মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
কালীগঞ্জ-ঝিনাইদহ সড়কের ১৩ কিলোমিটার যেনো মৃত্যুফাঁদ!
ঝিনাইদহ ও কালীগঞ্জ প্রতিনিধি
Published : Friday, 7 August, 2020 at 10:22 PM
কালীগঞ্জ-ঝিনাইদহ সড়কের ১৩ কিলোমিটার যেনো মৃত্যুফাঁদ! কালীগঞ্জ-ঝিনাইদহ মহাসড়কের দূরত্ব মাত্র ১৫ কিলোমিটার। এই ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে মাত্র দু’কিলোমিটার রয়েছে চলাচলের উপযোগী। বাকি ১৩ কিলোমিটার বর্তমানে পথচারীদের মহা ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটুকু রাস্তা যেনো মৃত্যুফাদে পরিণত হয়েছে। মহাসড়ক দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে যানবাহন চলাচল করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঝিনাইদহ থেকে কালীগঞ্জ পর্যন্ত রাস্তার ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে ১৩ কিলোমিটর চলাচলের চরম অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। মহাসড়টির এই অংশে পিচ-পাথর উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। অনেক স্থানে এতো বড় গর্ত তৈরি হয়েছে যে, গর্তে পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। আর এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় মাঝেমধ্যে পিচ রাস্তায় ইটের সলিং করে আপাতত চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ওই সড়কে চলাচলকারী একাধিক যানবাহনের চালক বলেছেন কালীগঞ্জ থেকে ঝিনাইদহ পর্যন্ত মাত্র ২০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে এখন ৪০ মিনিটেরও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। তাছাড়া এই ভাঙাচুরা সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক স্থানেই গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে থাকছে। মাঝেমধ্যে নামমাত্র সংষ্কার করা হচ্ছে, যা সপ্তা যেতে না যেতেই পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। সড়কটুকুতে কর্তৃপক্ষের সুনজর নেই। অবশ্য সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, তারাও সড়কটি নিয়ে বিব্রত।
সড়ক ও জনপথ বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুষ্টিয়া থেকে যশোর আর ঝিনাইদহ থেকে মাগুরা পর্যন্ত ঝিনাইদহ অংশে প্রায় ৭০ কিলোমিটার মহাসড়ক রয়েছে। এই মহাসড়কের ঝিনাইদহ থেকে কালীগঞ্জ পর্যন্ত বর্তমানে চলাচলের একেবারেই অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বেশিরভাগ স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের ঝিনাইদহের হামদহ বাসস্টান্ডের পর থেকে লাউদিয়া, চুটলিয়া, তেঁতুলতলা, বিষয়খালী, কয়ারগাছি, ছালাভরা, বেজপাড়া, খয়েরতলা, নিমতলা বাসস্টান্ড, মেইন বাসস্টান্ড এলাকায় বিটুমিন (পিচ) আর পাথর উঠে বড় বড় গতের্র সৃষ্টি হয়েছে। এসকল স্থানে বর্তমানে এমন অবস্থা বিরাজ করছে যা পথচারীদের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যানচালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটির পিচ-পাথর উঠে গর্ত তৈরি হয়। আম্পানে ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টিতে বেশি ক্ষতি হয়েছিল সড়কের। এরপর কয়েকদফা গর্ত ভরাট করা হয়েছে। কিন্তু ২-৪ দিন পরই আবার পূর্বের অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে।
ওই সড়কে চলাচলকারী বাস চালক জামাল হোসেন জানান, অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে তাদের চলাচল করতে হচ্ছে। বাসে যাত্রী নিয়ে হেলে-দুলে পথ চলা যায় না। তারপরও উপায়ান্তর না পেয়ে তাদের চলতে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ভাঙাচুরা রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে গাড়ি ও সময়ের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলো প্রতিনিয়ত বিকল হয়ে পড়ছে।
ট্রাক চালক আব্দুল আলিম জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একমাত্র যোগাযোগ হচ্ছে কালীগঞ্জ-ঝিনাইদহ মহাসড়ক। যশোর-বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে ঝিনাইদহের উপর দিয়ে উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন চলাচল করে। মোংলা নৌবন্দর থেকেও মালামাল নিয়ে ট্রাক চালকরা এ জেলার উপর দিয়েই উত্তরবঙ্গে যান। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক দিয়ে ঢাকা, রাজশাহী, ফরিদপুরসহ জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন রুটের যাত্রীবাহী বাসসহ পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে থাকে। কিন্তু সড়কটির কালীগঞ্জ থেকে ঝিনাইদহ পর্যন্ত ভেঙেচুরে যাওয়ায় অতিরিক্ত সময়ের পাশাপাশি তাদের ভোগান্তির শেষ নেই।
ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করা হুমাউন কবির জানান, পেশার প্রয়োজনে প্রায়ই কালীগঞ্জ থেকে ঝিনাইদহ যেতে হয়। বর্তমানে তিনি মহাসড়ক দিয়ে না গিয়ে বিভিন্ন গ্রামের মধ্যে দিয়ে মোটরসাইকেলে চলাচল করেন। এই সামান্য সড়ক কেনো ভালো করা যাচ্ছে না তা ভেবে পাচ্ছেন না বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দার জানান, এই সামান্য সড়কটুকু নিয়ে তিনিও বিপদে আছেন। চেষ্টা করছিলেন পিএমপি প্রকল্পের আওতায় সড়কটুকু সংষ্কারের। সে লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। আশা করছেন দ্রæত সড়কটি সংষ্কারে বরাদ্ধ মিলবে। তারাও কাজ করাতে পারবেন। তবে আপাতত চলাচলের জন্য উপযোগী রাখতে ক্ষুদ্র মেরামত চলছে বলে তিনি জানান।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft