মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
এসপির হুঁশিয়ারি উপেক্ষিত
যশোরে ঈদে অর্ধকোটি টাকার বাজি বিক্রি
দেওয়ান মোর্শেদ আলম
Published : Saturday, 8 August, 2020 at 1:05 AM
যশোরে ঈদে অর্ধকোটি
টাকার বাজি বিক্রিযশোরে চকলেট ও পটকাবাজি বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দেদার বিক্রি হচ্ছে। একটি সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে হাটচাঁদনী মার্কেটে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা তা উপেক্ষা করছে। পকটাবাজি বিক্রি আমদানি ও মজুদ বন্ধে পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশ অমান্য করে নয়া সিন্ডিকেট এবারের ঈদ বাজারে অর্ধকোটি টাকার বাজি বিক্রি করেছে। এখনও বাজি মজুদ রাখা হচ্ছে, গোপনে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি চলছে।
যশোর শহরের বড় বাজারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় চকলেটবাজি ও বিস্ফোরক ব্যবসার সাথে জড়িত। তবে এবার মাঠে যোগ হয়েছে নয়া সিন্ডিকেট। সীমান্ত দিয়ে লাখ লাখ টাকার ভারতীয় চকলেটবাজি ও পটকা তৈরির মসলা অনছে এরা। চক্রের কয়েকটি দোকানে মহিলা পুরুষ চোরাকারবারীদের আনা গোনা থাকে। বিভিন্ন পয়েন্টে সাঙ্গপাঙ্গরা ব্যবসা দেখভাল করে। সীমান্তেও নিয়োগ করা আছে লোকজন।
যশোরের চৌগাছার মাসিলা, পুড়াপাড়া, শাহাজাদপুর, শার্শার শালকোনা, গাতিপাড়া, পুটখালী, সাদীপুর, বড় আঁচড়া ছোট আচড়া ও সাতক্ষীরার কয়েকটি সীমান্ত দিয়ে সিন্ডিকেটের চকলেট বোমা ও বিস্ফোরক আনা হয়। ঈদ পূজা ও বিভিন্ন উৎসবকে সামনে রেখে ব্যবসা জোরদার হয়। এ সিন্ডিকেটের নির্দ্দিষ্ট কয়েকজন চোরাকারবারী চকলেটবাজি ও বিস্ফোরক আনা নেয়ার সাথে জড়িত রয়েছে। মালামাল নির্দিষ্ট ডেরায় পৌঁছানোর পর হাত বদল হয়। মালামাল নড়াইল, লোহাগড়া, ফরিদপুর, টেকেরহাট, ভাঙ্গা, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, বরিশাল , ঢাকার চকবাজার ও নবাবপুরে পাঠানো হয়। এসব এলাকার ব্যবসায়ীর সাথে মোবাইল ফোনে চুক্তির পর কয়েকটি ট্রান্সপোর্টে মালামাল বুকিং দেয় তারা। এক্ষেত্রে কার্টনের গায়ে লেখা থাকে মাল ফেরৎ। ভুয়া ক্যাশ মেমো ও ভুয়া দোকানের নাম সংযুক্ত থাকে। রাস্তায় প্রশাসনিক ঝামেলা এড়াতে এধরনের কৌশল অবলম্বন করে সিন্ডিকেট।
পটকাবাজি ব্যবহার বন্ধে যশোরের পুলিশ সুপার চকলেট ও পটকাবাজি বিকিকিনি বন্ধে কঠোর নির্দেশ দেন। আইনপ্রয়োগকারী কয়েকটি সংস্থাকেও তিনি সতর্ক করেন। রমজান ঈদ পুজোসহ বিভিন্ন পার্বনে শব্দ দূষণে অতিষ্ঠ করা বাজি সরকারিভাবে নিষিদ্ধ। পটকাবাজি ও বিস্ফোরক কিনে অপরাধীরা বিভিন্ন এলাকা আতংকিত করে, অনেকে এই পটকাবাজি আনন্দ অনুষ্ঠানে ব্যবহারের পরিবর্তে ব্যবহার করে নানা অপরাধে। এসব ঘটনায় কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন পুলিশ সুপার। এরপরও কুরবানি ঈদে যশোর শহরের বড় বাজার হাটচান্নি এলাকায় নিষিদ্ধ চকলেট বাজি ও বিস্ফোরকদ্রব্য বিকিকিনির শক্তিশালী নয়া সিন্ডিকেট নড়েচড়ে বসে। তারা এই ঈদে বাজারে প্রায় অর্ধকোটি টাকার চকলেট ও পকটা বাজি বিক্রি করেছে। থানা ও যশোর সদর ফাঁড়ির কয়েকজন অফিসারের নেপথ্য মদদে এবং এক ব্যক্তির নেতৃত্বে পটকাবাজির ব্যবসা চলছে। এবারের ঈদে এই নয়া সিন্ডিকেটটি অর্ধ কোটি টাকার বাজি বিক্রি ছাড়াও এখনও খুচরা পাইকেরি ব্যবসায়ীদের সাথে তারা বিকিকিনি সমন্বয় করে চলেছে। পুলিশের উর্ধŸতনদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কয়েকজন অফিসারকে ম্যানেজ করে ভারতীয় চকলেটবাজি অবৈধ পথে আনছে লোক মাধ্যমে।
এব্যাপারে কেতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন বাজারে চকলেট ও পটকাবাজি বিক্রি হচ্ছে বা সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে বলে যে অভিযোগ আসছে সে ব্যাপারে খোঁজখবর নেবেন। দ্রুত চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft