মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২০
শিক্ষা বার্তা
আট মাস ক্লাস বন্ধ থাকলেও বেতন বন্ধ নেই
যশোরে স্কুলের চাপে দিশেহারা অভিভাবক
এম. আইউব :
Published : Sunday, 18 October, 2020 at 12:11 AM
যশোরে স্কুলের চাপে দিশেহারা অভিভাবকগত ১৮ মার্চ থেকে করোনার কারণে বন্ধ হয়ে যায় সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখনো পর্যন্ত খোলেনি। হচ্ছে না কোনো ক্লাস। চলছে না গাড়িও। তারপরও বেতন মওকুফ হচ্ছে না যশোরের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। কেবল তাই না, করোনায় দিশেহারা অভিভাবকদের ডিসেম্বর পর্যন্ত বেতন প্রদানের জন্যে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। কোনো স্কুল থেকে এককালীন চাওয়া হচ্ছে। আবার কেউ কেউ ভেঙে ভেঙে দিতে বলছে। তাও দিতে হবে। কোনোভাবেই ছাড় নেই। এতদিন কিছু না বলে বছরের একেবারেই শেষে এসে মানুষ যখন দ্রব্যমূল্যের আগুনে পুড়ছে ঠিক সেই সময় তাদের উপর নতুন করে চাপ দেওয়া হচ্ছে বেতন আদায়ে। এ কারণে হাজার হাজার অভিভাবকের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এ ধরনের জবরদস্তি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
করোনার করাল গ্রাসে কর্মহীন হয়ে পড়া বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে সরকার নানাভাবে প্রণোদনা দিয়েছে আর্থিক দুরবস্থার কারণে। এখনো বহু মানুষ স্বাভাবিক অবস্থায় যেতে পারেনি। অসংখ্য লোক কোনোভাবেই বেঁচে আছে। এরমধ্যেই আকাশছোঁয়া দ্রব্যমূল্য মানুষের মধ্যে নাভিশ্বাস তুলেছে। যশোরে আর্থিকভাবে অসহায় হয়ে পড়া মানুষের মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। কোনো রকম ক্লাস কিংবা পরীক্ষা না নিয়েই তারা আট মাসের বেতনসহ অন্যান্য ফি আদায় করছে এক প্রকার গায়ের জোরে। মোবাইল ফোনে এসএমএস দিয়ে এবং ফোন করে চাওয়া হচ্ছে বেতনসহ অন্যান্য খরচাদি। এতে অসচ্ছল ও নিম্ন আয়ের অভিভাবকরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। হয়ে পড়েছেন দিশেহারা। যাদের এখন ঠিকমতো বাজার করা হচ্ছে না, তারা একসাথে এতটাকা দিবেন কীভাবে।
২০২০ সাল শুরু হয় নতুন উদ্যমে। বই বিতরণ, ভর্তি, বার্ষিক খেলাধুলা শেষ করে যখন পড়ালেখার মূল পর্ব শুরু হবে ঠিক সেই সময় সবকিছু থামিয়ে দেয় অদৃশ্য দানব করোনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ১৮ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এখনো পর্যন্ত সেই অবস্থায় রয়েছে। এ সময় পর্যন্ত কোথাও কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়নি। করোনার দুঃসময়ে সরকার অসহায় কর্মহীন মানুষকে প্রণোদনা  দেওয়াসহ নানাভাবে সহযোগিতা করায় যশোরের অনেক অভিভাবক মনে করেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সময় ক্লাস-পরীক্ষা না হওয়ায় বেতনসহ অন্যান্য ফি নিবে না। অথচ অভিভাবকদের বিষয়টি বিবেচনা না করেই বন্ধকালীন সমুদয় টাকা আদায়ে অমানবিকভাবে চাপাচাপি করা হচ্ছে। চাপ সৃষ্টির তালিকায় যশোরের শীর্ষ স্কুলগুলো শীর্ষে রয়েছে। এসব স্কুলের অনেক অভিভাবক গ্রামের কাগজের কাছে তাদের অসহায়ত্বের কথা বলেছেন। কেউ কেউ স্কুলের বেতন আদায় সংক্রান্ত আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বেতন আদায়ের ব্যাপারে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি সামনে আনছেন। যদিও মার্চ থেকে কোনো প্রতিষ্ঠান অনলাইন ক্লাস চালু করেনি। তারা অনলাইন ক্লাস এবং পরীক্ষার কথা বলে সবকিছু জায়েজ করার চেষ্টা করছেন। অথচ অনলাইন ক্লাস এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ একেবারেই হতাশাজনক। কিন্তু তাতে কী! শিক্ষার্থীদের উপকারে আসুক আর না আসুক এগুলো করে বেতন আদায়ের পথতো সুগম হচ্ছে-এ বক্তব্য ক্ষুব্ধ অভিভাবকের।  বহু অভিভাবক বেতন মওকুফের দাবি জানিয়েছেন। একইসাথে তারা এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের সাথে কথা হয়। দাউদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা বলেন,‘আমাদের স্কুল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিচালিত। জুলাই মাস থেকে বেতন দ্বিগুণ করা হয়েছে। এখন নভেম্বর পর্যন্ত চার মাসের বেতন চাওয়া হচ্ছে। যাদের অবস্থা খারাপ তাদের বেতন না দিলেও চলবে।’
কালেক্টরেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোদাচ্ছের হোসেন বলেন,‘আমরা নিয়মের বাইরে যাচ্ছি না। চাপাচাপি করছি না।’
পুলিশ লাইন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনোতোষ মন্ডল বলেন,‘অভিভাবকরা স্বাভাবিকভাবে বেতন দিয়ে যাচ্ছেন। ডিসেম্বরের মধ্যে সমুদয় বেতন শোধ করতে হবে। যারা একবারে দিতে পারবেন না তারা আস্তে আস্তে শোধ করবেন। স্কুলতো আর বন্ধ না। শিক্ষকদের ২৫ শতাংশ স্কুলে আসছেন। অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে। দু’টি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া, এমপিওভুক্ত শিক্ষকের তুলনায় ননএমপিও শিক্ষকদের সংখ্যা বেশি। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন নিয়ে শিক্ষকদের দেওয়া হয়।’
শিক্ষাবোর্ড স্কুল এন্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ কল্যাণ সরকারকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।  ফোন রিসিভ করেননি যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লায়লা শিরিন শারমিনও।
জেলা শিক্ষা অফিসার এএসএম আব্দুল খালেক এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, স্কুল বন্ধ থাকাকালীন বেতন নেওয়ার ব্যাপারে সরকারি কোনো নির্দেশনা নেই।  




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft