শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
সম্পাদকীয়
নারায়ণগঞ্জে ঘরে ঘরে কান্নার রোল
Published : Sunday, 6 September, 2020 at 2:50 AM
নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা বাইতুল সালাত জামে মসজিদের তিতাস গ্যাসের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ও আহতরা সবাই তল্লা চামারবাড়ি বাইতুল সালাহ জামে মসজিদের আশেপাশের বাসিন্দা। আহত ও নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে পুরো তল্লা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসছে। ঘরে ঘরে বইছে শোকের মাতম আর কান্নার রোল। কে কাকে সান্ত¡না দেবেন সেই ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। স্বাধীনতার পর এক সঙ্গে এতো মানুষের মৃত্যু ও আহত ঘটনা এই প্রথম দেখলো তল্লাবাসী। বিস্ফোরণে আহত ও নিহতের মধ্যে বেশিরভাগই পরিবারের উপাজনক্ষম ব্যক্তি-গার্মেন্ট কর্মী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অনেক পরিবার বাকরুদ্ধ। যারা আহত হয়ে বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন তাদের অনেকের পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য নেই এই চিকিৎসার ব্যয় ভার বহন করার।   
বাইতুল সালাহ জামে মসজিদ থেকে প্রায় ৫শ গজ দুরে তল্লা খামারবাড়ি এলাকায় একটি টিনসেড রুম নিয়ে ভাড়া থাকেন ডেকোরেটর কর্মচারী স্বপন মিয়া। তিন ছেলে মেয়ের মধ্যে মেজ সিফাত। এবার এসএসসি পাস করেছে। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে একটি গার্মেন্টস কারখানায় কাজ নিয়ে টাকা জোগাড় করছিলেন এইচএসসিতে ভর্তি হওয়ার জন্য। শুক্রবার রাতে মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে বিস্ফোরণে ঝলসে যায় তার পুরো শরীর। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই নাজুক যে ছেলেকে ঢাকা মেডিক্যালে গিয়ে দেখাবে সেই পরিবহন ভাড়াটুকু পর্যন্ত নেই। তাই ঘরে বসেই দোয়া করছেন আর বিলাপ করে কাঁদছেন মা। আর বলছেন হাতে মাত্র ৫০ টাকা আছে। ঘরে চাল নেই যে এক বেলা রান্না করে খাবেন। তিনি বলেন, ছেলেটার কি অবস্থা, টাকার জন্য দেখতে যেতে পারছি না। বিস্ফোরণের আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছে সাত বছরের শিশু জোবায়ের। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তার বাবা জুলহাস মিয়া। শুক্রবার রাতে এশার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় মা রহিমা বেগম জোর করেই ছেলেকে বাবার সঙ্গে মসজিদে পাঠান। জোবায়ের শহরের তল্লা জেমস ক্লাব এলাকায় সবুজবাগ মডেল একাডেমির নার্সারির ছাত্র। মা ও বাবা দুইজনেই গার্মেন্টসে কাজ করায় সে গ্রামে বাড়ি বরিশাল সদর থানার রাঙ্গাবালিতে নানা-নানির কাছে ছিল। কিছু দিন আগে এসে স্কুলে ভর্তি হয়। এমনটাই বলছিলেন জোবায়েরের খালা তানজিলা বেগম। বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
এমন কান্না এখন ঐ এলাকার ঘরে ঘরে। আমরা চাই, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যথাযথ ক্ষতিপূরণ পাক। সেই সাথে যাদের অসতর্কতায়-অবহেলায় এতগুলো প্রাণ চলে গেলো, তারা যথাযথ শান্তির আওতায় আসুক।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft