শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
সম্পাদকীয়
অনিশ্চয়তায় প্রবাসফেরত কর্মীরা
Published : Tuesday, 25 August, 2020 at 2:37 AM
অনিশ্চয়তায় প্রবাসফেরত কর্মীরা  প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের হিসাবে কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে গত ৪ মাসেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৮০ হাজার প্রবাসী ফিরে এসেছেন অথবা তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে এপ্রিলের আগে যারা ছুটিতে দেশে এসে আটকা পড়েছেন, তাদের সংখ্যা ধরলে এই সংখ্যা পৌনে ৩ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর আগে যখন ফ্লাইট চালু ছিল, তখন ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত দুই লাখের বেশি শ্রমিক দেশে ছুটিতে এসেছিলেন, যারা এখনও যেতে পারেননি। এরপর যখন ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেল তখন গত চার মাসে ভাড়া করা ফ্লাইটে দেশে এসেছেন প্রায় ২৫ হাজার কর্মী।   
আমাদের প্রতি মাসে গড়ে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ হাজার লোক বিদেশে যেত। সেই হিসাবে করোনার কারণে যদি বলি, তাহলে আমাদের মার্চ থেকে জুলাই- এই পাঁচ মাসে প্রায় আড়াই লাখ কর্মী বিদেশ যেতে পারেননি। অন্তত লাখখানেক কর্মীর ভিসা, পাসপোর্ট সব কিছু থাকার পরও তারা করোনাভাইরাসের কারণে বিদেশে যেতে পারেননি। ঢাকার প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ এপ্রিল থেকে ২২ অগাস্ট পর্যন্ত ২৩টি দেশ থেকে ৭৮ হাজার ৪৩ জন কর্মী বাংলাদেশে ফিরেছেন, যাদের মধ্যে ৭৩ হাজার ৩১১ জন পুরুষ এবং ৪ হাজার ৭৩২ জন নারী। গত চার মাসে সবচেয়ে বেশি কর্মী ফিরেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। সেখানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ না থাকার কথা বলে ২৫ হাজার ৬৫৩ জন বাংলাদেশিকে ‘ছুটিতে’ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সৌদি আরবে অবৈধ হয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করে আউটপাস নিয়ে দেশে এসেছেন ১৫ হাজার ৩৮৯ জন, যাদের মধ্যে নারী কর্মী রয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন। এছাড়া ওমান থেকে ৩ হাজার ৮৮৪ জন, বাহরাইন থেকে ৭৪৬ জন কর্মী আউটপাস নিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। পর্যটননির্ভর দেশ মালদ্বীপে মহামারীর মধ্যে কর্মহীন হয়ে পড়েন বিদেশি কর্মীদের অনেকেই। সেখান থেকে ৭ হাজার ৯০৯ জন বাংলাদেশি কর্মীকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাজের চুক্তি শেষ হওয়ার পর মেয়াদ না বাড়িয়ে সিঙ্গপুর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে ১ হাজার ৩৮২ জনকে। অন্যদিকে কুয়েতে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় অবৈধ হয়ে পড়া ৭ হাজার ৩২৯ জন বাংলাদেশি কর্মী সাধারণ ক্ষমার আওতায় দেশে ফিরে এসেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা, কাতার, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও ইরাকে কাজ নেই বলে এই ছয় দেশ থেকে ফেরত এসেছেন ১১ হাজার ১৩৩ জন কর্মী। কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চুক্তি নবায়ন না করায় শ্রীলঙ্কা ও মরিসাস থেকে ফিরেছেন ১১৬ জন। একই কারণে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে অন্তত ১০০ জন, জর্ডান থেকে ১ হাজার ২৬ জন, ভিয়েতনাম থেকে ১২২ জন দেশে ফিরে এসেছেন। আর ৬ জুলাই বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়া ১৫১ জন কর্মীকে নামতে না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির খবর আসার পর। এছাড়াও রাশিয়া, তুরস্ক, লেবানন, নেপাল, হংকং ও জাপান থেকে ৩ হাজার ১০৩ জন কর্মী দেশে ফিরে এসেছেন বলে ঢাকার প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক থেকে জানানো হয়েছে।
অভিবাসন নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে এসে আটকা পড়া এই কর্মীদের যাতে আবার ফেরত পাঠানো যায়, সেজন্য কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি দেশের মানুষকে সরকার যেভাবে মানবিক সহায়তা দিচ্ছে, প্রবাসফেরত বাংলাদেশিদেরও তার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft