শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০
অর্থকড়ি
১০ ডলারে ইলিশ যাচ্ছে ভারতে, স্থানীয় বাজারে দাম বৃদ্ধি
নিয়ন্ত্রণ করছেন বাগআঁচড়ার কুদ্দুস
এম. আইউব :
Published : Thursday, 24 September, 2020 at 1:26 AM
১০ ডলারে ইলিশ যাচ্ছে ভারতে, স্থানীয় বাজারে দাম বৃদ্ধিভারতে ইলিশ মাছ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করছেন যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়ার কুদ্দুস আলী বিশ্বাস নামে এক ব্যবসায়ী। প্রতি কেজি ইলিশ মাছ ১০ ডলারে রপ্তানি করা হচ্ছে। বাংলাদেশের নয়জন ব্যবসায়ী এ বছর ইলিশ রপ্তানির এই অনুমতি পেয়েছেন। এদের মধ্যে সাতজনের ডিও কিনে নিয়েছেন বাগআঁচড়ার মাছ ব্যবসায়ী কুদ্দুস আলী বিশ্বাস। রপ্তানিকারকরা ইতিমধ্যে অর্ধেক পরিমাণ মাছ পাঠিয়েছেন। আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে সমুদয় ইলিশ পাঠাতে হবে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যশোরের অন্যতম প্রধান মাছ ব্যবসায়ী বাগআঁচড়ার কুদ্দুস আলী বিশ্বাস। তিনি কেবল যশোর না, সারাদেশের বড় বড় মাছ ব্যবসায়ীদের অন্যতম। এই ব্যবসায়ী ‘মাছ কুদ্দুস’ বলে বেশি পরিচিত। এ বছর ভারতে প্রতি কেজি ইলিশ মাছ ১০ ডলারে বিক্রির চুক্তি হয়েছে।  মোট সাড়ে ১৪শ’ মেট্রিকটন ইলিশ মাছ যাবে ভারতে। এর মধ্যে কুদ্দুস আলী বিশ্বাস তার নিজের নামে একশ’ ৭৫ মেট্রিকটন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পেয়েছেন। এভাবে বাকি আটজন রপ্তানিকারককে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
রপ্তানিকারকদের একটি সূত্র জানিয়েছে, নয়জনের মধ্যে না কি সাতজনের অনুমতিপত্র কিনে নিয়েছেন কুদ্দুস আলী বিশ্বাস। তিনি একাই আট রপ্তানিকারকের নামে বরাদ্দকৃত ইলিশ মাছ রপ্তানি করছেন। সূত্র জানিয়েছে, সর্বনিম্ন আটশ’ গ্রাম থেকে দু’ কেজি ওজনের ইলিশ মাছ রপ্তানি করা হবে বলে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সাথে চুক্তি হয়েছে এদেশের রপ্তানিকারকদের। রপ্তানিকারকের তালিকায় পাবনার সেভেন স্টার কোম্পানিও রয়েছে। ১০ ডলার অর্থ্যাৎ কমপক্ষে আটশ’ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে ইলিশ মাছ। আর দেশ থেকে এই মাছ কেনা হচ্ছে তিনশ’ টাকার মধ্যে।
রপ্তানির মাধ্যমে কেবল দেশের মানুষকে ইলিশ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে না। জেলেদের ঠকিয়ে  লাভবান হচ্ছেন রপ্তানিকারকরা। কেবল লাভবান হচ্ছেন বললে ভুল হবে প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছেন তারা। সাগর থেকে ইলিশ মাছ ধরার সাথে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন রপ্তানিকারকরা অপেক্ষাকৃত ছোট মাছ নিচ্ছেন। বড় মাছ নেওয়ার পরিমাণ খুবই কম। যেটুকু না নিলেই নয় সেটুকু নিচ্ছেন তারা।
ভারতে ইলিশ মাছ রপ্তানি করায় দেশের বিভিন্ন বাজারে প্রভাব পড়েছে। প্রভাব পড়েছে যশোরের বাজারেও। কিছুদিন দাম কম থাকলেও বর্তমানে ইলিশের দাম অনেক বেশি। খুচরা বিক্রেতারাও দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে রপ্তানিকে দুষছেন। এ পর্যন্ত কী পরিমাণ ইলিশ ভারতে গেছে তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান জানা যায়নি। তবে, অর্ধেক পরিমাণ গেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, ইলিশ রপ্তানি করা নিয়ে লুকোচুরি করছেন বাগআঁচড়ার কুদ্দুস আলী বিশ্বাস। এ পর্যন্ত তার ১৮ ট্রাক ইলিশ মাছ গেলেও বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি অস্বীকার করেন। বলেন, আজ বৃহস্পতিবার তার প্রথম চালান যাবে। কেবল তাই না, অস্বীকার করেছেন অন্যদের সাথে চুক্তি করে ইলিশ রপ্তানির বিষয়েও।
কুদ্দুস আলী বিশ্বাস বলেন,‘আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) আমার প্রথম চালান যাবে।’ অন্যের নামে বরাদ্দকৃত ইলিশ রপ্তানির বিষয়ে বলেন, একজনের নামের কাগজ দিয়ে আরেকজন রপ্তানি করবে কীভাবে। ভারতে রপ্তানির কারণে স্থানীয় বাজারে দাম বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন,‘এটি সঠিক না।’
ইলিশ রপ্তানির বিষয়টির প্রতি নজর রাখছে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর। রপ্তানিকারকরা কোনোভাবেই যাতে ‘এদিক-ওদিক’ করতে না পারেন। ইতিমধ্যে জেলা বাজার কর্মকর্তা বাগআঁচড়ায় গিয়ে কুদ্দুস আলী বিশ্বাসের হিমাগার পরিদর্শন করেছেন। তার দোতলা হিমাগারে বিপুল পরিমাণ মাছ সংরক্ষণ করা হয় বলে জানিয়েছেন জেলা বাজার কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান। তিনি বলেন, কবে কতটুকু ইলিশ মাছ রপ্তানি করা হচ্ছে তার প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
যশোরের বড় বাজারের তিনজন খুচরা ইলিশ বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভারতে ইলিশ রপ্তানি না হলে সাত-আটশ’ টাকায় এক কেচি ওজনের ইলিশ মাছ পাওয়া যেত। কেবলমাত্র ভারতে মাছ পাঠানোর কারণে কেজিতে তিন-চারশ’ টাকা বেড়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft