্যমেই পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে তিন মাস যাবৎ সুবিধা বঞ্চিত মানুষের মাঝে এ চাল বিতরণ করা হয়। যা থেকে উপকৃত হয়েছেন শহরের ৩৪ হাজার ৮শ’ পরিবার। তারা ১০ টাকা প্রতি কেজির চাল সর্বোচ্চ ২০ কেজি পর্যন্ত ডিলারদের কাছ থেকে কিনতে পেরেছেন। এরপর ছোট একটি পরিবারের প্রধানকে একমাসের জন্য চাল নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয়নি। তবে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির এ চাল মানসম্মত ও খাবার উপযোগী ছিল বলে এ চাল ক্রেতারা জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, কর্মসূচির শুরুতে এপ্রিল মাসে যশোর পৌর এলাকার গরিবের মাঝে চালের মোট ছয় হাজার কার্ড বিতরণ করা হয়। যা থেকে ২০ কেজি হারে মানুষ উত্তোলন করে এক লাখ ২০ হাজার কেজি চাল, মে মাসে বিতরণ করা হয় ৯ হাজার ৬শ’ কার্ড। যা থেকে উত্তোলন করা হয় এক লাখ ৯২ হাজার কেজি চাল। সবশেষে জুন মাসে বিতরণ করা হয় ১৯ হাজার ২শ’ কার্ড। এর থেকে উত্তোলন করা হয় তিন লাখ ৮৪ হাজার কেজি চাল। তিন মাসে শহরে কার্ড বিতরণের মোট পরিমান ৩৪ হাজার ৮শ’টি। এর থেকে মানুষ ২০ কেজি হারে চাল উত্তোলন করেছে ৬ লাখ ৯৬ হাজার কেজি চাল। বিপুল পরিমাণ এ চাল মানুষ ১০ টাকা কেজি দরে কিনতে পেরে করোনা দুর্যোগে খানিকটা স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলেছে। চারগুন বেশি দাম দিয়ে তাদেরকে বাজার থেকে চাল কিনে খেতে হয়নি।
শহরের ঘোপ জেল রোড এলাকার দরিদ্র বিধবা সুফিয়া বেগম বলেন, করোনা লকডাউনের সময়ে ১০ টাকা কেজির চাল পেয়ে তিনি উপকৃত হয়েছেন। তা না হলে বাজারে মোটা স্বর্ণা চাল ৪০ টাকা কেজি দরে কিনতে হলে তাকে না খেয়ে মরতে হত। করোনায় কর্মহীন গরিব মানুষের জন্য সরকারের এ উদ্যোগকে তিনি সাধুবাদ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক লিয়াকত আলী বলেন, সরকার গরিব মানুষের জন্য খাদ্যবান্ধব সকল কর্মসূচি তাদের মাধ্যমে পরিচালনা করে থাকে। এক্ষেত্রে সরকারি নিয়মানুযায়ী স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে তারা এসব কার্য সম্পাদন করে থাকেন। ডিলারদের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যের চাল বিতরণ করা হলেও এ জন্য তাদের তদারকি কর্মকর্তা রয়েছেন। তিনি কর্মসূচির সকল কিছু দেখভাল করে থাকেন। যদি কোন ডিলার চাল বিতরণে কোন অনিয়ম করে থাকেন, তবে তার ডিলারশিপ বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। তিনি বলেন, গরিবের জন্য ২০ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণ কর্মসূচি ৩০ জুন শেষ হয়েছে।   




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft