বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০
মতামত
‘চোরাই না শোনে ধর্মের কাহিনী’
লেবাসধারী না বোঝে ধর্মের মর্মবাণী
মাহমুদা রিনি
Published : Sunday, 27 September, 2020 at 12:07 AM

লেবাসধারী না বোঝে ধর্মের মর্মবাণী আমরা মানুষেরা কোন অবস্থাতেই বর্তমানে সুখী নই। সবসময়ই আমরা আগামী দিনের সুখের পিছনে দৌড়াই। আগামী দিনে ভাবতে যেয়ে আমরা ভুলে যাই, বর্তমান সময়ের অনুভূতি। বর্তমান দুঃখ বোধ আমাদেরকে তাড়িত করলেও বর্তমান সুখানুভূতি যেন এমনি এসে ভেসে যায়, আমরা তাতে তৃপ্ত হই না।
সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ হয়ে জন্মেছি, চারপাশের পরিবেশ বা সামর্থ্য অনুযায়ী সুশৃঙ্খল ভাবে জীবন যাপন করলে একটা ভালো সময় পার করতেই পারি। যার যেটুকু আছে সেটুকুতে খুশি থেকে আর বর্তমানকে নিয়ন্ত্রণ করে যদি সঠিক নিয়মের মধ্যে চলতে পারি তাহলে পরকালেও নিশ্চয়ই খুব খারাপ হওয়ার কথা নয়!
তাহলে আমরা সেই বর্তমানকে অবহেলা করে আগামী জীবন ও মরণের পরে, যা আমাদের হাতে নেই, সেই ভবিষ্যৎ চিন্তায় জীবনটাকে দুর্বিষহ করে তোলার কি মানে তা এই অধমের মাথায় ঢোকে না।
কথা গুলো বলা এই জন্যই যে কয়েক দিন ধরে ফেসবুক ভিডিওতে একটা চিত্র দেখছি। একজন মাদ্রাসা শিক্ষক একটা বাচ্চা বয়সী ছাত্রকে চার হাত-পা একসাথে বেধে লাঠি দিয়ে এমনভাবে মারছেন যা কল্পনা করলেও আত্মা শিউরে ওঠে। একটা ঘরে আরো দশ বারো জন ছাত্র ঢুলে ঢুলে কিছু পড়ছে বোঝা যাচ্ছে, কিন্তু চোখের সামনে এমন মার দেখেও তাকাচ্ছে না। মনে হলো তাকাতে সাহস পাচ্ছে না। এই ছাত্রটিকে মারতে মারতে আধমরা করতে জওয়ান ধুমসো ব্যাটা ঘেমে গেছে। বাকি ছাত্রদের কেউ তাকিয়েছে বা অন্য কিছু, এবার জামা খুলে তাকেও এমনি মারতে আরম্ভ করলো। এমন ঘটনা নতুন নয়, মাদ্রাসা গুলোতে এমন কাণ্ড প্রায়ই ঘটতে দেখা যায়। নৃশংসভাবে মারধোরের শিকার হয় বাচ্চারা। মাঝে মধ্যে মিডিয়ায় আসলেও কোন প্রতিকার হয় কিনা জানা নেই।
যতদূর জানি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের উপর নির্যাতন করা নিষেধ। অথচ এই ধরনের মাদ্রাসা গুলোতে (সব মাদ্রাসা কিনা জানা নেই) শিশুদের উপর শুধু নির্যাতন নয় নৃশংস নির্যাতন করা হয়। এই ধরনের নির্যাতনের ফলে মানসিক ভাবে তারা অনুভূতি হীন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তারাও এই ধরনের অপরাধ করতে পিছপা হয় না। তাদেরকে দিয়ে বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করানো হয়। গ্রামাঞ্চলে আবাসিক মাদ্রাসা থেকে এক এক বেলা খাবারের জন্য গ্রামের একেক বাড়ি যেতে হয়। যা একটা বোধ সম্পন্ন শিশুর জন্য যথেষ্ট অসম্মানজনক। মাদ্রাসা গুলোতে ভর্তি হতে আসে সাধারণত প্রত্যন্ত অঞ্চল বা দরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা। এখানে আসার পর তাদের আর শৈশব কৈশোর বলে কিছু থাকে না। পড়া যতটুকু তার চেয়ে বহুগুণ বাড়িয়ে শাসন, অত্যাচার এবং নিগৃহীত এক জীবনে বেড়ে ওটা। ওরা সাধারণ শিশুদের মত খেলাধুলা করতে পারে না, সাধারণ পোশাক পরতে পারে না। খাবারের পছন্দ অপছন্দ থাকে না মোটকথা একটি শিশুর শারীরিক মানসিক বিকাশের জন্য যা কিছু প্রয়োজন তার কোনটাই ওরা পায় না। বাবা মায়েরাও অভাবগ্রস্থ নিরুপায় অথবা বুঝতেই পারে না তার ছোট সন্তানটার উপর দিয়ে কি দুর্বিষহ সময় পার হয়ে যায়! তারা এই জীবনের অসহায়ত্ব, অভাব ঘুঁচিয়ে নিতে চায় পরজীবনে। ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে আলেম হলে পরকালে অনাবিল সুখ শান্তির ব্যবস্থা পাকাপোক্ত ভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়। এই ভাবনা তাদের মাথায় এতটাই স্থায়ী যে তারা সন্তানের কষ্টের কথাই ভুলে যায়।
এভাবেই দিনের পর দিন কেটে যায়, দেশের উন্নয়ন হয়, সমাজের আধুনিকায়ন হয়, মাদ্রাসার শিশুদের জীবনচরিত একই রকম থেকে যায়। হ্যা তারা হয়তো বড় হয়, নাগরিক জীবনে মিশেও যায়,আবার নতুন শিশু আসে সেই একই যাঁতাকলে পিষ্ট হতে। এরা যদি বড় হয়ে কট্টর, উগ্র বা গোঁড়া আচরণ করে পরিবারের সাথে, সমাজের সাথে  তখন এদের উপর দোষারোপ করা হয়। এখান এ লেখা পড়া শিখে যদি  বড় হয়ও ভিতরের হীনমন্যতা দূর হবে না। পেশাগত জীবনে যদি আবার কোন মাদ্রাসার শিক্ষক হয় নিজের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ঘটাবে বারবার এবং তেমনটা হওয়াই স্বাভাবিক।  কিন্তু আজ পর্যন্ত এই ব্যবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। এদের পাঠ্যসূচি নিয়ে আমার কোন কথা নেই। যে বিষয়ই পড়ুক না কেন শিশুদের মানসিক বিকাশ,  মানবাধিকার রক্ষা, তাদের সাথে শিশু সূলভ আচরণ এবং মানবিক মূল্য বোধের সাথে বেড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরির দাবি হোক সকল সচেতন নাগরিকের।
# লেখক: নারী নেত্রী




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft