মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
এক রাতেই বাড়লো কেজিতে ৩০ টাকা!
যশোরে ‘পিঁয়াজবাজি’ চলবে না
এম. আইউব
Published : Tuesday, 15 September, 2020 at 11:50 PM
যশোরে ‘পিঁয়াজবাজি’ চলবে নাআবারও সেই সেপ্টেম্বর। পিঁয়াজের ঝাঁঝ বাড়তে শুরু করেছে। বাড়তে শুরু করেছে বললে ভুল হবে, ইতিমধ্যে বেড়েই গেছে। ভারত পিঁয়াজ রপ্তানি করবে না-সোমবার রাতে এ খবর প্রকাশ্যে আসার সাথে সাথে যশোরের বাজারে পিঁয়াজের দাম কেজিতে বাড়ানো হয়েছে ৩০ টাকা! যে কারণে প্রশাসনে রীতিমতো ব্যস্ততা বেড়েছে। মঙ্গলবার জরুরি সভা করেছে জেলা প্রশাসন।
সেই সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ীদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘পিঁয়াজবাজি’ কোনোভাবেই সহ্য করবে না যশোরের প্রশাসন। বাজার স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রতিনিয়ত মনিটরিং করা হবে। একইসাথে দাম বৃদ্ধির কারসাজির সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গত বছর এই সেপ্টেম্বর মাসে ভারত বাংলাদেশে পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছিল। যে কারণে আড়াইশ’ টাকা দামে পিঁয়াজ বিক্রি হয়ে প্রথমবারের মতো রেকর্ড সৃষ্টি হয় বাংলাদেশে।
সোমবার পর্যন্ত যশোরের বিভিন্ন বাজারে পিঁয়াজ সর্বোচ্চ ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। তবে, বেশিরভাগ দোকানে দাম ছিল ৬০ টাকা। একদিন পরেই মঙ্গলবার থেকে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। কোথাও কোথাও ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন। ভারতের একটি ঘোষণার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক  ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের বক্তব্য, সোমবার রাতে যে পিঁয়াজ ৬০ টাকায় বিক্রি হলো, সেই একই পিঁয়াজের দাম কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কেজিতে ২০-৩০ টাকা বাড়ল কীভাবে? এই প্রশ্নের যৌক্তিক জবাব যশোরের ব্যবসায়ীদের কাছে নেই। জেলা প্রশাসনের সভায় তেমনটি দেখা গেছে।
যশোরে হঠাৎ করে ৪০ টাকার পিঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি শুরু হয়। সোমবার পর্যন্ত এ দাম ছিল। মঙ্গলবার থেকে পিঁয়াজের দামে রীতিমতো হৈচৈ পড়ে গেছে। অবস্থা সামাল দিতে জেলা প্রশাসন কয়েক ঘণ্টার নোটিশে জরুরি সভা ডাকে। সেখানে যশোরের বড় ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের ডাকা হয়। ১৪-১৫ জন ব্যবসায়ী হাজির হন। তাদের বক্তব্য, মোকামে দাম বেড়েছে বলে তারা বেশি দামে বিক্রি করছেন। কিন্তু মোকাম থেকে পিঁয়াজ যশোরের বাজারে আসার আগেই কেন দাম বাড়ল-এ প্রশ্নে লাজবাব ব্যবসায়ীরা।
পিঁয়াজের লাগাম টানতে যশোর-খুলনা-সাতক্ষীরা পরিদর্শন করছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মনির হোসেন হাওলাদার। তিনি জানিয়েছেন, পিঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সকল জেলা প্রশাসককে পত্র দেওয়া হয়েছে। দেশে পর্যাপ্ত পিঁয়াজ মজুত রয়েছে। ভারত পিঁয়াজ না দিলেও বাংলাদেশের কোনো সমস্যা নেই। ইতিমধ্যে অন্যান্য দেশের সাথে কথা হয়েছে। পিঁয়াজের প্রথম চালান বাংলাদেশে আসতে ২২ থেকে ২৫ দিন লাগবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এই সময় পর্যন্ত জোরালো মনিটরিং করার কথা বলেন উপসচিব। তিনি জানান, বাংলাদেশে পাঁচটি জেলায় পিঁয়াজের উৎপাদন বেশি। এসব জেলার ডিসির কাছে ডিওলেটার পাঠানো হয়েছে। সেখানে কার কাছে কী পরিমাণ পিঁয়াজ মজুত রয়েছে সেটিও খোঁজ নিতে বলেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এদিকে, যশোরে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত কী পরিমাণ পিঁয়াজ ছিল সে বিষয়ে ব্যবসায়ীরা কিছুই জানাননি। তাদের কথায় মনে হচ্ছে যশোরে একটি পিঁয়াজও নেই! অথচ জেলা বাজার কর্মকর্তা ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক যশোরের আড়তগুলোতে এখনো পিঁয়াজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন। গ্রামের কাগজের অনুসন্ধানেও তেমনটি মনে হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিব জানিয়েছেন, মঙ্গলবার মণিরামপুরে ৯০ টাকা কেজি দরে পিঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। কারা এই দামে পিঁয়াজ বিক্রি করেছেন তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পিঁয়াজের দাম বৃদ্ধিতে ক্রেতারাও দায়ী। কারণ যাদের এক কেজির প্রয়োজন তারা পাঁচ কেজি কিনছেন। অনেকেই পুরো মাসের পিঁয়াজ একসাথে কিনে রাখছেন। আর এই সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছেন বিক্রেতারা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ইতিমধ্যে বেনাপোল এবং ভোমরা স্থলবন্দরে ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় করেছেন।
যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেছেন, পিঁয়াজের কোনো সংকট নেই। কেউ অযথা বেশি দাম নিলে প্রশাসন হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হবে। কোনো ব্যবসায়ীর কাছে কেনা রশিদ না থাকলে এবং বিক্রি মূল্য টাঙানো না হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একইসাথে ক্রেতাদেরও সচেতন হতে হবে। তাদের একসাথে বেশি পিঁয়াজ না কেনার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। আড়তদারি করলেই ধরা হবে। তবে, সৎ ব্যবসায়ীদের আতঙ্কিত না হতে বলেন জেলা প্রশাসক। মতবিনিময় সভায় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  






আরও খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft