সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোরের প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহকের বাড়িতে বিনামূল্যেন পৌছে যাচ্ছে
দেড় সহস্রাধিক প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপন
জাহিদ আহমেদ লিটন
Published : Tuesday, 11 August, 2020 at 1:16 AM

দেড় সহস্রাধিক প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপনযশোর শহর জুড়ে বৈদ্যুতিক স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে দেড় সহস্রাধিক মিটার বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। সোমবার থেকে কুষ্টিয়া জেলায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। খুলনা বিভাগের সাত জেলায় বসানো হবে নতুন প্রি-পেমেন্ট মিটার।
সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে যশোরের প্রায় এক লাখ প্রি-পেমেন্ট মিটার গ্রাহকের ঘরে বসানোর কথা ছিল। করোনাভাইরাসের কারণে তা চার মাস পিছিয়ে যায়। এ মহামারিতে চীন থেকে আমদানীকৃত বিশেষ এ মিটার দেশে পৌছাতে দেরি হওয়ায় এ
পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, যশোরে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের দুটি সার্কেলের আওতায় চলতি বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এরমধ্যে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-১ এর আওতায় ৪৩ হাজার ২শ’ ও বিভাগ-২ এর আওতায় ৪৩ হাজার ৭৪৬ জন গ্রাহক রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এসব গ্রাহকরা স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারের আওতায় আসার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে যশোর বিদ্যুৎ বিভাগের
গোটা এ প্রকল্পটি কিছুটা থমকে যায়। জানুয়ারি মাসে চীন থেকে বিদ্যুতের বিশেষ এ প্রি-পেমেন্ট মিটার যশোরে আসার কথা ছিল। কিন্তু সে মিটার প্রায় চার মাস পর জুন মাসে এসে পৌছায়। ভাইরাসের কারণে চীনের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য খানিকটা থমকে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে সূত্রটি জানিয়েছে। জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে কর্তৃপক্ষ ফের তৎপরতা শুরু করে। ওই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে তারা প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের
বাড়িতে নতুন এ মিটার বসানোর কাজ শুরু করে।
এরপর গত ১ জুলাই থেকে কর্তৃপক্ষ শহরের গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে প্রি-পেমেন্ট মিটার বসাতে শুরু করে। ইতিমধ্যে শহরের এক হাজার ৬শ’ গ্রাহকের মাঝে এ মিটার বসানো সম্পনড়ব হয়েছে বলে ওজোপাডিকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহিদুল আলম জানিয়েছেন। শহরের ঘোপ, বারান্দিপাড়া,
বেজপাড়া, কাজীপাড়া পুরাতন কসবাসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ জোরেসোরেই বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা এ কাজটি চালিয়ে যাচ্ছেন। শহরাংশের কাজ শেষ হলে তারা শহরতলীর বিভিনড়ব এলাকার গ্রাহকের বাড়িতে এ মিটার পৌছে দেবেন।
এদিকে, সোমবার থেকে কুষ্টিয়া জেলায় স্মার্ট প্রি পেমেন্ট মিটার বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। একইসাথে দুই জেলার দেড় লক্ষাধিক গ্রাহকের বাড়িতে নতুন প্রি-পেমেন্ট মিটার পৌছে দিচ্ছে ওজোপাডিকো।
প্রকৌশলী শহিদুল আলম বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় গ্রাহকরা বিনামূল্যে নতুন এ মিটার পাবেন। ওজোপাডিকোর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রাহকের পুরনো মিটার খুলে নতুন স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার বসিয়ে দিচ্ছেন। গ্রাহকরা শুধুমাত্র মোবাইল রিচার্জের মতোই জি-পেই’র অ্যাপসের মাধ্যমে বিদ্যুতের বিল রিচার্জ করবেন। এটি গ্রামীণ ফোনের ফ্লেক্সিলোডের দোকান থেকেও রিচার্জ করা যেতে পারে। নতুন এ পদ্ধতির কারণে যশোর বিদ্যুৎবিভাগ দুটি গ্রাহক সেবাকেন্দ্র (ভেন্ডিং স্টেশন) নির্মাণ করেছে। এরমধ্যে  শহরের চিত্রামোড়ের সেবাকেন্দ্রটি গত ১ মার্চ থেকে কাজ শুরু করেছে। আর চাঁচড়া বিদ্যুৎ ভবনের সেবাকেন্দ্রটি ১ এপ্রিল থেকে চালু করা হয়েছে। এখান থেকেই শহরবাসী বিদ্যুৎতিক প্রি-পেমেন্ট মিটার সংক্রান্ত সকলসেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ ও গ্রাহক উভয়েই লাভবানহচ্ছেন। মোবাইল ফোনের মতো গ্রাহক যতটুকু বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন, ঠিক ততটুকুই বিল দেবেন। তাকে বাড়তি কোন টাকা বা ঝামেলা পোহাতে হবে না।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রি-পেমেন্ট মিটারে টাকা না থাকলে বিদ্যুৎ সংযোগ সংক্রায়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এটি মোবাইল ফোনের মতই রিচার্জকরতে হবে। এরপর সংক্রায়ভাবে বিদ্যুৎ চালু হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে বাড়তি কোন ফি বা বিদ্যুৎ অফিস থেকে কাউকে ডাকতে হবে না। তবে সরকারি
ছুটির দিনে শুক্র ও শনিবার মিটারে ব্যালেন্স না থাকলেও সংযোগ চালু থাকবে। রোববার অফিস খোলার সাথে সাথেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। অবশ্য মিটার একাউন্ট রিচার্জ করার পরই বন্ধ দু’দিনের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল কেটে নেয়া হবে। এছাড়া, গ্রাহককে মিটার ভাড়া বাবদ প্রতিমাসে ৪০ টাকা ও লোড ডিমান্ড বাবদ ২৫ টাকা ও আনুষাঙ্গিক চার্জ দিতে হবে বলে বিদ্যুৎবিভাগ  সূত্র জানিয়েছে।
যশোর বিদ্যুৎবিভাগ সূত্র জানায়, দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলা নিয়ে ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড গঠিত। এরমধ্যে খুলনা ও বরিশাল বিভাগ রয়েছে। এ জোনে খুলনা ও বাগেরহাটে গত ২০১৫ সাল থেকে প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপনের কাজ শুরু হয়। এ দুটি জেলার ৯৫ ভাগ গ্রাহক প্রি-পেমেন্ট মিটারের আওতায় এসেছে। এরপর সাতক্ষীরায় ৯০ ভাগ গ্রাহকের মাঝে নতুন এ মিটার বসানো হয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ে যশোর ও কুষ্টিয়ায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরপর চতুর্থ পর্যায়ে এ জোনের আওতায় মাগুরা, নড়াইল, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা জেলা ডিজিটাল পদ্ধতির নতুন এ মিটার বসানোর কাজ শুরু হবে। সাত জেলার দুই লক্ষাধিক বিদ্যুৎ গ্রাহক এ প্রকল্পের আওতায় আসছে। যা নিয়ে ব্যস্থ সময় পার করছেন ওজোপাডিকো যশোর সার্কেলের কর্মকর্তারা।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft