বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
মণিরামপুরে ডিসলাইনের দু’কর্মচারীকে কুপিয়ে হত্যা
উজ্জ্বল রায় ও রবিউল খান :
Published : Thursday, 15 October, 2020 at 9:15 PM
মণিরামপুরে ডিসলাইনের দু’কর্মচারীকে কুপিয়ে হত্যাযশোরের মণিরামপুরে ডিসলাইনের দু’কর্মচারী খুন হয়েছেন। উপজেলার ঢাকুরিয়ার একটি ইটের ভাটার পাশে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাদেরকে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহতরা হলেন সদর উপজেলার জয়ন্তা গ্রামের নিকমল মোল্লার ছেলে আব্দুল আহাদ মোল্লা (২২) এবং প্রবাসী আক্তার হোসেন গাজীর ছেলে বাদল মাহমুদ (২২)। নিহতরা দু’জন স¤পর্কে প্রতিবেশি চাচাতোভাই।
ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও দু’টি ফোন উদ্ধার হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকান্ড সংঘটিত হতে পারে বলে পুলিশের ধারণা। জড়িতরা দ্রুত শনাক্ত ও আটক হবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সালাউদ্দিন সিকদার।   
এলাকাবাসী এবং যশোর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে কয়েকজন পথচারী ঢাকুরিয়া ও বলরামপুরের মধ্যবর্তী নিউসোনা ব্রিক্সের অদূরে রাস্তার পাশে ক্ষত-বিক্ষত রক্তাক্ত অবস্থায় বাদলকে পড়ে থাকতে দেখেন। অপর যুবক আহাদ রক্তাক্ত জখম অবস্থায় গড়াতে গড়াতে এসে বাঁচার আকুতি জানান স্থানীয়দের কাছে। এসময় স্থানীয়দের চিৎকারে আশপাশ থেকে আরও লোকজন সেখানে ছুটে আসেন। এসময় আহাদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। তাদেরকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে খবর ছড়িয়ে পড়লে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও মণিরামপুর থানার ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
রাত ৯টায় লাশ দু’টি মণিরামপুর থানা পুলিশ উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। নিহত আহাদ ও বাদল রূপদিয়ার একজন ডিস ব্যবসায়ীর অধীনে ডিস ও নেট কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। ডিস বিল আদায় ও সংযোগ দেয়াসহ ওই সংক্রান্ত কাজ করতেন তারা।
ঘটনাস্থলের পাশের বাড়ির বাসিন্দা নাসির বিশ্বাস জানিয়েছেন, সন্ধ্যার কিছু সময় পরে তিনি বাড়ির উঠানে বসেছিলেন। এসময় রক্তাক্ত একজন দৌড়ে এসে বলেন, ‘চাচা বাঁচান’। এই বলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। তখন তারা সবাই চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে নিয়ে ভ্যানে করে হাসপাতালে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে সদর উপজেলার চাউলিয়া গেটে গেলে তার মৃত্যু হয়। পরে লোকজন এগিয়ে গিয়ে দেখেন আরও একজনের লাশ পড়ে আছে।
নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, বাদল কয়েকদিন আগে নতুন মোটরসাইকেল কেনেন। ইন্টারনেট ব্যবসার পাশাপাশি তিনি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যার পরে বাদল ও আহাদ বসুন্দিয়ার জয়ন্তা বাজারে কেরামবোর্ড খেলছিলেন। তখন বাদলের মোবাইলে কল আসলে তারা দু’জন মোটরসাইকেলে করে চলে যান।
স্থানীয়দের ধারণা, মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তাদের ডেকে এনে খুন করে দুর্বৃত্তরা। দ্রুত ঘটনাটি আশপাশের লোকজন টের পাওয়ায় তারা মোটরসাইকেল রাস্তার উপর ফেলে পালিয়ে যেতে পারে। তবে পুলিশের ধারণা পূর্বশত্রুতার কারণে এই নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটানো হতে পারে।
এ ব্যাপারে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন সিকদার গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা এই খুন করেছে। পুলিশ এই নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নেমেছে। দ্রুতই জড়িতরা শনাক্ত ও আটক হবে। এ ব্যাপারে রাত এগারটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেউ আটক হয়নি। এলাকাবাসী ও নিহতদের পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলেছে পুলিশ। কয়েকজন সিনিয়র অফিসারকে এব্যাপারে ইতিমধ্যে দায়িত্বও দেয়া হয়েছে।   





সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft