বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০
অর্থকড়ি
চৌগাছায় কৃষি বিভাগ ও সার ডিলাররা মুখোমুখি
ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা চাষিদের
এম. আইউব :
Published : Monday, 12 October, 2020 at 12:10 AM
চৌগাছায় কৃষি বিভাগ ও সার ডিলাররা মুখোমুখিযশোরের চৌগাছায় কৃষি বিভাগ ও বিসিআইসি সার ডিলাররা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন ডিলাররা। আর ডিলারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, ডিলাররা নিয়ম মেনে সার বিক্রি করছেন না। আর বিসিআইসি সার ডিলাররা অভিযোগ করেছেন, কৃষি অফিসার যোগদান করার পর থেকে তাদের সাথে বিমাতাসূলভ আচরণ করছেন। যদিও বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন  চৌগাছা ইউনিটের সভাপতি ইউনুছ আলী কৃষি অফিসার সৎ মানুষ বলে জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, একটি বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে মাত্র।
গত পহেলা অক্টোবর উপজেলার ১৬ জন বিসিআইসি সার ডিলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরাঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালকের কাছে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। সেখানে লেখা হয়েছে,‘উপজেলা কৃষি অফিসার রইচ উদ্দিন ২০১৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর যোগদানের পর থেকে বিসিআইসি সার ডিলারদের সাথে বিমাতাসূলভ আচরণ করে আসছেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, তিনি জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছেন। নিয়মিত কর্মস্থলে থাকেন না। পরিবার নিয়ে ঝিনাইদহ সদরে অবস্থান করেন। তার শ্যালককে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর  চৌগাছার গাড়িচালক করেছেন। তাকে দিয়ে তিনি বিসিআইসি সার ডিলারদের হয়রানি করছেন। তাকে অন্যত্র বদলি করতে হবে।’
অপরদিকে, উপজেলার ২৪ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন ডিলারদের বিরুদ্ধে। তাদের বক্তব্য, ডিলাররা সার বিক্রির কোনো বিধি মানছেন না। অনেক ডিলার কোথায় সার বিক্রি করছেন তার কোনো হিসেব নেই। অনেকেরই গুদাম পর্যন্ত নেই। যা আছে তাতে বরাদ্দকৃত সার পুরোপুরি রাখা যায় না। গত ২০ আগস্ট শয়ন ট্রেডার্স নামে এক বিসিআইসি ডিলার ১৭ মেট্রিকটন ডিএপি সার উত্তোলনের আগমনী বার্তা দিলেও ওই ডিলারের গুদামে গিয়ে কোনো সার দেখা যায়নি। তখন উত্তোলিত সার বাইরে বিক্রি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এরপর উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি এবং সদস্য সচিব শয়ন ট্রেডার্সকে সার বিক্রি বন্ধ করার নির্দেশ দেন। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর বেশি মূল্যে সার বিক্রি করা, মূল্য তালিকা না টাঙানোসহ বিভিন্ন অনিয়ম দেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মেসার্স শয়ন ট্রেডার্সকে ছয় হাজার, মেসার্স রুবেল এন্টারপ্রাইজকে তিন হাজার এবং মেসার্স সেন এন্টারপ্রাইজকে চার হাজার টাকা জরিমানা করেন। এরপর থেকে ডিলাররা কৃষি অফিসারের উপর চটে যায়। তারা তাকে চৌগাছা থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা শুরু করে।
তাপস কুমার ঘোষ নামে একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একজন সৎ মানুষ। তিনি কৃষকের স্বার্থ দেখার কারণে ডিলারদের স্বার্থ বিঘ্নিত হচ্ছে। এ কারণে তারা ক্ষেপেছেন। বর্তমানে ‘জামায়াত’ শব্দটি বড় একটি অস্ত্র। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শায়েস্তা করতে কথায় কথায় ‘জামায়াত’ বানানো হচ্ছে। যেটি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার ক্ষেত্রেও করা হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তা কখনো কাজে ফাঁকি দেন না। বেশিরভাগ দিন সন্ধ্যার পরে তিনি অফিস ত্যাগ করেন। অথচ ডিলাররা বলেছেন তিনি নাকি ঝিনাইদহে থাকেন। যা সঠিক না।  
ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ-ডিকেআইবি চৌগাছা উপজেলা শাখার সভাপতি মোন্তাজ আলী বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে থেকে সার বিক্রি পর্যবেক্ষণ করেন। বেশিরভাগ ডিলারের গুদাম যেভাবে থাকার কথা সেভাবে নেই। আবার অনেকেই মিলগেটে বেশিরভাগ বিক্রি করে দেন। এসব বিষয়ে কথা বললেই ‘রক্ষে’ নেই। তখন ডিলাররা কর্মকর্তাদের নানা ধরনের ত্রুটি খুঁজতে থাকেন। যখন কিছুই পান না তখন তারা ‘জামায়াত’ করেন বলে হাস্যকর অভিযোগ করা হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দিন বলেন, সরকার কৃষকের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে বদ্ধ পরিকর। এ কারণে ভর্তুকি মূল্যে সার দিচ্ছেন। সেই সার যদি কৃষকের কাছে না যায় সেটি দুঃখজনক। যারা সরকারি চাকরি করেন তারা আজ এখানে তো কাল ওখানে থাকবেন এটিই স্বাভাবিক। আমার ক্ষেত্রেও সেটিই হবে। তাই বলে আমাকে চাপ দিয়ে ডিলাররা অনৈতিক সুবিধা নিবেন আর কৃষক বঞ্চিত হবে সেটি গ্রহণযোগ্য না। ডিলাররা ঠিকমতো সার না তুললে বাজারে সংকট তৈরি হবে। তখন ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে সরকারের। এমন অবস্থা তৈরি হলে কৃষি বিভাগ তখন বিকল্প চিন্তা করতে বাধ্য হবে।
বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন চৌগাছা ইউনিটের সভাপতি ইউনুছ আলী রোববার রাতে গ্রামের কাগজকে বলেন,‘উপজেলা কৃষি অফিসার একজন সৎ মানুষ। তিন বছর এক মাস এখানে আছেন। তিন বছর কোনো সমস্যা হয়নি। একমাস ধরে ঝামেলা হচ্ছে। এটি স্রেফ ভুল বোঝাবুঝি। যেহেতু এখানে তার তিন বছর পার হয়েছে, এ কারণে আমরা তাকে বদলি করতে দরখাস্ত করেছি।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরাঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক পার্থ প্রতীম সাহা বলেন,‘ডিলারদের কাছ থেকে একটি দরখাস্ত পেয়েছি। কমবেশি খোঁজ নিয়ে কৃষি অফিসারের তেমন কোনো দোষ পাইনি। তারপরও যশোরের উপপরিচালককে বিষয়টি দেখার জন্যে বলেছি।’




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft