বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র
সংঘর্ষে তিন কিশোর নিহত
দেওয়ান মোর্শেদ আলম
Published : Friday, 14 August, 2020 at 1:49 AM
সংঘর্ষে তিন কিশোর নিহতযশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বন্দী শিশুদের দু’গ্রুপের আধিপত্য দ্বন্দ্বে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো অন্তত ৬ জন। ১৩ আগস্ট দুপুরে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের অভ্যন্তরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হচ্ছে, বগুড়ার শিবগঞ্জের তালিবপুর পূর্ব পাড়ার নান্নু পরামানিকের ছেলে নাঈম হোসেন (১৭), খুলনার দৌলতপুরের মহেশ্¦রপাশা সেনপাড়ার রোকা মিয়ার ছেলে পারভেজ হাসান রাব্বি (১৮) ও বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মহিপুরের নুরুল ইসলাম নুরুর ছেলে রাসেল হোসেন ওরফে সুজন (১৮)। তাদের রেজিস্ট্রেশন নাম্বার যথাক্রমে ১১৯০৭, ১১৮৫৩ ও ৭৫২৪। এর মধ্যে নাঈম হোসেন ধর্ষণ এবং পারভেজ হত্যা মামলায় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে অন্তরীণ ছিল।
ঘটনায় ওই কেন্দ্রে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিযুক্ত করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ডিসি এসপি সিএসসহ সমাজসেবা অধিদপ্তরের পদস্থরা ঘটনা নিয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছিলেন।
যশোরের পুলেরহাটের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি বন্দী শিশুদের মধ্যে পাভেল গ্রুপ ও রবিউল গ্রুপ নামে দুটি গ্রুপ তৈরি হয়। আর তাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে অতি সম্প্রতি কয়েকদফা মারপিট ও হামলার ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে ১৩ আগস্ট দুপুরে আবারো হামলা এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিন বিকেলে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের অভ্যন্তরের অনাকাঙ্খিত সংঘর্ষের ঘটনায় ৩ জন গুরুতর আহত হয়। যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে ডাক্তার তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই হামলার ঘটনায় আরো অন্তত বন্দী ৬ শিশু আহত হয়েছে বলেও তথ্য মিলেছে। আহতদের মধ্যে আরমান, মোস্তফা ও লিমন খানসহ ৪ বন্দীর চিকিৎসাধীন অবস্থার ছবি পাওয়া গেছে।
হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করা চিকিৎসক অমিয় দাস জানান, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের একটা গাড়িতে ওই কিশোরদেরকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাদেরকে মৃত অবস্থায় পান চিকিৎসকরা। তাদের গায়ে আঘাতের অনেকগুলো চিহ্ন রয়েছে। ৬ টা ৩৮ মিনিটে নাঈমকে, ৭ টা৩০ মিনিটে পারভেজকে এবং ৭ টা ৫৯ মিনিটে রাসেলকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এদিকে, অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনা ঘটার পর গোপন করার চেষ্টা করেন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি নিয়ে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লুকোচুরি খেলে ঘটনার অনেক পরে হাসপাতালের স্মরণাপন্ন হন তারা। ওই মারামারিতে লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র এবং লাঠি সোটা ব্যবহার করা হয়েছে। ঈদের পরের দিন উন্নয়ন কেন্দ্রের গার্ড নুর ইসলামের সাথে গোলযোগও হয় বন্দীদের একটি অংশের। এছাড়া উন্নয়ন কেন্দ্রে কয়েকজন অফিসারের উপরেও ক্ষিপ্ত ছিল একটি গ্রুপ। তবে আসলেই কি কারণে ওই গোলযোগ ও হত্যাকান্ড এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসন কিংবা সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে পরিস্কার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাত ১০ টায় যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান, এসপি মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন, সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহিন, সমাজসেবা অধিদপ্তর যশোরের উপ পরিচালক অসিত কুমারসহ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও সমাজ সেবার অনেক পদস্থ কর্মকর্তা ঘটনার ব্যাপারে খোঁজ খবর নিচ্ছিলেন। তবে তাদের পক্ষে রাতে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া উন্নয়ন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতেও দেয়া হয়নি।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডিএসবি তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩ জন নিহত হয়েছে। আহতের ঘটনাও ঘটেছে। এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে কি কারণে ওই ঘটনা বা কারা জড়িত। এসব ব্যাপারে জোরালো তদন্ত চলছে।
যশোরের ডিএসবি ডিআই ওয়ান এম মশিউর রহমান জানিয়েছেন, ১৩ আগস্ট বিকেলে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের অভ্যন্তরে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। এতে ৩ জন নিহত হয়েছে। শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্মকর্তারা সন্ধ্যার পরে লাশ হাসপাতাল মর্গে নিয়ে আসেন। এর পর ঘটনা জানাজানি হয়। তবে কি কারণে ঘটনা ঘটেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।  
শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রবেশন অফিসার প্রশিক্ষক মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগে কেন্দ্রে শিশুদের দু’গ্রুপের মধ্যে মারামারিতে বেশ কয়েকজন আহত হয়। ওই ঘটনার জেরে ১৩ আগস্ট আবার সংঘর্ষ হয় বলে তিনি জানতে পেরেছেন। বাকিটা তদন্ত না হলে বলা যাবেনা। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft