রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
জোর করে ডিভোর্স, সন্তান নষ্ট
বসুন্দিয়ায় গৃহবধূকে আটকে নির্যাতন
অভিজিৎ ব্যানার্জী :
Published : Thursday, 24 September, 2020 at 1:08 AM
বসুন্দিয়ায় গৃহবধূকে আটকে নির্যাতনযশোরের বসুন্দিয়ায় এক গৃহবধূকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গর্ভের সন্তান নষ্ট করা হয়েছে। এমনকি অস্ত্রের মুখে এক স্বামীর কাছ থেকে তালাক করিয়ে মামা সম্পর্কীয় একজনের সাথে বিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দত্তক মাসহ দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বাঘারপাড়ার অফিসার ইনচার্জও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি দ্রুত তাকে উদ্ধারে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন। সরেজমিনেও এর সত্যতা মিলেছে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেতে আকুতি জানিয়েছেন।
মামলা সূত্রে ও সরেজমিনে তথ্য মিলেছে, বসুন্দিয়ার কাঠ ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের ভাড়াটিয়া দত্তক নেয়া দম্পতি হাবিবুল্লা ও হামিদা খাতুনের মেয়ে উষা খাতুন ভালবেসে বিয়ে করেন বাঘারপাড়ার ষাটখালি গ্রামের মুনসুর মোড়লের ছেলে জাকারিয়া হোসেনকে। ২০১৯ সালের ৭ আগস্ট বিয়ে করে তারা সংসার করতে থাকেন। এক পর্যায়ে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে গত ৮ জুলাই উষা খাতুনকে বাড়ি নিয়ে আটকে রাখেন দত্তক মা হামিদা খাতুন। এরপর থেকে তাকে আটকে রাখা হচ্ছে ঘরে দরজা বন্ধ করে। জাকিরের পক্ষে উষার গর্ভে থাকা সন্তান নষ্ট করে দেয়া হয় উষার ইচ্ছার বিরুদ্ধে। ঘরে বন্দী থাকা উষা খাতুন নিরুপায় হয়ে এসএমএস-এর মাধ্যমে বিষয়টি পরিচিতদের অবগত করেন। এখানেই শেষ নয়, মামা সম্পর্কীয় বিপুল তার গলাই ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে জাকিরকে তালাক করিয়েছে। এমনকি উষা মামা সম্পর্কীয় সুমন নামে অপর এক যুবকের সাথে তার বিয়ে দিয়েছে। এই সুমন বাঘারপাড়ার আলাদিপুরের ওলিয়ার রহমানের ছেলে। উষার উপর ঘটে যাওয়া করুন চিত্র এসএমএস-এর মাধ্যমে বাইরে আসলে খোঁজখবর নেয়া শুরু করেন গ্রামের কাগজের এই প্রতিবেদক।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর বসুন্দিয়ায় খোঁজ-খবর নিতে গেলে দেখা যায় হামিদা খাতুন ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন। তিনি কাঠ ব্যবসায়ীর বাড়ি ছেড়ে এলাকার বাঁচতে শেখা ভবনে বাসা ভাড়া নিয়ে  মেয়েকে আটকে রেখেছেন। স্থানীয় কয়েকজন গন্যমান্য ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হয় ভূক্তভোগী উষার সাথে।  আমরা সাংবাদিক বলে পচিয়য় দিলে উষা কান্না বিজড়িত কণ্ঠে তার উপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বর্ননা দেন।
তিনি জানান, হামিদা খাতুন তার আসল মা নন। তিনি তাকে দত্তক নিয়ে মানুষ করেছেন সত্য, তবে এখন নিজের স্বার্থে তার উপর নির্যাতন করছেন। তাকে ঘরে আটকে রেখে অস্ত্র ঠেকিয়ে ডিভোর্স করিয়েছেন। জোর করে বিয়ে দিয়েছেন মামা সম্পর্কীয় যুবকের সাথে। তিনি তাকে উদ্ধারের জন্যও জোর আকুতি জানান। তার উপর নির্যাতন চলছে প্রতিনিয়তই। তিনি জানান, তাকে এখান থেকে উদ্ধার না করলে তিনি আত্মহত্যা করবেন।
এদিকে যার সাথে জোর করে বিয়ে দেয়া হয়েছে সেই সুমন প্রথমে নিজেকে উষার মামা বলে পরিচয় দেন। পরে সাংবাদিক জেনে পালিয়ে যান।
এ ব্যাপারে দত্তক মা হামিদা খাতুন জানিয়েছেন, তিনি উষাকে নির্যাতন করেননি। সে আমার মেয়ে। আপন মেয়ে কিনা জানতে চাইলে আমতা আমতা করে জানান পালিত মেয়ে। কিন্তু সন্তান নষ্ট করার ঘটনায় তিনি জড়িত নন। আগের জামাই জাকির মেয়েকে খাওয়া পরা দিতনা।  মারপিট করায় ছাড়িয়ে নিয়ে নতুন করে বিয়ে দিয়েছি এলাকার মালেক কাজীর মাধ্যমে। এছাড়া উচ্চ স্বরে জানান “মেয়েকে নির্যাতন করি বা ভালবাসি এটা আমার ব্যাপার, তাতে অন্যের কি”। এরপর তিনি তার পরিচিত বিভিন্ন মহলে ফোন করে লোক ডেকে আনেন। ওই সময় তার লোকজন মোটরসাইকেলযোগে এসে এ প্রতিবেদকের সামনে এসে হম্বিতম্বি করে। এমনকি রাজনৈতিক মহলে নাম ভাঙান।
এদিকে ওই মোটরসাইকেল আরোহীদের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তারা হামিদা খাতুনের দালাল বলে পরিচিত।
এ ব্যাপারে বাঘারপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ আল মামুন জানিয়েছেন, হামিদা খাতুন উষার আপন মা নন। অভিযোগ ও আদালতে মামলা সূত্রে হামিদা খাতুনকে নিয়ে থানায় বসা হয়েছিল। যেহেতু মেয়ে ভালবেসে জাকিরকে বিয়ে করেছে তাই মেনে নিয়ে আত্মীয়তা করবেন বলে জানান হামিদা। এরপর মেয়েকে নিয়ে তিনি চলে যান। কিন্তু পরে জানতে পেরেছেন হামিদার চরিত্র  চরিত্র খারাপ। নিজের স্বার্থে মেয়েকে আটকে রেখেছে। অন্যায়ভাবে নতুন করে বিয়ে দিয়েছে। এখন মেয়ে দত্তক মায়ের বন্দীদশা থেকে বাঁচতে চাইছে। তার কাছে এসব বিষয়ে অভিযোগ এসেছে। তিনি ওই মেয়েকে উদ্ধারের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft