বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
মণিরামপুরে বিদ্যালয়ের গাছ নিলামে বিক্রিতে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ
মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
Published : Thursday, 15 October, 2020 at 11:57 PM
মণিরামপুরে বিদ্যালয়ের গাছ নিলামে বিক্রিতে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগযশোরের মণিরামপুরের শাহাপুর সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ে গাছ টেন্ডারে ভিত্তিমূল্য নির্ধারণে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বন কর্মকর্তা গাছ পরিমাপে মনগড়া হিসেব দেখিয়ে কয়েক লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে নিলাম বাতিলের দাবি উঠেছে।
উপজেলার শাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাচীর নির্মাণে প্রায় ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। প্রাচীর নির্মাণে বিদ্যালয়ের কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ বছরের ৩৫টি মেহগনি ও ২টি ঝাউগাছ কেটে ফেলার প্রয়োজন পড়ে। এজন্যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আবেদনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি এবং উপজেলা প্রকৌশলী, শিক্ষা কর্মকর্তা ও বন কর্মকর্তাকে সদস্য করে একটি কমিটি গঠিত হয়। উপজেলা বন কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বিদ্যালয়ের গাছের পরিমাপ করে দু’ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে বন কর্মকর্তা ভিত্তিমূল্য নির্ধারণে গাছের মনগড়া পরিমাপ করেছেন।
বৃহস্পতিবার সরেজমিন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সবচেয়ে বড় মেহগনি গাছের বেড় প্রায় ১১২ ইঞ্চি এবং উচ্চতা প্রায় ১২ ফুট। এ পরিমাপ নিয়ে কাঠ (লগ) ব্যবসায়ীর কাছে গেলে তিনি বলেন, এ গাছের বেড় ও উচ্চতা অনুযায়ী প্রায় ৫৫.২৪ সেফটি কাঠ (লগ) রয়েছে। এ গাছের বড় চারটি শাখায় আররও ২০ থেকে ৩০ সেফটি লগ রয়েছে। বন কর্মকর্তার হিসেবে মতে এ গাছটির মূল্য আসে প্রায় ৩৭ হাজার টাকা। আর বাজার মূল্য ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। বিদ্যালয়ে নিলামকৃত ৩৫টি মেহগনি গাছের মধ্যে ৩০ টি গাছের বেড় ৭০ থকে ১০০ ইঞ্চি এবং উচ্চতা ১০ থেকে ১৫ ফুট। বাকি চারটির বেড় ৪০ থেকে ৫০ ইঞ্চি এবং উচ্চতা ১০ থেকে ১৫ ফুট। বাকি দু’টি ঝাউ গাছের বেড়ও ৪০ থেকে ৫০ ইঞ্চি এবং উচ্চতা ৩০ থেকে ৪০ ফুট। এ হিসেবে সব গাছের গড় কাঠ (লগ) এর পরিমাণ ২২ সেফটির বেশি হবে বলে স্থানীয় কাঠ (লগ) ব্যবসায়ীদের ধারণা।
অথচ মনগড়া হিসেব দেখিয়ে ভিত্তি মূল্যে কম দেখিয়ে কয়েক লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। একইভাবে গত ২২ সেপ্টেম্বর উপজেলার ১৬টি বিদ্যালয়ের ৩২টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও ২৪ অক্টোবর রাজগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০২টি মেহগনি গাছের নিলামেও বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভিত্তিমূল্য কম দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা বন কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা তার বিরুদ্ধে আনিত অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিধিমোতাবেক সব গাছের গড় পরিমাপ করে এ ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ৪৫৫.১১ টাকা গাছের গড় সেফটি ধরে দু’ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়। তার হিসেব মতে ৩৭টি গাছের ৬০৪ সেফটি কাঠ (লগ) ধরা হয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft