মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
স্বাস্থ্যবিধির মানছে না বেশিরভাগ মানুষ যশোরে কেনাকাটায় উপচেপড়া ভিড়
এম. জিহাদ
Published : Thursday, 30 July, 2020 at 12:56 AM
স্বাস্থ্যবিধির মানছে না বেশিরভাগ মানুষ
যশোরে কেনাকাটায় উপচেপড়া ভিড়যশোরে ঈদের কেনাকাটার জন্যে ভিড় বেড়েছে। করোনার ঝুুঁকি থাকলেও জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অধিকাংশ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা নেই। মানা হচ্ছে না শারীরিক দূরত্বও। এমনকি মাস্ক ব্যবহারেও বেড়েছে অনীহা।   
যশোরে স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে ঈদুল ফিতরের ১৫ দিন আগে দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। এরপর কেটে গেছে প্রায় আড়াই মাস। একদিন পরই মুসলামনদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। এ উপলক্ষে বাজার ও কেনাকাটার জন্যে গ্রাম থেকে শহরে আসছে অনেকেই। মঙ্গল ও বুধবার শহরের এইচএমএম রোড, কালেক্টরেট মার্কেট, জজকোর্ট মার্কেট, চুড়িপট্টি, বড়বাজারসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই হাজারো মানুষের উপস্থিতি দোকানগুলোতে। মার্কেটের প্রতিটি গলিই লোকে লোকারণ্য। অনেকের মুখে ছিল না মাস্ক। পুরো চিত্র দেখলে মনে হবে, করোনাকালের আগের চিরচেনা সেই যশোর। দোকানগুলোতে জীবাণুনাশক থাকলেও ক্রেতাদের সেদিকে কোনো নজর নেই। ভিড় থাকলেও বেশিরভাগ দোকানি ও কর্মচারীদের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। ফুটপাতের দোকানগুলোর অবস্থা আরও ভয়াবহ। দুপুরে এইচএমএম রোডে ভ্যানে করে গেঞ্জি বিক্রি করতে দেখা যায় দু’ যুবককে। তাদের সামনে ছিল আটজন ক্রেতা। যার মধ্যে পাঁচজনের মুখে মাস্ক ছিল ন। কেন মাস্ক পরেননি, এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, ‘পকেটে আছে।’ কতক্ষণ মাস্ক পরে থাকা যায়! বড়বাজারে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছিল হাজারো মানুষের চলাচল। কিছু মার্কেটে ছিল উপচেপড়া ভিড়। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা তো দূরের কথা, ভিড়ের মধ্যে একজন আরেকজনের গা ঘেঁষে চলাচল করেছে। কখনো কখনো ধাক্কা লাগে একজনের সাথে আরেকজনের। এমন বিশৃঙ্খল পরিবেশেও তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। তবে, গর্জে ওঠো নামের একটি সামাজিক সংগঠনের ১০ স্বেচ্ছাসেবককে জনসচেতনায় মাইকিং করতে দেখা যায়। তারা মাস্ক ছাড়া বাজারে ঢুকতে দেয়নি ক্রেতাদের। সোবহান খান তন্ময় নামের এক স্বেচ্ছাসেবক বলেন,‘যারা মাস্ক পরে আসেননি তাদের মাস্ক কিনে বাজারে ঢুকতে বাধ্য করা হচ্ছে। অন্যথায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।’ এমনচিত্র শুধুমাত্র এইচএমএম রোডে। বড় বাজারের মুদি দোকানগুলোতে ঈদের বাজার করতে আসা ক্রেতাদের মধ্যে ন্যূনতম স্বাস্থবিধি মানার প্রবণতা ছিল না। কথা বলার সময় দোকানি কিংবা ক্রেতা কারও মুখেই মাস্ক দেখা যায়নি। বেশিরভাগ কাপড়-জুতার দোকানে জীবাণুনাশকের ব্যবস্থা থাকলেও মানা হয়নি শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা। হাতে গ্লাভস ব্যবহার না করেই ক্রেতা-বিক্রেতারা পোশাকে হাত দেন। তবে, ভিন্ন চিত্র দেখা যায় অভিজাত প্রতিষ্ঠানগুলোতে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রেতাদের ঈদের কেনাকাটা করতে উৎসাহিত করেন সংশ্লিষ্টরা। গার্মেন্টস এবং ছিট কাপড়ের দোকানগুলোতে নারী ও শিশুদের ভিড় দেখা যায় বেশি। পরিবারের পাঁচ সদস্যেকে নিয়ে ঈদের কাপড় কিনতে আসেন আকলিমা নামে এক নারী। তার দু’ শিশুর মুখে মাস্ক নেই কেন, জিজ্ঞাসা করলে বলেন, ‘বাচ্ছাদের করোনা হয় নাকি? করোনা হলে এমনিতেই হবে।’ মাস্ক পরে ঠেকানো যাবে না বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, ঈদ চলে আসায় রাস্তায় চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে মানুষের। দড়াটানা থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়কে দীর্ঘ যানজট ছিল। এসব কারণে করোনায় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে যশোর।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft